এ কথা কমবেশি সবাই জানে; যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি তৃতীয় বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্য এবং বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত দেশের পক্ষে সুখকর নয়। একসময় যুক্তরাজ্য; তারপরে সোভিয়েত ইউনিয়ন একই পথে হেঁটেছে। এখন চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বাংলাদেশের ব্যাপারে বেশ উদগ্রীব হতে দেখা যাচ্ছে। তারপরও আমরা সেসব রাষ্ট্রেরই উদাহরণ টানি। কেননা উন্নত রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজেদের জনকল্যাণে যে নীতি প্রণয়ন করে; তা জনসাধারণের জীবনমানের ব্যাপারে জনগণকে অনেকটা আশ্বস্ত করতে পারে। তথাপি রাজনীতির প্যাঁচে জনগণের প্রত্যাশা সেভাবে পূরণ হয় না। বাদ থেকে যায় কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা; অবশিষ্ট সেসব প্রত্যাশা পূরণ করতে অনেক রাষ্ট্রনায়ককে তৎপর হতে দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাদের অন্যতম। জনগণের প্রত্যাশিত চাওয়া পূরণ করতে; বারাক ওবামার ভেতর যে স্বপ্ন ঘুরপাক খেয়েছে; তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি তার ‘দ্য অ্যাডাসিটি অব হোপ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্তু। এর আগে তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৪ সাল অবধি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইলিনয়ের সিনেটর হওয়ার সময় নির্বাচনী ক্যাম্পিংয়ে যেয়ে যে অভিজ্ঞতা তার অর্জিত হয়েছিল; সেটিই লিপিবদ্ধ হয়েছে ‘দ্য অ্যাডাসিটি অব হোপ’ গ্রন্থে। একটি রাষ্ট্রের প্রতি সে রাষ্ট্রের জনগণের যে কী চাওয়া থাকে; তা বারাক ওবামা জানার চেষ্টা করেছেন জনগণের খুব কাছ থেকে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে যেসব প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছেন এবং জনগণের মধ্যে যে চাওয়া তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন; তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তার লেখা ‘দ্য অ্যাডাসিটি অব হোপ’ গ্রন্থে।

তিনি তার বইয়ে লিখেছেন- ‘প্রচারণার সময় যেখানেই তিনি গেছেন সেখানেই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন যে; এমন অদ্ভুত নাম আপনি কোথায় পেলেন? আর আপনাকে দেখে তো যথেষ্ট ভদ্রলোকই মনে হচ্ছে। রাজনীতির মতো নোংরা আর জঘন্য কাজে নিজেকে জড়াচ্ছেন কেন? এই প্রশ্নগুলোর জবাব তিনি তখনই দিতে চাননি। পরে তিনি তার বইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। ওবামা তার বইয়ের মুখবন্ধে বলেন- খেয়াল করেছি, জনগণের চাহিদা কতটা সাধারণ ও সীমিত এবং জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিতে বসবাস করার ব্যাপারে তারা কতটা উদগ্রীব। তাদের অধিকাংশই মনে করে; যারা কাজ করতে চায় তাদের অন্তত খেয়েপরে বাঁচার মতো একটা উপায় থাকা উচিত। তারা নিশ্চয়তা চায়; অসুস্থ হলে তাদের দেউলিয়া হতে হবে না চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে। তাদের বিশ্বাস; প্রতিটি শিশুর সত্যিকারের ভালো একটা শিক্ষা থাকার সুযোগ থাকা উচিত এবং এই ব্যাপারে কথার ফুলঝুরি ছুটালে হবে না। আর সব শিশুর অধিকার থাকা উচিত। বাবা-মা ধনী না হলেও যেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত না হয়। জনগণ অপরাধ আর সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্তি পেতে চায়। চায় বিশুদ্ধ হাওয়া আর বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং শিশুদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ; আর বার্ধক্যে উপনীত হলে যেন সম্মান আর মর্যাদার সাথে অবসর যাপন করতে পারে। এগুলোই তাদের চাহিদা; আর এটাকে কোনোভাবেই বাহুল্য বলা যাবে না। তারা নিজেরাও জানে জীবনে যা অর্জন করতে পেরেছে সবই তাদের নিজেদের প্রচেষ্টার ফল। তারা এটাও জানে; সরকার তাদের সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না; আর এ জন্যই তারা চায় না তাদের পরিশোধিত ট্যাক্সের টাকার কোনো অপচয় হোক’। এই চাওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মানুষেরই চাওয়া, তা নয়; বরং পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের সব মানুষের চাওয়া। বাংলাদেশের মানুষের এমন চাওয়া নেই; এ কথা বলার অবকাশ নেই।

সমাজবিজ্ঞানী অ্যাডাম স্মিথ রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যকে বোঝাতে গিয়ে তিনি উদ্দেশ্যকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। ১. অন্য রাষ্ট্র ও সমাজের আক্রমণ থেকে নিজের রাষ্ট্র ও সমাজকে রক্ষা করা। ২. রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নাগরিকের অত্যাচার থেকে অন্য নাগরিককে রক্ষা করা। এবং ৩. জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করা। আবার দার্শনিক রুশো তার বিখ্যাত ‘সোস্যাল কন্ট্রাক্ট’ গ্রন্থে বলেছেন- একটি রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা হলো তার জনগণের ও সরকারের মধ্যে একধরনের চুক্তি। জনগণ সরকারের কাছে তাদের ইচ্ছা সমর্পণ করবে; বিনিময়ে সরকার তাদের সামাজিক সেবা ও নিরাপত্তা প্রদান করবে। অথচ বাংলাদেশে সরকারগুলোকে দেখা গেছে জনগণকে প্রতিপক্ষ বিেবচনা করতে। জনগণ তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারকে অবহিত করার উদ্দেশ্যে সঙ্ঘটিত হতে থাকলে; বিদ্রোহ দমনের নামে সরকার পুলিশকে দিয়ে সেটি প্রতিরোধ করাতে থাকে। জনরোষ প্রতিরোধের রাজনৈতিক এ সংস্কৃতি এখন বাংলাদেশের নৈমিত্তিক ঘটনা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আমাদের মনে থাকবার কথা; ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজাবাজারের বাসায় নিজ শয়নকক্ষে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনিকে। হত্যার সময় তাদের চার বছর বয়সের একটি সন্তান ছিল। সেই সন্তান এখন কী অবস্থায় আছে তা অনেকেরই জানা নেই। এই হত্যার চার্জশিট আদালতে এখনো সাবমিট করা যায়নি। কেন কী কারণে যায়নি সেটি রহস্য হিসেবে এগিয়েছে। হত্যার এই ঘটনাটি খুবই আলোচিত, সমালোচিত এবং একই সাথে রহস্যাবৃত। এই হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সে হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম, সুরঞ্জিত সেনের এপিএসের ড্রাইভার গুমসহ হত্যা আর গুমের ঘটনায় চরমভাবে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে থাকে। একের পর এক হত্যা-গুম-খুনের মচ্ছবে জনগণ দেশের উত্তরকোণে অন্ধকার কালোমেঘের ঘনঘটা লক্ষ করে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। সাগর-রুনির হত্যাকারীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারে সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের দেয়া আলটিমেটাম ব্যর্থ হলে; দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। এসব সমালোচনায় ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেকে সামলে নিতে না পেরে সাগর-রুনি হত্যাসহ অন্যান্য হত্যা বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বললেন- ‘আমরা কারো বেডরুম পাহারা দিতে ক্ষমতায় আসিনি’। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে দেশের মানুষ হতাশ না হয়ে পারেনি। সে দিনই এ দেশের বুদ্ধিমান জনগণ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের নিগূঢ়তত্ত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে কিছু মানুষ রসিকতার ছলে এ কথাও বলে থাকেন যে, প্রধানমন্ত্রী এ দেশের যে বারোটা বাজাবেন; সেটি তো তিনি সে দিনই বুঝিয়ে দিয়েছেন; যে দিন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে ঘড়ির ঘণ্টা কমিয়ে রাত ১১টায় ১২টা বাজিয়ে দিলেন। আগামীতে দেশ কেমন চলবে; তা যদি এসব ইঙ্গিতে দেশের মানুষ না বুঝে থাকে; তাহলে প্রধানমন্ত্রীর আর কী বা করার থাকে! পিলখানা হত্যার পর এ দেশের জনগণের ভাগ্যে এমন সব নজিরবিহীন অঘটন ঘটতে থাকে; যার কারণে বাংলাদেশ এখন স্যাংশনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

জনগণ খেয়েপরে বাঁচতে চায়। কিন্তু খাওয়াপরার সামগ্রীর যে বাজার; তার কোনো নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে নেই। চড়া মূল্যের কারণে মানুষের পুষ্টিহীনতা বেড়ে মানুষ রোগা জাতিতে পরিণত হতে চলেছে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা নেই; কিন্তু বারবার বাড়ানো হচ্ছে এর মূল্য। অফিস-আদালতে নিজের ন্যায্য কাজটি সম্পন্ন করে নিতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়; দিতে হয় ঘুষ; দেখতে হয় অফিসারদের বিরক্তিভরা চেহারা। আদালতে মামলার নিষ্পত্তি করাতে ব্যয় করতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা; আর সময় গড়াতে পারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে তৈরি করা হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বেতন দেয়া হলেও হাসপাতালের চিকিৎসা হাসপাতালের বাইরে উচ্চমূল্যে বাজারে বিক্রি করে ডাক্তাররা। কমমূল্যে সন্তানের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও শিক্ষা কিনতে অভিভাবকের ভিটামাটি বিক্রি করতে হয়। শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষকদের নেই জীবনমান ও আর্থিক নিশ্চয়তা। দালাল, ফটকাবাজ, চোরছেচ্চোর, প্রতারক, ব্যাংকডাকাত, ভূমিদস্যুসহ ইত্যাদি নিম্নমানের জনগণে দেশটা ভরে গিয়ে জাতি বিশ্বদরবারে হারাচ্ছে তার সম্মান ও মর্যাদা। এই অধঃপতনের কবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে সরকারের কোনো ব্যস্ততা চোখে পড়ে না। অথচ জনগণ এসব বিষয় থেকে স্বস্তিতে থাকতে সরকারে তৎপরতা প্রত্যাশা করে অনেক বেশি। সে কারণে; অফিসে কাজ করাতে গিয়ে; আদালতে মামলা নিষ্পত্তি করাতে গিয়ে, অসুখবিসুখে চিকিৎসা নিতে গিয়ে; সন্তানের শিক্ষাব্যয় মেটাতে গিয়ে; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে গিয়ে; মানুষ যখন দেখে; সবখানে অরাজকতা; অব্যবস্থাপনা, বিড়ম্বনা, হয়রানি, ধোঁকা, প্রতারণা আর অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তখন জনসাধারণ বেমালুম ভুলে যায় কর্ণফুলী টানেলের কথা; ভুলে যায়; মেট্রোরেলের কথা; ভুলে যায় পদ্মা সেতুর কথা। মেট্রোরেল,পদ্মা সেতু,কর্ণফুলী টানেল মানুষের সকাল-সন্ধ্যার যাপিত জীবনকে স্বস্তি দিতে পারে না।

সরকার দেশের উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে জিডিপি ও তার প্রবৃদ্ধিকে বারবার জনগণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করে; কিন্তু মনে রাখা জরুরি যে, জিডিপি হলো একটি দেশের মধ্যে উৎপাদিত এবং বাজারে বিক্রি হওয়া সব পণ্য ও পরিষেবার মোট আর্থিক মূল্যের প্রতিনিধি। জিডিপি দেশের আর্থিক বৈষম্যের পরিমাপ জানাতে পারে না; অথবা পরিবেশের ঝুঁকি কেমন; অথবা জনগণ সুখে আছে কি নেই; কোনো কিছুই এর মাধ্যমে জানা যায় না। জিডিপির মাধ্যমে শুধু অর্থনীতির আকার জানা যায়। জিডিপি অর্থনীতির আকারের একটা সূচকমাত্র। জিডিপির সাথে ভবঘুরে, ফকির, দিনমজুর ও নিম্ন আয়সম্পন্ন মানুষের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। জিডিপির আকার প্রতিদিন বাড়তে থাকলেও কিছু মানুষ দিন দিন গরিব হতে পারে। কাজেই জিডিপি দিয়ে মানুষের সুখ-শান্তি ও সামাজিক উন্নতি বোঝা যাবে না।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। অর্ধশতাব্দীরও বেশি এই রাষ্ট্রের বয়স। এত বছর পর; জনগণ রাষ্ট্রের কাছে কি চায়; রাষ্ট্রের লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী; এবং রাষ্ট্রের সাথে জনগণের সম্পর্ক কী এসব নিয়ে এখনো আলোচনা করতে হচ্ছে। অথচ এ দেশের একটি সংবিধান আছে এবং এ রাষ্ট্রে মাঝে মধ্যে সরকারও পরিবর্তন হয়; তবু কেন রাষ্ট্র কী-রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী; জনগণ রাষ্ট্রের কাছে কী চায় এসব প্রশ্ন বারবার উত্থাপিত হতে থাকে? বলা বাহুল্য, এ জন্য থাকে কারণ; বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সরকার জনসাধারণকে মূল্যায়ন করেছে নিতান্তই কম। কখনো কখনো ভোটের অধিকারও কেড়ে নিয়েছে। যে সংবিধানের নিয়মে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে সেই সংবিধান আজ থেকে ৫২ বছর আগে রচিত হয়েছে এবং এই সংবিধান একবিংশ শতাব্দীতে এসে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের ধাপগুলো পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সে জন্যই জনগণ চায়; দেশের সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি নতুন সংবিধান রচিত হোক; যে সংবিধান জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। নতুন সংবিধানে এটাও বলা থাকবে যে, রাজনৈতিক দলের যে সদস্যরা সরকারের এমপি-মন্ত্রী হবেন; তারা মেয়াদ শেষান্তে দেশেই পরিবার পরিজনসহ অবস্থান করতে বাধ্য থাকবেন এবং দেশে অর্জিত সম্পদ কোনোভাবেই ভিনদেশে জমা রাখতে পারবেন না। সংবিধানে এটাও থাকতে হবে যে, সরকারে যারা উচ্চপদে চাকরি করবেন; তারা চাকরি শেষে তাদের পরিবার নিয়ে ভিন্ন দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে পারবেন না। দেশের সম্পদ পাচার রোধে এবং চাকরিকালীন দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকল্পে এসব শর্ত সংবিধানে থাকতে পারে। আমরা খেয়াল করেছি; দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দিয়ে এক/এগারোর নায়ক মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনরা দেশ ছেড়ে নিরাপদে বিদেশে বসে দেশের তামাশা উপভোগ করছে।

আমরা এটাও দেখেছি; বিদেশে পরিজন রেখে দেশে মন্ত্রিত্ব করেন; দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পরিজনের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অর্থপাচার করা এসব চক্রের সাথে দেশের আমলারাও যুক্ত থাকে। তারাও দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে বেগমপাড়া বানিয়েছে। এসব রোধ করতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন অত্যাবশ্যক হয়েছে। বিদেশে যাদের থাকতে ইচ্ছে করবে; তারা যাতে দেশে চাকরি ও রাজনীতি করতে না পারে; সে ব্যবস্থাও সংবিধানে থাকতে পারে। দেশে রাজনীতি ও চাকরি করে টাকা বানিয়ে বিদেশের সেফহোমে বসে খবরের পাতায় দেশের হট্টগোল দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে যেন না পারে; তার জন্যই এ ব্যবস্থা সংবিধানে থাকা জরুরি; দেশে শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই জনগণের এসব প্রত্যাশা পূরণ হবে এমন নয়।