ইসলামের জন্মস্থান এবং মসজিদুল হারামাইন তথা দুটি পবিত্র মসজিদের ভূমি হিসেবে সৌদি আরব সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বাদশাহ আবদুল আজিজের সময় থেকে এই ভূখণ্ডে নেতারা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। কয়েক দশক ধরে সৌদি আরব বিভিন্নভাবে বিশ্বের মুসলমানদের সেবা ও সহযোগিতা করে আসছে।
সৌদি আরব বিভিন্নভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা করার প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সৌদি আরব শত শত কোটি ডলার সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সেবা করছে। নিরাপত্তার সাথে ও আরামদায়কভাবে মুসলমানদের পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব বিমানবন্দর, সি-পোর্ট সড়ক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সৌদি সরকার মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ এবং মদিনায় মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। প্রত্যেক জায়গায় মুসলিমদের স্বার্থকে এগিয়ে নেয়ার কাজে সৌদি আরব সক্রিয় রয়েছে। এ জন্য দেশটি বহু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির একটি হলো অমুসলিম দেশগুলোয় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা বা সহায়তা দানের উদ্যোগ গ্রহণ। ঐতিহাসিক ইসলামী বিশ্বের বাইরে লাখ লাখ মুসলমানকে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়া হয়েছে। তাদের সম্প্রদায়গুলো উন্নতি লাভ করছে এবং বেড়ে উঠছে। সেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে।
ইসলামের জন্মস্থান এবং মুসলিমদের হৃদয়ের অত্যন্ত আপন ও প্রিয় হিসেবে সৌদি আরব কেবল ইসলামী বিশ্ব নয় এর বাইরেও বসবাসরত মুসলিমদের জন্য একটি বিশেষ নৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুভব করে। এই দায়-দায়িত্ব পূরণ করার জন্য দেশটি কয়েক দশক ধরে ঈমানদারদের এই বিশাল ও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর আধ্যাত্মিক প্রয়োজন পূরণ এবং ইসলামী বিশ্বের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই লক্ষ্যে সৌদি আরব বিভিন্নভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব এলাকায় বিপুল সংখ্যক মুসলমানের বসবাস বা মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে সেখানে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে এই প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ জোরদার করা হয়। ফলে সৌদি আরবের অর্থসহায়তায় বিশ্বব্যাপী ১৫০০ মসজিদ ও ২১০টি ইসলামী সেন্টার নির্মাণ করা হয়। ও পরে উল্লিখিত সৌদি উদ্যোগের অংশ হিসেবে অদ্যাবধি বিশ্বের সব স্থানে আরো বিপুল সংখ্যক মসজিদ ও ইসলামী সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এই সেন্টার ও মসজিদ কমপ্লেক্সগুলো শুধু আধ্যাত্মিক প্রয়োজন পূরণ করার জন্য নয় বরং সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রয়োজন পূরণ করারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণভাবে এসব সেন্টারে একটি বড় মসজিদ, শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ, একটি লাইব্রেরি, কনফারেন্স বা সভা সমাবেশ, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক সেমিনার অনুষ্ঠানের জন্য অডিটোরিয়াম ও হল রুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর এসব সেন্টার মুসলমানদের আকৃষ্ট করছে। কয়েক মাইল দূর থেকে মুসলমানরা নামাজের জন্য বিশেষভাবে শুক্রবার জুমার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য এখানে জমায়েত হয়ে থাকেন।
এই সেন্টারগুলোতে শিক্ষাগত, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সেন্টারে ইসলামী শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করা হয়। মুসলিম পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা ও আদব-কায়দা শেখার জন্য এসব সেন্টারে পাঠাতে আগ্রহী। তারা চায় সন্তানরা এখান থেকে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা ও তার অনুশীলনের সুযোগ পাক। এ ছাড়া এসব কমপ্লেক্স হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ বা জমায়েতের স্থান। যেখানে ধর্মীয় সমাবেশ, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সবাই একত্র হতে পারে। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের মুসলমানদের মধ্যকার বিভিন্ন মতপার্থক্য দূর করে পারস্পরিক বন্ধন সৃষ্টির একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এসব সেন্টারে হাজার হাজার মানুষ ও দর্শনার্থীর পরিদর্শন ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়েও মুসলমানরা যাতে সভায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সেভাবেই পরিকল্পিভাবে সেন্টারগুলো তৈরি করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেন্টারের অবস্থান হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যানফ্রানসিসকো, শিকাগো, মাদ্রিদ, লন্ডন, রুম, প্যারিস, বন, ব্রাসেলস, জেনেভা, টোকিও, টরেন্টো, ভিয়েনা ও লিসবনে। এসব কমপ্লেক্সের মধ্যে দু’টি একেবারে নতুন কমপ্লেক্স খোলা হয়েছে। একটি লস অ্যাঞ্জেলেসের উপকণ্ঠে এবং অপরটি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে। মরহুম বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ এই দু’টি শহরের মুসলিমদের জন্য এই দু’টি কমপ্লেক্স দান করেছেন। এই নতুন দু’টি কমপ্লেক্সের প্রত্যেকটিতে ঐতিহ্যবাহী ইসলামী স্থাপত্যের নিদর্শন অনুযায়ী একটি বড় মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদ দু’টি অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে নির্মাণ করা হয়েছে। এ দুটো কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জনবল আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বড় ইসলামী সেন্টার আছে।
যেসব এলাকায় বেশি মুসলিম বসবাস করে না সেসব স্থানে সৌদি অর্থায়নে ছোট ছোট মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ১৫০০ স্থানে এ ধরনের মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।
একইভাবে সৌদি অর্থসহায়তায় ৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন বা ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মসজিদ ও ইসলামী সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করার একটি রাজকীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি ডোনেশন দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সৌদি আরব নিয়মিতভাবে বিপুল আর্থিক, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক অবদান রেখেছে।
বিশ্বব্যাপী ইসলামী সেন্টার ও মসজিদ নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা ছাড়াও সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের ভেতরে ও বাইরে মুসলমানদের সেবায় নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত সংগঠনকে হয় সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অথবা তাদের কার্যক্রমে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), দ্য মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ, বাদশাহ ফয়সাল ফাউন্ডেশন, দি ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ ইত্যাদি।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ইসলামিক ত্রাণ সংস্থা, বসনিয়া-হারজেগোভিনার মুসলমানদের জন্য দান সংগ্রহের লক্ষ্যে উচ্চতর কমিটির মতো বিশেষ সংগঠনও করেছে এবং আরো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেছে।
একইভাবে আফগানিস্তানের গৃহহীন, এতিম এবং যুদ্ধের কারণে বিধবা হওয়াদের জন্য বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা দিয়েছে। ইয়েমেনে বছরের পর বছর সংঘটিত গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। ইয়েমেনীদের জন্য সৌদি আরব কোটি ডলার সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা এবং রিলিফ সেন্টার ও ক্ষতিগ্রস্ত এসব লোকের সহায়তার জন্য সম্ভব সব কিছু করছে।
বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য মানবিক সহায়তাদানে সৌদি আরব সব সময় আগ্রহী। সৌদি আরব গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ায় শরণার্থীদের জন্য তাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে এবং তাদের জন্য সব সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে ২৫ মিলিয়নেরও বেশি সিরীয় শরণার্থী রয়েছে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। ঢাকায় কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ ও শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মতো অনেক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সৌদি আরব নানা ধরনের অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আসছে।
সৌদি আরবের কিছু মানবাধিকার সংগঠন বিশ্ববাপী দাতব্য সেবা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এসব সংগঠন ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখছে যা মুসলমানদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলছে। মানব সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কষ্ট লাঘবে এসব সংগঠন তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। এসব সংগঠন জাতিগত, আঞ্চলিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্গত মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা বিশ্বের খাদ্য সঙ্কটাপন্ন এলাকায় বাঁধ ও সেচ কার্যক্রম, কূপ খনন, চাষি সম্প্রদায় তৈরিতে তহবিল ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, শিশুদের টিকাদানে প্রচারাভিযান এবং নানাবিদ মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, মানবিক ও ত্রাণ প্রদানে সৌদি সরকার বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য বাদশাহ আব্দুল্লাহর গোপনীয় ও বিশেষ অনুদান ছিল বিশ্বের যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় একক অনুদান।
রাশিয়ার নতুনভাবে স্বাধীনতা লাভকারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬টি দেশের রাজধানীতে সৌদি আরব বড় বড় ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের ছোট ছোট শহরগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছে।
একই সময়ে মদিনা আল মুনাওয়ারায় কিং ফাহাদ হলি কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স থেকে মুদ্রিত স্থানীয় ভাষায় অনূদিত লাখ লাখ পবিত্র কুরআনের কপি ওই দেশের মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছে। কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স মুসলমানদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের একটি সুনির্দিষ্ট ফলপ্রসূ উপকরণ। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রেস থেকে পবিত্র কুরআন ছাপিয়ে কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করে কোটি কোটি কপি বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া পবিত্র কুরআনের অনুবাদ বিভিন্ন ভাষায় রেকর্ড করে তার অডিও এবং ভিডিও ক্যাসেট বিনামূল্যে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে সরবরাহ করা হয়। এই প্রেস থেকে ছাপা হওয়া কুরআন ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী বিনামূল্যে মক্কায় হাজীদের মধ্যে এবং বিশ্বব্যাপী বিতরণ করা হয়।
সৌদি আরবের আরো একটি উদ্যোগ হচ্ছে মুসলিম সংখ্যালঘুদের শিক্ষাদানে সহায়তা করা। ইসলামী বিশ্বের বাইরেও অব্যাহতভাবে মুসলিম সংখ্যালঘুরা বেড়ে উঠছে। তাদের শিশুদের জন্য ইসলামী এবং আরবি শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ইসলামী সেন্টার এবং মসজিদগুলো এই প্রয়োজনীয়তা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করে আসছে। দুই দশক আগে, সৌদি আরব উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। এসব স্কুলে ইসলামী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে আরবি এবং স্থানীয় ভাষায় একটি সম্পূর্ণ কারিকুলাম দেয়া হয়। ওয়াশিংটন ডিসি, লন্ডন, বন এবং মস্কোর কাছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চল এবং স্কটল্যান্ডসহ অন্যান্য স্থানেও ইতোমধ্যে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অধিকন্তু সৌদি আরব বড় বড় মুসলিম দেশ এবং সংখ্যালঘু কমিউনিটি থেকে মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি দিয়ে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্ব থেকে এ ধরনের হাজার হাজার ছাত্র মক্কা, মদিনা ও রিয়াদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করছেন। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী কয়েক শ’ ছাত্রকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার জন্য দায়ি (প্রচারক) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদানও দিচ্ছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ল’ স্কুল, শান্তাবারবারার দ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, দ্য ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং মস্কো ইউনিভার্সিটির এসব বিভাগ খুবই পরিচিত। এসব বিভাগে ইসলামকে ভালোভাবে বোঝা ও উপলব্ধি করার জন্য অগ্রসর জ্ঞানদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইসলাম ও মুসলিম বিশ্ব নিয়ে যারা গবেষণা করবেন, সেসব স্কলার ও ইনস্টিটিউশনকে রিসোর্স দানের ক্ষেত্রে এসব বিভাগ অবদান রাখবে।
মুসলিম নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ইসলামী সেন্টার ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে । লস অ্যাঞ্জেলেস কমপ্লেক্স রাস্তা থেকে একটি চার্চ পর্যন্ত অবস্থিত। এসব ইসলামী সেন্টার ও মসজিদের অনেকগুলোকে আন্তঃধর্মীয় বা ইন্টারফেইথ চ্যারিটি বা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; যাতে আন্তঃধর্মীয় বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করা হয়।
এভাবে সৌদি আরব ইসলামী বিশ্বের বাইরে থাকা বসবাস করে তাদেরসহ মুসলমানদের প্রয়োজন পূরণ করতে চায়, ইসলামের ব্যাপারে অধিকতর উপলব্ধি ও জানাশোনা জোরদার করতে চায়।
মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও বোঝাপড়া এবং অধিকতর সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপ-আলোচনার জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক।
বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সউদ আন্তঃধর্মীয় বা আন্তঃবিশ্বাস সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রায় বিখ্যাত সব ধর্ম ও সংস্কৃতির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কয়েকটি সফল কনফারেন্স করেছিলেন। মসজিদুল হারামাইনের সাবেক জিম্মাদার বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) ইসলাম ও সারা বিশ্বের মুসলিম তথা মুসলিম উম্মাহর জন্য সৌদি আরবের একনিষ্ঠ অবদানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের মুসলিম ভাইদের সাথে এবং আরব বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং আমাদেরকে মুসলিম সম্প্রদায় তথা মুসলিম উম্মাহর জন্য সব কিছু করতে হবে।’
