লজ্জাবতী একটি লতাগাছ। বড় লাজুক। যার বৈজ্ঞানিক নাম গবসড়ংধ ঢ়ঁফরপধ আর আমরা তাকে লজ্জাবতী নামে ডাকি। মিমোসা হলো ৪০০ প্রজাতির একটি গণের নাম। যা ঋধনধষবং বর্গের, ঋধনধপবধব পরিবারের গরসড়ংড়রফধব উপপরিবারের গরসড়ংবধব গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। গোলাপি সাদা ফুলের সমারহে এই উদ্ভিদটি ৩ থেকে ৭ বা ১০ ফুট লম্বা হতে পারে। এর শাখায় দুই সারি পত্রক থাকে। বিজ্ঞানিদের মতে সংবেদনশীল এই উদ্ভিদটির পাতার গোড়া একটু ফোলা থাকে। ফোলা অংশের কোষগুলো হয় বড় বড়। বড় কোষগুলো পানি পূর্ণ থাকলে পাতা ও ডাটা সোজা থাকে। কিন্তু হঠাৎ স্পর্শে ‘আ্যসিটাইর কোলিন জাতীয়’ একধরনের রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে একটি তড়িৎপ্রবাহ খুব দ্রুত শরীরের এক কোষ থেকে আর এক কোষে ছড়িয়ে, যার ফলে পাতার গোড়ার খনিজ লবণ হঠাৎই বাইরে বেরিয়ে আসে। সেই সাথে ফোলা কোষের পানি বেরিয়ে চলে যায় পেছনের কোষে। ফল স্বরূপ ফোলা কোষ চুপসে যায় এবং চুপসে যাওয়া পাতার চাপ কমে যায় বলে পাতা ও ডাটা সোজা হয়ে থাকতে পারে না এবং নেতিয়ে যায় । চোখের পলকে ঘটনাটি ঘটে বলে মনে হয় ছুঁয়ে দিলেই নুয়ে পড়ে লজ্জাবতী। আসলে বিপদের আশঙ্কায় আত্ম রক্ষার জন্য পাতাগুলো গুটিয়ে ফেলে। স্পর্শ কাতর ও নানা গুণ সম্পন্ন শক্ত প্রাণের উদ্ভিদটি প্রতিকূল পরিবেশেও জন্মাতে পারে এবং প্রায় নিশ্চিহ্ন অবস্থা থেকে আবার যৌবনে ফিরতে পারে সহজে।
সচেতনভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় বলে গরসড়ং এর সাথে গ্রিক শদ ড়ংধ মেয়েলি প্রত্যয়ে যুক্ত হয়ে উদ্ভিদটি সরসড়ংধ নাম করণ করা হয়। বাংলায় ও নারী চরিত্র হিসেবে লজ্জাবতী নামে অভিহিত করা হয় তাকে।