ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকিয়ের। এ জন্যই কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকের পাশাপাশি দেশে প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা ও ইসলামিক উইন্ডো চালু করছে অনেক ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকিাংয়ের এই সাফল্য ও অগ্রযাত্রা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের এই অগ্রযাত্রাকে অকপটে স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের ভাষ্যমতে, বিশ্বজুড়েই ইসলামী ব্যাংক ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে এবং এ ধারার ব্যাংকিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আইএমএফ ইসলামী ব্যাংকিংসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ খাতে (ইসলামী ব্যাংকিং) মুনাফা ও লোকসান দু’টিই সমানভাবে গ্রহণ করা হয়। এতে কাউকেই খুব বেশি ঝুঁকিতে পড়তে হয় না। ঝুঁকি একেবারেই কম থাকায় গণমানুষ এ ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে। ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকিং। আস্থা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এ খাতে বিশ্বে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তাতে এটি অনেক সম্ভাবনাময়।
ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মার্চ মাস শেষে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে চার লাখ ১১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এর আগের প্রান্তিকের চেয়ে এই আমানত বেড়েছে এক হাজার ৬৮২ কোটি টাকা বা ০.৪১ শতাংশ। এই সময়ে এ খাতের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে চার লাখ ১২ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এটি আগের প্রান্তিকের চেয়ে সাত হাজার ১৯৫ কোটি টাকা বা ১.৭৮ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের বেশি। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংকগুলো বড় অবদান রেখে চলেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৩ এই সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে চার হাজার ৯১৯ কোটি টাকা বা ১৯.১৫ শতাংশ বেশি। এই সময়ে মোট ব্যাংকগুলোর প্রবাস আয়ের ৫৪.৭৬ শতাংশই ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকিং খাতের মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ৩৮.২৩ শতাংশ হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হয়েছে বৃহৎ শিল্পে ২৮.৩২ শতাংশ। এ ছাড়া দেশের কৃষি খাতে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, যা মোট ব্যাংক খাতের বিনিয়োগের ২০.৭৮ শতাংশ।
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড চালুর মধ্য দিয়ে। বর্তমানে দেশে মোট ১০টি ইসলামী ব্যাংক পরিপূর্ণ ইসলামী ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করছে। এ ছাড়া শাখা ইসলামী ব্যাংক রয়েছে ১১টি এবং ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডোধারী ব্যাংক রয়েছে ১৩টি।
পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ১৯৮৩
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, ১৯৮৭
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ১৯৯৫
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ১৯৯৫
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ২০০১
এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড, ২০০৪
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ২০০৯
ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, ২০১৩
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ২০২১
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ২০২১
ইসলামী শাখাধারী ব্যাংক
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, ১৯৯৫
ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ২০০৩
সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ২০০৩
দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড , ২০০৩
যমুনা ব্যাংক লিমিটেড , ২০০৩
দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড , ২০০৩
এবি ব্যাংক লিমিটেড , ২০০৪
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক , ২০০৪
ব্যাংক আলফালাহ্ লিমিটেড , ২০০৫
ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড , ২০২০
এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড , ২০২১
ইসলামী উইন্ডোধারী ব্যাংক
ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড , ২০০৮
ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড , ২০০৮
পূবালী ব্যাংক লিমিটেড , ২০১০
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, ২০১০
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ২০১০
মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, ২০২০
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, ২০২০
মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, ২০২০
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, ২০২০
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ২০২১
সাউথবাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ২০২১
মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, ২০২১
এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, ২০২২
পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড (প্রক্রিয়াধীন)
