বিড়াল এতটা মালিকভক্ত প্রাণী তা আগে জানা ছিল না। আমার রুমের আশপাশে ছোট্ট একটি বিড়ালছানাকে মাঝে মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে দেখতাম। বিড়ালটি খানার সময় হলে আমার রুমে আসত। আমিও যখনই আসত তখনই নিজের খাবার থেকে কিছু খাবার ওর সামনে দিতাম।
এতে আমার সামনেই অন্তত নির্ভয়ে খুব তৃপ্তিসহকারে খানা খেত।
বিড়ালটি সামান্য খাবারের আশায় প্রতিদিনই আসত আমার রুমে।
সত্যি কথা বলতে কি, আমি কখনো ওরে তাড়াতাম না। দিতাম না হুমকি ধমকিও।
খুব যতসহকারেই খাবার দিতাম। তাতে করে আমার প্রতি বিড়ালটি অঘাত ভালোবাসা জন্মায়।
যখনি আমি রুম থেকে বের হতাম আমার পেছনে পেছনে দৌড়ে আসত সে। আমাকে এগিয়ে দিয়ে আসত বহু পথ।
আবার যখন আমি রাত ২টা-৩টায় বাসায় ফিরতাম তখনো দেখতাম আমার অপেক্ষায় অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসে বসে আছে রাস্তায়।
সেটি কিন্তু এক দিন দুই দিন নয়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, এভাবেই আমার জন্য রাত-বিরাতে অপেক্ষা করত সে।
আমি যখন আমার বর্তমান মসজিদ ছেড়ে অন্য একটি মসজিদে চলে গিয়েছিলাম সাত মাসের জন্য, তখন এসে আর বিড়ালছানাটিকে দেখতে পাইনি। জানি না আমার অবর্তমানে কেউ তারে তাড়িয়ে দিয়েছে কি-না।
নাকি আমার অপেক্ষায় প্রহর গুণে অভিমান করে চলে গেছি অন্যত্র, কে জানে তার খবর।
আমি শত খুঁজেও আর পাইনি তার কোনো সন্ধান।
তবে আমার পাশের একটি অপরিচ্ছন্ন রুমে একটি বিড়ালছানার মৃতদেহ পেয়েছি।
তবে চেনার কোনো উপায় ছিল না তখন।
শুধু হাড়গোড় আর মাথার কিছু অংশ পড়ে আছে দেখলাম।
হয়তো বা এটিই হবে আমার পালিত সেই বিড়ালছানা।
অযতে অ-খাবারে হয়তো সে মরেই গেছে।
মাঝে মধ্যে এই বিড়াল ছানাটিকে নিয়ে আমি বসে চিন্তা করি। সে আমার জন্য এতটা জানপ্রাণ কেন ছিল!
রাত ১টা-২টা হলেও আমার জন্য রাস্তায় গিয়ে অপেক্ষায় বসে থাকত। তবে কেন তার আমার প্রতি এত মায়া!
সে তো একটুও নিজের সুখ এবং ঘুমের কথা চিন্তা করেনি? কী আজব এক প্রাণী বিড়াল!
বিড়াল এতটা মালিকভক্ত প্রাণী তা আগে জানা ছিল না। আমার রুমের আশপাশে ছোট্ট একটি বিড়ালছানাকে মাঝে মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে দেখতাম। বিড়ালটি খানার সময় হলে আমার...
