বিশ্বে বাংলাদেশ
আসলাম সানী

সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা
এই যে সোনার দেশ
সবই জানি ঋতুর রানী
ধন্য ধন্য বেশ
সবুজ মাঠে ফুল-ফসলে
পাকা ধানের রেশ
আবহমান কালের প্রিয়
আমার বাংলাদেশ,

কৃষক-শ্রমিক-জেলে-তাঁতী
কামার-কুমোর বীরের জাতি
উন্নয়নের জ্বালায় বাতি
লালন-রবি-নজরুল গায়
স্বাধীনতার স্বপ্ন সাজায়
প্রকৃতির আবেশ-

বর্ষা বিদায় নদীরা হারায়
শীতের শীতল বায়ু বয়ে যায়
আমার আঙিনায়-
হেমন্তের ওই শাপলা-দোয়েল
ছড়ায় শান্তি রেশ
লাল-সবুজের গৌরব আজ
বিশ্বে বাংলাদেশ।

 

যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই
নজরুল ইসলাম শান্তু

ফুলপাখিরা এক হয়েছে কষ্টভরা মনে
এক হয়েছে প্রতিবাদে স্বজন ও সুজনে।
এক হয়েছে দিগন্ত মাঠ, নদ-নদী খাল-বিল
এক হয়েছে বক সারস ও উড়ন্ত গাঙচিল।

ওদের সাথে এক হয়েছে শিশুর কণ্ঠে সুর
এই পৃথিবীর আবর্জনা করতে হবে দূর।
গাছপালা ও আকাশ বাতাস দুধসাদা কাশফুল
এক হয়েছে প্রজাপতি মৌমাছি বুলবুল।

নারী-পুরুষ শিশু-কিশোর সবাই বেঁচে থাক
ভাল্লাগে না আর তো এখন অসভ্য হাঁকডাক।
সবাই মিলে এই পৃথিবী গড়বে জানি ঠিক
খোদার কাছে তাই মুনাজাত চলছে চতুর্দিক।

যুদ্ধ চাই না, রক্ত চাই না, দেখতে চাই না লাশ
শুনতে চাই না পুত্রহারা মায়ের দীর্ঘশ্বাস!
নিন্দা জানাই বিশ্বজুড়ে সব মাখলুকাত
আমার মতো চায় না কেহ-ই যুদ্ধ রক্তপাত।

শান্তিপ্রিয় পশু-পাখি প্রকৃতি গাছপালা
জোয়ার-ভাটার কলতানে থাকুক নদী-নালা।
যুক্ত চাই না, রক্ত চাই না, চাই পৃথিবীর হাসি
এই দাবিতে এক হয়েছে আজকে বিশ্ববাসী।

 

শরৎ এলো
সমীরণ বৈষ্ণব নিবিড়

ওই দেখা যায় নীল আকাশে
মেঘের ভেলা ভাসে,
ঘাসের ডগায় শিশির কণা
সোনার রোদে হাসে।

ছেয়ে আছে গাছে বকুল
শিউলি ফুলে ফুলে,
হাল ধরেছে নৌকায় মাঝি
রঙিলা পাল তুলে।

বিলের ধারে নদীর পাড়ে
কাশফুল করে খেলা,
দূর নীলিমায় বসছে দেখো
সাদা বকের মেলা।

ঘাস ফড়িং আর প্রজাপতি
উড়ুৎফুড়ুৎ খেলে
মন ভরে যায় ঋতুরানী
শরৎ ঋতু এলে।

 


খোকা-খুকির সকাল
জুবায়ের মাহদি

সকাল হলে খুশি মনে
শিশিরভেজা মাঠে
মিষ্টি রোদের পরশ মেখে
খোকাখুকি হাঁটে।

মক্তবে যায় কুরআন নিয়ে
ছোট্ট কদম ফেলে
দেখতে ওদের লাগে দারুণ
যখন কুরআন মেলে।

রোদের আলো যখন আরো
কড়া হয়ে ফোটে
খোকা-খুকি বাবার সাথে
মাদরাসাতে ছোটে।

 


আমাদের এই দেশ
রুমী খান

রূপে গুণে সবার সেরা
আমাদের এই দেশ
মুগ্ধ করে মন মানুষের
গ্রামীণ পরিবেশ।

ভালোলাগা ভালোবাসা
জুড়ে আছে গ্রাম
উপন্যাসের পাতায় লেখা
কত গ্রামের নাম!

গ্রামের মেঠোপথটা ঘেঁষে
আছে একটি বিল
শাপলা শালুক থাকে ফুটে
আর ওড়ে গাঙচিল।

গাঁয়ের মাঝি নৌকা নিয়ে
নদীর বুকে ভাসে
ভিনদেশীরা দেখতে সে গ্রাম
ছুটে চলে আসে।

 


শরৎ
রোকসানা বেগম

শরৎ আসার সাথে সাথে
ফুটল নানা ফুল
বনে বনে কাশফুলে আজ
দুলছে দোদুল দুল।

ভোরের বেলা শিউলি তলায়
জমে শিশুর ভিড়
শিউলি ফুলের দেখলে মালা
মনটা রয় না স্থির।

আকাশ দিয়ে শাদা শাদা
মেঘের মালা উড়ে
ইচ্ছে যে হয় তাদের সাথে
যাই যে আমি দূরে।

তালের গাছে আছে কতক
কাঁচা-পাকা তাল
হালকা শীতের পরশ নিয়ে
এলো শরৎকাল।