বৈশ্বিক সম্ভাবনার নিরিখে রেফ্রিজারেটরের বাজারে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে একটি বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে, যার ফলে রেফ্রিজারেটরের জন্য একটি বিরাট অভ্যন্তরীণ বাজার সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রসারের সাথে সাথে রেফ্রিজারেটরের চাহিদা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক কৌশল এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর শিল্পটি অন্যান্য শিল্পের মধ্যে একটি প্রধান প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে। কথাগুলো বলেছেন, মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো: সামসুদ্দোহা শিমুল। নয়া দিগন্তের প্রতিনিধির সাথে এ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশ্ন : বেশ কয়েকটি কোম্পানি এখন দেশে রেফ্রিজারেটর তৈরি করছে। দেশের রেফ্রিজারেটর শিল্পে বাংলাদেশ কত দূর এগিয়েছে, এই বাজারে বাংলাদেশের বৈশ্বিক সম্ভাবনাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
মো: সামসুদ্দোহা শিমুল : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেফ্রিজারেটর শিল্পে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মিনিস্টারসহ বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিকস কোম্পানি এখন দেশে রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করছে, যা শিল্পের বৃদ্ধি এবং বিকাশকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কারণ। সেগুলো হলো- বর্তমান সরকারের শিল্পবান্ধবনীতি প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর উপস্থিতি।
প্রশ্ন: রেফ্রিজারেটর এবং ইলেকট্রনিক শিল্পের অগ্রগতিতে সরকার কী সহায়তা দিতে পারে?
মো: সামসুদ্দোহা শিমুল : বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব সরকার। শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে বাজারে রেফ্রিজারেটরের চাহিদা বেড়ে গেছে। এখন দেশের প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে ফ্রিজ দেখা যায়। দেশকে শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে আছেন। তবে রেফ্রিজারেটর ও ইলেকট্রনিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিতে পারেন। যেমন :
* গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে
* অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে
* দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে
* নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে
* বাজার প্রণোদনা এবং সহায়তার মাধ্যমে
* আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে
* বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার মাধ্যমে
রেফ্রিজারেটর এবং ইলেকট্রনিক শিল্পকে সরকার কিভাবে সমর্থন করে এগিয়ে নিতে পারে তার প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপের উদাহরণ এটি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং শিল্পের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে এই ব্যবস্থাগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।
গৃহীত নির্দিষ্ট ব্যবস্থাগুলো দেশ, তার অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং শিল্পের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রশ্ন: রেফ্রিজারেটরে এখন যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি। আপনার পণ্য উন্নতকরণে পরিকল্পনা কী?
মো: সামসুদ্দোহা শিমুল : আমাদের একটি দক্ষ টিম রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে রেফ্রিজারেটরকে আরো উন্নত করতে। পরিবেশবান্ধব এবং ৬৬ শতাংশ এনার্জি সেভিং কম্প্রেসার ব্যবহার করার ফলে গ্রাহকগণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা করছে না আমাদের ফ্রিজ একই সাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও করছে। বর্তমানে আমরা আইওটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি খুব শিগগিরই আমরা আরো উন্নতমানের ফ্রিজ বাজারে নিয়ে আসতে পারব।
এ ছাড়াও আমাদের পণ্য উন্নয়নে আমাদের আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সর্বদা বাজারের চাহিদা এবং সম্ভাব্য প্রভাব কেমন হতে পারে তার অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। বাজারে সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করার জন্য খরচ অপ্টিমাইজেশন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিবেচনা করে থাকি। আর তাই আমরা মনে করি এই সব উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের মধ্যে সেরা ব্র্যান্ড হওয়ার পাশাপাশি আমরা দেশের বাইরেও উল্লেখযোগ্য অবস্থান অর্জন করতে পারব।
