প্রতিদিনের মতোই সকাল বেলা দাদুর সাথে নাশতা করতে বসেছে আশিক ও সজীব। আসলেও ওরা দু’টি ভাই দাদুকে খুব খুব ভালোবাসে। সজীব তো কখনোই দাদুর হাতে ছাড়া খায়-ই না। তাই তো ওকে সবসময় আদর করে খাইয়ে দিতে হয় ওর দাদুর। তবে একটু কাঁটাও কখনো গলায় বিধতে দেয় না। আহা! দাদু-নাতিদের এমন সম্পর্ক দেখে ওর দাদী ও বাবা-মাও খুব খুশি।
যাহোক এবার নাশতা পর্ব শেষে দুই ভাইকে স্কুলে এগিয়ে দিতে যাওয়ার সময় দাদু ওদের মাকে জিজ্ঞাসা করল, বাজার থেকে কী কী আনতে হবে বউমা?
প্রথমেই ওদের মা বড়সড় আবদারের সুরে বললেন কাঁচা মরিচের কথা। আর তাতেই খেপে উঠলেন দাদু! কারণ কাঁচামরিচের এখন দামটা বেশি। তাই বললেন, ‘বলেছি একটু কম করে খরচ করতে, তার পরও তোমরা কথা শুনো না।’
- ‘বাবা, সব জিনিস কী চাইলেই কম খরচ করা যায়। তার পরও তো যথেষ্ট চেষ্টা করি।’ দাদুর এই দুঃখপ্রকাশটা ওদের কাছে ভালো লাগল না। ওরা চিন্তা করতে লাগল কী করা যায়?
স্কুলে যাওয়ার পর আজ ওদের শরীফ স্যার ক্লাস নিচ্ছিলেন। ক্লাসের একপর্যায়ে বললেন, ‘এখন বর্ষাকাল। তোমরা সবাই চেষ্টা করবে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কোনো না কোনো গাছ লাগাতে।’ একটি ছেলে জিজ্ঞাসা করলো স্যার আমাদের বাসায় তো কোনো জায়গা নেই। তা হলে আমরা কিভাবে গাছ লাগাব?
কেন! তোমরা তোমাদের ছাদের ওপর টবে ছোট ছোট গাছগুলো লাগাতে পারো। যেমন- লেবু গাছ, মরিচ গাছ, বিভিন্ন শাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া প্রভৃতি।
এবার নতুন একটি আইডিয়া পেল আশিক, যেভাবেই হোক ছাদের উপরে মরিচ গাছ লাগাতে হবে! যেই ভাবনা সেই কাজ। স্কুল থেকে ফেরার সময় দাদুর কাছে আবদার করল, নার্সারি থেকে কিছু মরিচের চারা কিনে দিতে। দাদুতো কিনতেই রাজি না। এবার বিরক্তির সুরে বলল, এগুলো কোথায় লাগাবে? বাসায় কোনো জায়গা আছে!
দাও না দাদু কিনে। তার পরও এত এত আবদারের পর শেষমেশ ওর দাদু কিনে দিলো।
এবার কিছু দিন পর ওদের দাদু ওদের মাকে বরাবরের মতোই সকালবেলা জিজ্ঞাসা করল, বউমা বলো মরিচ আর কী লাগবে?
কিন্তু ওদের মা বললো, না বাবা এখন আর মরিচ লাগবে না।
কেন?
এবার সাথে সাথে দুই পাশে দুই হাত ধরে দাদুকে টেনে ছাদের উপরে নিয়ে গেল আশিক ও সজীব। দাদু তো উপরে উঠেই এবার অবাক! ও মা ফুল গাছের পাশেই কয়েকটি টবে বেশ মরিচ ধরেছে! একদম তাজা তাজা মরিচ। বুঝতে বাকি রইল না এগুলো আশিকের বুদ্ধি। নাতির এমন বুদ্ধি দেখে আনন্দে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে লাগল এবং প্রাণভরে আদর করতে লাগল। ও দিকে আশিকদের দাদী ও বাবা-মা সবাই দাদু-নাতির এমন আনন্দঘন মুহূর্তটাকে মজা করে উপভোগ করতে লাগল।