তত্ত্বগতভাবে দলীয় সরকারের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হওয়ার কথা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সেটা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক আন্তরিকতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাস। জনগণের রায়েই নির্বাচিত হবে জনগণের প্রতিনিধি। একটি স্বাধীন দেশ কখনো বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ ও তাদের শলা-পরামর্শ অনুযায়ী গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারে না। তাই আমাদের নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। আমরা নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছি। পরবর্তীতে অর্জন করেছি গণতন্ত্র। তাই আমাদের এ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে, গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে এবং সুসংহত করতে সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে এবং গণতন্ত্রের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সুষ্ঠু ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে দলীয় সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি ওঠে। এই দাবির পিছনে যুক্তি ছিল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না; বা নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই দাবি তখন দেশব্যাপী নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। পৃথিবীর বহু গণতান্ত্রিক দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সাধারণ বা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অতীতেও হয়েছে, বর্তমানেও হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। পৃথিবীর প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশেই এভাবে ক্ষমতার পালাবদল সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা সম্ভব হয়নি বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে। এ ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ইচ্ছা ও ঐকমত্য ছিল। ফলে এটাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়া ও কার্যকরী করা হয়েছে।
ইউরোপ আমেরিকার কথা ছেড়েই দিলাম, এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কথাই বলি না কেন, সেখানে নিয়মিতভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে কখনো কখনো যে কারচুপির কথা উঠেনি তা নয়। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল সব পক্ষকেই মেনে নিতে দেখেছি। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কখনো ভারতবর্ষে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়নি এবং কখনো এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়নি। বরং সব জাতীয় নির্বাচনে সব পক্ষই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর বা ক্ষমতার পরিবর্তনে কখনো কোনো বাধার সৃষ্টি করেননি। ৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পার্টি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেয় এবং বিন্দুমাত্র প্রতিবাদের ধ্বনিও তখন কংগ্রেসের কণ্ঠে শোনা যায়নি। কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে ৩৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন বাম ফ্রন্টও পরাজিত হয়। সাথে সাথে তারা কোনোরূপ উচ্চবাচ্য না করেই ক্ষমতা থেকে সরে গেছে। এসব প্রসঙ্গ উত্থাপন করলাম এ কারণে যে, কংগ্রেস নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘকাল কেন্দ্রীয় সরকারে থাকলেও ৭০-এর দশকের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে কোনো প্রকার দ্বিধা করেনি। জনগণের রায় মেনে নিতে তাদের কোনো কষ্ট হয়নি। এটাই গণতন্ত্র। এটাই গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। এভাবে ভারতবর্ষে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই পালাক্রমে কংগ্রেস, জনতা পার্টি, বিজেপি এবং বিভিন্ন দলীয় মোর্চা কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছে। সরকারি দল এবং বিরোধী দল পার্লামেন্টে বসে তাদের জাতীয় সমস্যার নিরসনে সচেষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল ক্ষমতায় এসেছে। পশ্চিম বাংলা ও কেরালায় দীর্ঘদিন যাবৎ সিপিএম তথা কমিউনিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। জনগণের ভোটেই তারা নির্বাচিত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য অনেক প্রদেশেই স্থানীয় দলগুলোর নির্বাচনে জয়লাভের এবং সরকার গঠনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। মূল কথা হলো, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার গঠিত হবে, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী ক্ষমতার রদবদল হবে। এটাই গণতন্ত্রের শিক্ষা।
কিন্তু আমাদের দেশে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে, বিশেষ করে, বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরই ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হয়। সংবিধানে যুক্ত হয় নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কাছে শুনেছি যে, এ ধরনের বিধান পৃথিবীর অন্য কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নেই। কোনো কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীকে এমনকি এ কথাও বলতে শুনেছি যে, এর অর্থ হলো রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের অনাস্থা ও জনগণের অবিশ্বাস। সে যাই হোক, সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযুক্ত করার ফলে তখনকার মতো রাজনৈতিক সঙ্কটও সমস্যার সমাধান হয়েছিল।
পরবর্তীতে, ১৯৯৬ সালের জুন মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনে বিজয়ী দল সরকার গঠন করে। ২০০১ সালেও একই পদ্ধতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আবারো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ী দল সরকার গঠন করে। ২০০৬ সালে অক্টোবরের ২৭ তারিখে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নানা টানা-পড়েনের মধ্য দিয়ে অবশেষে আবারো একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। অবস্থান্তরে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অপর ১০ জন উপদেষ্টার নিয়োগ দান করেন। কিন্তু এবারই প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
একটি জোট, প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, অন্য আরেকটি জোট ১০ উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ১৪ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে একের পর এক অবরোধ কর্মসূচি দিতে থাকে। তাদের সহিংস কর্মসূচির ফলে বিচারপতি কে. এম. হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মতি জানান। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং আরো জটিল আকার ধারণ করে এবং শুরু হয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও হানাহানি, যা দেশের মধ্যে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতির ওপর। দেশের শিল্পখাতে আসে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। অবরোধের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়ে যায়। ফলে জনসাধারণের কষ্টের সীমা থাকে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের পর দিন বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ১/১১ এর পরিবর্তন সূচিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে একটি অসাংবিধানিক, ক্ষমতালিপ্সু ও জবরদখলকারী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। তারা তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থের জন্য নির্যাতন, নিপীড়ন ও নিষ্পেষণের পথ বেছে নেয়। দেশ এক অন্ধকার যুগে নিপতিত হয়। সেই কালো অধ্যায় আজ ইতিহাসের সকরুণ অংশ।
দেশে কখনো কোনো সঙ্কট, সমস্যা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তা বন্ধ করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঐকমত্যের বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এহেন ঐকমত্য ও সদিচ্ছার বড়ই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করে ক্ষমতার পালাবদলের সময়। বাংলাদেশে সাংবিধানিক-নিয়মতান্ত্রিকতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের রেওয়াজ নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে উদ্ভূত বিতর্ক বিদ্যমান সঙ্কটকে আরো বৃদ্ধি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন পেশা ও বৃত্তির বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে অতিসম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলেছে : তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অসাংবিধানিক, অবৈধ অথচ পরবর্তী দুটি নির্বাচন হবে এর অধীনে, এই বক্তব্য Self-contradictory।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে এই পরস্পর বিরোধী রায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এবং পরবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে অনিশ্চয়তার পথ উন্মুক্ত করে। এতে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয় এবং দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি করে। সরকারি দলসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল আদালতের রায়কে অজুহাত বানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এবং সংবিধান সংশোধনে করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না করে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বিবদমান দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত ও হানাহানির ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অতএব আমি মনে করি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বর্তমান পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রের জনগণের জানমাল রক্ষা করার দায়িত্ব প্রধানত সরকারের।
কিন্তু আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে, সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার ফলে সমাজে হিংসা ও সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। দেশ অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির আলোকে আমি আবারো প্রস্তাব করছি যেন, আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্পন্ন হয়। প্রসঙ্গত, আমি এও বলতে চাই যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না- এটি আমি বিশ্বাস করি না। বিশেষ করে দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলের আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজে বের করা সম্ভব। এ ছাড়াও আরো কোনো বিকল্প সমাধানও থাকতে পারে। মোট কথা, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সুশীল সমাজও এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। হিংসা ও হানাহানি বন্ধ করার জন্য এর চেয়ে প্রয়োজনীয় বিকল্প আর নেই।
আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হওয়ার ফলে যে ভয়াবহ জালিয়াতি ও ভোট চুরির ঘটনা ঘটেছে তা ছিল নজীরবিহীন। এই দু’টি নির্বাচন প্রমাণ করেছে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বিষয়টির সমাধান খুঁজতে হলে বুঝতে হবে যে এখন এটি আইনের প্রশ্ন নয়, সংশোধিত সংবিধানের দোহাই দিয়ে সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। এখন এটি রাজনৈতিকভাবে মীমাংসার প্রশ্ন। অতএব রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যেই এর সমাধান নিহিত। বিরাজমান বাস্তব পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নাই। বিদ্যমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও সর্বজন সমর্থিত হতে হবে। এ কারণে আমি সর্বজনগ্রাহ্য নিরপেক্ষ প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে একজন অভিজ্ঞ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রধান করে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব করছি। আমার ধারণা, প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ এ প্রস্তাব মেনে নিয়ে সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাবেন এবং বাংলাদেশে আগামীতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সহিংসতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেবেন।
