যুদ্ধ-বিগ্রহসহ যে বিয়োগান্ত পরিবেশে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগেরই সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে। একটু চিন্তাভাবনা করলেই আওয়ামী লীগাররা তা বুঝবেন। ক্ষমতায় থেকে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়া গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়। অখণ্ড পাকিস্তান আমলে একটি গণতান্ত্রিক আদর্শের দল হিসাবে আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থনে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী দলের ভূমিকায় ছিল।
বাংলাদেশে যেভাবেই হোক, যে কারণেই হোক, বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য প্রবীণ নেতাদের জীবন হারাতে হয়েছে। লাভবান হয়েছে বামপন্থী রাজনীতি। বাকশাল একদলীয় সরকারব্যবস্থা কমিউনিস্ট শাসনের কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের ভিত্তি হলো ১৯৭২ সালের সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন। এই শাসনতন্ত্র ছিল আওয়ামী লীগের অর্জন। বাকশালী একদলীয় শাসনব্যবস্থায় সেই গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের অস্তিত্ব থাকল না।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭২ সালের সংসদীয় গণতন্ত্রের শাসনতন্ত্রকে সরকার পরিচালনার ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করেছে।
বামপন্থী রাজনীতির প্রবক্তারা পাকিস্তান আমল থেকেই আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে নিজেদের একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
বামপন্থী রাজনীতিকরা বাকশাল শাসনের মাধ্যমে একদলীয় কমিউনিস্ট শাসনের কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে।
এখন বামপন্থীদের ষড়যন্ত্র হলো কিভাবে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে ১৯৭২ সালের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে অকার্যকর করা যায়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমন এক অদ্ভুত সংশোধনী আনা হয়েছে যার ফলে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রই অচল হয়ে পড়েছে। হত্যা ও গুমের রাজনীতি গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়। তবুও হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসী রাজনীতির আশ্রয় নিতে সরকারের অসুবিধা হয়নি। এ রাজনীতি কমিউনিস্ট শাসকদের। যাদের নিকট জনগণের মৌলিক অধিকার কোনো অধিকার নয়। কমিউনিস্ট ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে সরকার গঠন বা এর পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকে না।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিয়ে চলছে বিরাট সঙ্কট। সরকারের বক্তব্য হলো সংশোধিত শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারাই জানেন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কীভাবে নিশ্চিত করতে হয়। আমাদের সুবিধাবাদী শিক্ষিত শ্রেণীকে আজ অজ্ঞ-মূর্খ হিসাবে দেখা হচ্ছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জনগণের মৌলিক অধিকার। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যে জনগণের মৌলিক অধিকার তা আমাদের শাসনতন্ত্রের মধ্যেও রয়েছে। সন্ত্রাসী রাজনীতির কারণে গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র এখন পানির নিচে ডুবন্ত অবস্থায় অকার্যকর হয়ে আছে।
সম্প্রতি এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে তিনি সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন। এখন সরকারকে সঠিক সাহায্য প্রদানের কথা বলতে হবে তাকে।
নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে জন্য আওয়ামী লীগের পীড়াপীড়িতে তখন ক্ষমতাসীন বিএনপি ও অন্যান্য দল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা যথারীতি সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০১১ সালে তড়িঘড়ি করে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে সংবিধানে এমন সংশোধনী সংযোজন করে যেখানে ক্ষমতাসীন তথা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদেরও বিলুপ্তি হবে না। এই সংশোধনী এতটাই বিদঘুটে ও হাস্যকর যে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে চাই না।
এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, যে আওয়ামী লীগ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপরিহার্য বিবেচনা করেছিল, সেই আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমন এক সংশোধনী এনেছে যে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। আর তখন থেকে প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে আসছে। তাই আওয়ামী লীগ আর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনবোধ করছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের অবস্থানগত স্ববিরোধিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন না।
দলীয় সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচনে জনগণ যে অবাধে ভোট প্রদান করতে পারবে, তার কি নিশ্চয়তা দিচ্ছে সরকার? সেটা তো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যাখ্যা করে বলছেন না।
সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকারের অধীনে কোথাও নির্বাচন করা হয় না, এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবশ্যই জানতে হবে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে তার নিজস্ব এক ভোটের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায় দিয়ে বললেন, গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় নির্বাচনকালেও জনগণের নির্বাচিত সরকার থাকতে হবে। নির্বাচনকালে কেয়ারটেকার সরকার শাসনতন্ত্রসম্মত নয়। অন্যান্য কোনো দেশেই যে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না তা বুঝতে চাইলেন না। তিনি নিশ্চয়ই এমন কোনো শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞ নন যে, গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তার নিজস্ব থিওরি গ্রহণযোগ্য হবে। আপিল বিভাগের অন্যতম বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী তার প্রদত্ত রায়ে বললেন যে, নির্বাচন কীভাবে হবে তা রাজনীতির ব্যাপার, সুপ্রিম কোর্টের বিষয় নয়।
সেজন্য অবশ্য তাকে মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি প্রধান বিচারপতি হতে পারলেন না। তিনি নিজ ইচ্ছায় আপিল বিভাগের বিচারপতির পদ থেকে বিদায় নিলেন।
নির্বাচিত সরকার ও রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত সরকারের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়টি যেন আমরা বুঝি না। ভারতে কিভাবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হয় তাও বিবেচনায় নেয়া হলো না। যদিও ভারতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন অনির্বাচিত সরকার গঠন করেন। যুক্তি হলো বিরোধী দলের বিশ্বাস রয়েছে যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবেন না। তার মাধ্যমে ভোট চুরির নির্বাচন হবে না।
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত সরকারকে কোনোমতেই নির্বাচিত সরকার বলা যাবে না। ভারতে নির্বাচন হয় নির্বাচিত সরকারের অধীনে। বামপন্থী রাজনীতিকদের বিজয় নিশ্চিত হবে যদি তারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ স্বাধীন ও অবাধ নির্বাচনকে অসম্ভব করে তুলতে সক্ষম হন। আওয়ামী লীগের তখন কমিউনিস্ট পার্টির সরকার হবে। প্রতিবার নির্বাচনে বিজয় অর্জন করার এমন নি-িদ্র ভোট কারচুপির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে- যেখানে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারল কি না সেটা বিবেচ্য বিষয় নয় এবং এ সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কিছু জানারও প্রয়োজনবোধ করছেন না। সংসদীয় শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থাধীনে নির্বাচন কারচুপি করবে সরকারি কর্মকর্তারা আর তা তদারকি করবেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এবং নির্বাচনী নাটক প্রযোজনা করবেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কারচুপি যেসব সরকারি কর্মকর্তারা করবেন তাদের সাথে নির্বাচন কমিশনের কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তারা তাদের কাজ করবেন দৃষ্টির আড়ালে থেকে। নির্বাচন প্রতারণার এই মহাপরিকল্পনা কার্যকর করার জন্যই ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় থাকা এতটা প্রয়োজন।
সরকারের নির্বাচনী কারচুপির নীলনকশা সম্পর্কে আমরা একটা ধারণা দিতে পারি মাত্র, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সরকারের এই বিশাল নির্বাচনী কারচুপি করার পরিকল্পনা কার্যকর আছে কি না তা অনুসন্ধান করে দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সে সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের নির্বাচন কারচুপি করার গুরুত্বপূর্ণ নীলনকশা সম্পর্কে উদাসীন থাকতে পারেন না।
বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদেরও পরিষ্কার ভাষায় কথা বলা দরকার। বিগত দু’টি সংসদীয় নির্বাচনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বেই তাদেরকে নির্দিষ্ট ংখ্যক সীট বিলি-বণ্টন করা হয়েছিল। যাতে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কোন দল সংসদে কয়টি আসন পাবে তা নির্ভর করেছে কার সাথে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছিল। উপরন্তু নগদ অর্থও উদারভাবে বিলি-বণ্টন করা হয়েছিল।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল বাস্তব অবস্থা বিদ্যমান আছে কি না সে সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকেই সন্তুষ্ট হতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোনো কাজ করার জন্য সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছেন?
আওয়ামী লীগের বিবেচনায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন বলছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের এই স্ববিরোধিতা সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে অবস্থা অপরিহার্য তা সাংবিধানিক পরিবর্তন এনে বদলানো যায় না।
বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে এখানে যাতে জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকারের বদলে পুতুল সরকার বহাল থাকে তার জন্য গণতন্ত্র ধ্বংসের একটা গভীর ষড়যন্ত্র বলবৎ থাকে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে এর ক্ষমতা অসীম। কেবল নারীকে পুরুষ এবং পুরুষকে নারী করতে পারে না। একইভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শাসনতান্ত্রিক সংশোধন করলেই তা শাসনতান্ত্রিক বৈধতা পাবে না। আর কোনো নির্বাচন কমিশন কোনো অস্বচ্ছ নির্বাচনকে স্বচ্ছ নির্বাচন ঘোষণা করতে পারে না।
গুপ্তহত্যা ও জোরপূর্বক অপহরণ করার ব্যবস্থা অনুসরণ করার কারণে আমাদের শিক্ষিত ও সচেতন শ্রেণীকেও কাপুরুষ ও আহম্মক হয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো পরিবর্তন আসতেই হবে। সংবিধান আমাদের জীবন রক্ষার অধিকার দিলেও সেটাও লঙ্ঘিত হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না।
জনগণের অধিকারের বিষয়টি কোনো সরকারের নিজস্ব পছন্দের ব্যাপার নয়, এটা ইউনাইটেড ন্যাশনস কর্তৃক গৃহীত মৌলিক অধিকারের বিষয় যার সুরক্ষা দিতে হবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার ভিসানীতি ঘোষণার বিষয়টি কেবল বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কিত। তাই আমরা যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারি তাহলে ভিসা স্যাংশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে। বিষয়টি আমেরিকান সরকারের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মি. ম্যাথু মিলার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এই মার্কিন ভিসানীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা।’
প্রতিবেশী ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও এবং ভারত বিশে্বর বৃহত্তম গণতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্র অর্জনে বাংলাদেশের সংগ্রাম ও রক্তদানের কাহিনী ভারতের অজানা নয়। সেই বাংলাদেশ আজ গণতন্ত্রের সমাধি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এখানে না আছে আইনের শাসন, না আছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। আমাদের একটি গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র আছে কিন্তু ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাসী রাজনীতির কারণে তা কার্যত নেই। আসন্ন নির্বাচন যাতে অবাধ নিরপেক্ষ হয় সেজন্য আমরা ভারতের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তো আওয়ামী লীগই করেছিল যখন সে বিরোধী অবস্থানে ছিল।
আমরা তাই বলছি, রাজনৈতিক দল হবে শুধু রাজনীতিবিদদের। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিক সেজে ব্যবসায়ী রাজনীতি করতে পারবেন না। একজন রাজনীতিকের মূল কথাই হলো, তিনি নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সেবা করে যাবেন। এখন ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে কে কত দ্রুত বিত্তশালী হতে পারেন সেই প্রতিযোগিতা। জনগণের অর্থ ও সম্পদের সীমাহীন লুটপাটের কারণে সরকার পরিবর্তনের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ক্ষমতাসীনদের নিকট গ্রহণীয় হতে পারছে না।
সরকার চলছে মূলত দেশী-বিদেশী আমলাদের ওপর নির্ভরশীল থেকে। সরকার জনবিচ্ছিন্ন বলেই নির্বাচনে আমলা-নিয়ন্ত্রিত কারচুপির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার অস্বীকার করার অর্থ আমার ও আপনার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা। দেশ স্বাধীন, কিন্তু সরকার গঠনে বা পরিবর্তনে ন্যূনতম ভোটের অধিকারও জনগণের নেই।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার পরিবর্তনের ভোট থেকে জনগণকে বঞ্চিত রেখে কিভাবে কারা স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হিসেবে দাবি করেন তা বোধগম্য নয়।
