বাংলার বুকে শরতের রূপ লাবণ্যের বৈচিত্র্য নিয়ে কবি নজরুল কবিতায় লিখেছেন-সই পাতালো কি শরতে আজিকে স্নিগ্ধ আকাশ ধরণি?
নীলিমা বাহিয়া সওগাত নিয়া নামিছে মেঘের তরণী!...’
শরৎ আসে শীতের জন্ম মাস হয়ে। গ্রীষ্মের দুর্বোধ্য গরমের পরে তীব্র বৃষ্টি নিয়ে বর্ষা আসে। এরপর আকাশের কালো মেঘের ধূসরতা কাটিয়ে দেয় হাওয়ায় হাওয়ায় শরৎ এসে। ভেসে বেড়ায় নীলাকাশে সাদা ধবধবে টুকরো মেঘের ভেলা, মাঝে মাঝে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে নির্মল করে দেয় প্রকৃতি, টুকরো মেঘের আড়াল হতে এক ফালি চিক চিক উজ্জ্বল রোদের কিরণে ঝলমল হয়ে ওঠে গাছপালা, নদীর কূল ঘেষে কিংবা মাঠে ঘাঠে কাশফুল দুলে ওঠে এলোমেলো হয়ে। হাওরের সচ্ছ পানিতে ভাসে সাদা ও গোলাপি রঙের শাপলা, পদ্ম ফুল। ভোরে আমন ধানের ডগায় ডগায় কুয়াশার শিশিরবিন্দু নুয়ে পড়ে, শিউলি ফুলের ঘ্রাণে ঘ্রাণে চারিপাশ মুগ্ধতায় ভরে ওঠে। জবা, টগর, দোলনচাঁপার সঙ্গে জুঁই, কেয়া, মালতি, মল্লিকা, মাধবী, ছাতিম, বেলি, জারুল, নয়নতারা, ধুতরা, ঝিঙে, রাধাচূড়ার সাথে শিশুর নির্মল হাসির মতো হেসে ওঠে প্রকৃতি। ভোরে দোয়েল-কোয়েল পাখিদের গানে কবিদের ভাঙে।

প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময় ঋতু দেখে রবীন্দ্রনাথের কথায় ফুঁটে উঠেছে- ডাকিছে দোয়েল গাহিছে কোয়েল, তোমার কাননসভাতে/মাঝখানে তুমি দাঁড়ায়ে জননী, শরৎকালের প্রভাতে...। এভাবেই যেনো শরৎ আসে ঋতুর রানী হয়ে হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমণী বার্তা নিয়ে। শরৎ কেবল ঋতুর রানী-ই নয়! অন্যদিকে শরৎকে ধরা হয় কিশোরীর মনের মতো নির্মল। কখনো উচ্ছ্বল আবার কখনো গোমড়ামুখো। হঠাৎ বৃষ্টিতে এলোমেলো হয়ে যাওয়া মন হোক কিংবা উজ্জ্বল অরুণালোকে আনন্দিত মন, শরতের এমন প্রকৃতির সঙ্গে তুলনা হয় না অন্য কোনো ঋতু বৈচিত্র্যের।। শরতের এই রূপ লাবণ্যের সৌন্দর্য হৃদয় মন্দিরে প্রস্ফুটিত করে স্বর্গীয় হেলায়-দোলায়। শরতের এমন নান্দনিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হওয়ার দিনে শরীরের যত্ন নিয়ে মনকে ভালো রাখুন। শরীর ভালো থাকলে আপনার মনও মেতে উঠবে ফুরফুরে আনন্দে। শরতের হিমেল হাওয়ায় হাওয়ায় রাঙিয়ে তুলুন নিজেকে- কাব্যিক উপমার লাইনে।