মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্য। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষের দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পন্ন করার শক্তি জোগানের পাশাপাশি দেহকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য প্রতিনিয়তই খাদ্যের জোগান জরুরি ও অপরিহার্য, স্থান-কাল পাত্রভেদে ভিন্নতা থাকলেও এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় এ দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। তখন সবার জন্য খাদ্যের জোগান পর্যাপ্ত ছিল না। ১০-১৫ লাখ টন ঘাটতি ছিল। আজ প্রায় পাঁচ দশক পর সেই অবস্থাটি প্রায় অভাবনীয় উন্নতির পর্যায়ে চলে এসেছে। চাষের জমি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে কয়েক গুণ। বিবিএসের সূত্র মতে ১৯৭১-১৯৭২ সালে আবাদযোগ্য জমি ছিল দুই কোটি ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টর। খাদ্য উৎপাদন ছিল এক কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টন, ফলন গড়ে ০.৫৬৬ টন প্রতি হেক্টরে। ২০২৩ সালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রেক্ষিতে আবাদি জমি কমে ৮৮ লাখ ২৯ হেক্টর হয়েছে। বর্তমানে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাত ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এই জমি থেকেই তিন কোটি ৯০ লাখ টন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলন ৪.৪২ টন। শাকসবজি ও ফলমূল ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রধান উৎস। বর্তমানে শাকসবজি ও ফলমূলেরও ব্যাপক উন্নয়ন ও উৎপাদন বেড়েছে। ৯০ দশকে শাকসবজির উৎপাদন ছিল ২১ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে উৎপাদন হয়েছে ৮২ লাখ মেট্রিক টন। ৯০ দশকে ফলের উৎপাদন ছিল আট লাখ মেট্রিক টন। বর্তমান উৎপাদন হয়েছে ৫৫-৬০ লাখ মেট্রিক টন। এখন সারা বছরেই পেঁপে, কলা, আম, আনারস, তরমুজ মাল্টা কমলা পাওয়া যায়। তাই আজ বিশ্বের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আলু উৎপাদনে ষষ্ঠ, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় এবং পাট রফতানিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রতিনিয়ত জনসংখ্যার চাহিদার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন এ দেশের কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা ইনস্টিটিউটগুলো ।
কৃষক
কৃষির মেরুদণ্ড হলো কৃষক। এ চাষাভুষা কৃষক হলো ফসল উৎপাদনের চালিকাশক্তি ও কৃষির মূল মেরুদণ্ড।
“মাঠের ছবি যাদের বুকে ‘কাবা’র মতো জাগে”
কবির ভাষায়-
“চাষাভুষার জন্য লিখতে আমায় কহ যে,
চাষাভুষায় কাব্য লেখা যায় কি সহজে,
সবাই যারে পথের ধারে গেছে ‘দু’পায়’ দলে
তুমি কি চাও নাম কুড়াতে তাদের কথা বলে?
তাদের সেই সে ঘাম ঝরানো নাম কুড়াতে হলে
পুড়তে হবে মাঠের রোদে, ভিজতে হবে জলে
শিখতে হবে তাদের কথা, তাদের হাসিগুলি
যেমন জানে ফুলের কথা- বনের বুলবুলি।
কবি চির অবহেলিত অসম্মানিত কৃষক সমাজের প্রতি গভীর সহমর্মিতা পোষণ করে পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন- মাঠের ছবি যাদের বুকে পবিত্র উপাসনালয় কাবা শরিফের মতো জাগে-রোজ হাশরের দিন খোদা যেন তাদের সম্মানিত করেন। আমরা যারা কৃষকের উৎপাদিত পণ্য খেয়ে জীবন ধারণ করি তারা কৃষি পেশা ও কৃষককুলকে সম্মানীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য করি না। সম্প্রতি আমাদের দেশে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন, কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ, শিক্ষা-দীক্ষার প্রসার ইত্যাদি কারণে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ফলে এ পেশায় কর্মসংস্থানের গতি প্রকৃতিও বদলে যাচ্ছে। এখন উচ্চ শিক্ষিত যুবকরাও কৃষি পেশায় আকৃষ্ট হতে শুরু করেছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি আবিষ্কার করছে। বিএডিসি তার নিজস্ব খামারে এবং চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে এই জাতগুলো বর্ধন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের দক্ষ জনবল দিয়ে এই আধুনিক জাতগুলো এবং প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। কৃষকরা তাদের দক্ষতা পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়ে কৃষিকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফল কৃষক
আলহাজ শাহজাহান আলী বাদশা (পেঁপে বাদশা) ঈশ্বরদী, পাবনা- পেঁপে চাষের জন্য বাংলা ১৪০৩ সালে জাতীয় কৃষি পুরস্কার রৌপ্য পদক ও ১৪০৪ সালে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত।
মো: ছিদ্দিকুর রহমান (কুল ময়েজ) ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামার, ঈশ্বরদী, পাবনা- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুলের খামার স্থাপন ও কুল চাষে সাফল্যের জন্য ১৪১৫ সালে রৌপ্যপদক প্রাপ্ত।
আব্দুল কাদের ব্যাপারী (কলা কাদের) গ্রাম-ডিগ্রি, ৭ নং ওয়ার্ড চুয়াডাঙ্গা- জৈব প্রযুক্তিতে কলা চাষ করে সাফল্য অর্জন এবং জাতীয় ফল মেলা ২০১০ সালে ২য় স্থান অর্জন।
মো: শের আলী সরদার (ফুল শের আলী), গদখালী, ঝিকরগাছা যশোর- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন।
মো: মনোয়ার হোসেন, উত্তর দিঘলদি বাড়ির হাট ভোলা-আম্রপালী ও হাড়িভাঙ্গা আম চাষ সম্প্রসারণে অন্যান্য অবদান ।
হরিপদ কাপালী ঝিনাইদহ- ১৯৯২ সালে ইরি ধান জাতের এক উচ্চফলনশীল ধানের জাত আবিষ্কার করে বোরো মৌসুমে রোপণ করে প্রচলিত ধানের চেয়ে প্রায় ৪ গুণ (৪ টন পার /হেক্টর) বেশি ফলন পান ।
মো: জাহিদুল ইসলাম (গাজর জাহিদ) আদর্শ কৃষি খামার ঈশ্বরদী পাবনা- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি খামার স্থাপন করে জাতীয় কৃষি পুরস্কার ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্ত ।
মঞ্জুর হোসেন, রাজশাহী সদর রাজশাহী- স্ট্রবেরি ফল চাষ সম্প্রসারণ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।
মো: সৈয়দুর রহমান, নন্দির খোলা, দক্ষিণ সুরমা সিলেট- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি খামার স্থাপন করে জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৮ এ ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্ত।
হ্লাচিং মং চৌধুরী, মহালছড়ি খাগড়াছড়ি- মাল্টা ও ড্রাগন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত হন। তিনি ২০২২ সালে ৭ হাজার মাল্টা গাছ থেকে ১৭ থেকে ১৮ টন মাল্টা বিক্রি করেন এবং ৫০০টি ড্রাগন গাছ থেকে ৩ টন ড্রাগনফল বিক্রি করেন ।
কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
Bangladesh Agriculture University (BAU /বাউ)
কৃষিপ্রধান এই দেশে সনাতন কৃষিব্যবস্থার আধুনিকায়নে তথা বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি বিজ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য ষাটের দশকের গোড়ায় বেড়ে ওঠা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশের প্রথম উচ্চতর কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার ঐতিহ্যবাহী জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের পথিকৃৎ এ বিদ্যাপীঠ ১৯৬১ সালে ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ।
রাজধানী ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিংহে, ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরের চির সবুজঘেরা নৈসর্গিক পরিমণ্ডলে প্রায় ১২০০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস । প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর এম ওসমান গনি।
এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা বারি, ব্রি, বিএডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বিভিন্ন এনজিও, বার্ড, আরডিএ, পেস্টিসাইড কোম্পানি ও সিড কোম্পানিতে যোগদান করে তাদের লব্ধজ্ঞান প্রয়োগ করে কৃষির উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন ।
এ ছাড়া মেধাবী ছাত্রগণ (প্রথম স্থান, দ্বিতীয় স্থান ও ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে পরবর্তী সময়ে এমআইটি ইউএসএ, জাপান মনবসু স্কলারশিপ, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এ দেশে এসে নূতন নূতন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কৃষির উন্নয়ন করছেন ।
এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাত ও কৃষি প্রযুক্তি :
ধান : বাউ-৬৩, বাউধান-২ উচ্চ ফলনশীল জাত ।
সরিষা : সম্পদ, সম্বল, বাউ-এস ৩৯৫ ও বাউ ৩৯৬ উফশী সরিষার জাত ।
কুল : বাউকুল, সবচেয়ে উচ্চ ফলনশীল জনপ্রিয় জাত।
মিষ্টি আলু : তৃপ্তি, কমলা সুন্দরী।
রাইবোজোরিয়াল জৈব সার উৎপাদনে প্রযুক্তি ।
বাউ সয়েল টেস্টিং কিট।
বীজের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সহজ পদ্ধতি ।
সৌরতাপের মাধ্যমে পাট ও ধান বীজের ফাংগাস আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ।
কলা ও আনার উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি।
সেচসাশ্রয়ী শুকনো পদ্ধতিতে বোরা ধান চাষ পদ্ধতি।
এ ছাড়া ২২০ প্রজাতির ১০৫০০টি মাতৃগাছসহ ২১২টি আমের, পেয়ারার ৪০টি, লিচুর ৩২টি, ৪৮টি বিভিন্ন রকমের সাইট্রাস ফল, ৬৮ জাতের ওষুধি গাছ, ৯৮টি জাতের কাঁঠালসহ ৪৯টি দেশ থেকে আনা নানা ফলের জার্ম প্লাজম। আফ্রিকান ধৈঞ্চার অঙ্গজ প্রজনন, গার্লিক ট্যাবলেট, এলামন্ডা, ট্যাবলেট, আইপিএম ল্যাব, বায়োপেস্টিসাইড, মুলিকুলার বৈশিষ্ট্য শনাক্তকরণ কলাকৌশল, বিভিন্ন প্রকার সবজির অগ্রবর্তীলাইন ও হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন অন্যতম ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাউ) ১৯৯১ সালে ফল বৃক্ষের উন্নয়নের জন্য জার্ম প্লাজম সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক ড. এম এ রহিম, তিনি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের একজন প্রফেসর ও ডিন ছিলেন। প্রায় ১০০ বিঘা জমি নিয়ে এ সেন্টারটি গড়ে উঠেছে।
এ সেন্টারে রয়েছে ১৮১ প্রজাতির প্রায় ১১৫০০টি দেশী ও বিদেশী বিরল ফলের মাতৃগাছ। এর মধ্যে ৩২২ রকমের আম, ৫৭ রকমের পেয়ারা, ২৩ রকমের লিচু, ৮৭ রকমের লেবু, ৯৪ রকমের কাঁঠাল, ৬৭ প্রজাতির অপ্রধান ফল, ২৭ প্রজাতির ওষুধি গাছ, ৬৮ প্রজাতির ফলদ ওষুধি গাছ ও ৪৯টি দেশ থেকে সংগ্রহকৃত ৫৮ প্রজাতির বিদেশী ফল।
বিদেশী ফলের মধ্যে জাপানের পার্সিমন, থাইল্যান্ডের রাম্বুটান লাংগান, মাল্টা, পিচফল, মাঙ্গোস্টিন, আলু বোখারা, সোমালিয়া সাওয়ার সপ, কেনিয়ার অ্যাভাকোডা, পাকিস্তানের চেরি, এসেরোলা, সিন্ধু প্রদেশের জাবাটিকাবাব, ভারতের নাসপাতি, ম্যান্ডারিন, কমলাসহ ৫৮ প্রজাতির বিদেশী এবং বেশ কয়েকটি বিদেশী ফলের জাত এ দেশে চাষোপযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা চলছে। এই সেন্টারটি কৃষক, সৌখিন ফলচাষি ও জনগণের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রতি বছর হাজার হাজার চারা কলম উৎপন্ন করে সারা দেশে বিতরণ করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৩৮ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক দি বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ইস্ট পাকিস্তান অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট হিসাবে নামকরণ করা হয়। ২০০১ সালে শেরে বাঙলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে রূপান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন জনাব মো: সাদাদ উল্লাহ। এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ হাজার স্নাতক এবং ৪ হাজার স্নাতকোত্তর পিএইচডি শিক্ষার্থী বের হয়েছে।
বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানীদের পরিচিতি
কাজী বদরুদ্দোজা (১৯২৯-২০২৩) : কৃষির রূপান্তর ঘটিয়ে সনাতন কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক করে গড়ে তুলে ছিলেন যার সুফল এখন আমরা পাচ্ছি। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় বিজ্ঞানী ইমেরিটাস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার নাম অনুসারে কাজী পেয়ারা আবিষ্কার করেন। ২০১২ সালে তিনি স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রাপ্ত হন।
ড. শাহ মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সূচনালগ্নে উচ্চফলনশীল আধুনিক জাত উন্নয়নের পথিকৃৎ। তিনি প্রায় ২৪টি আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি ব্রির ডাইরেক্টর ও চষধহহরহম ঈড়সসরংংরড়হ-এর সদস্য ছিলেন এবং স্বাধীনতা স্বর্ণপদক পুরস্কার প্রাপ্ত ।
জি এম মঈনুদ্দিন : জি এম মঈনুদ্দিন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একজন দক্ষ, নিষ্ঠাবান, চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব। যিনি কৃষি বীজকে শিল্প হিসেবে রূপান্তর করেন। তিনি কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স জোন স্থাপন এবং চুক্তিবদ্ধ চাষি দ্বারা বীজ উৎপাদনের পদ্ধতির পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী। তার এ পদ্ধতি অনুসরণ করে বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন- লালতীর, সুপ্রিম সিড কো., মেটালসিড কো. এবং এসিআইসহ অন্যান্য কোম্পানির মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করছেন।
ড. আবদুর রহিম : ড. আব্দুর রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের একজন শিক্ষক। তিনি বিভাগীয় প্রধান ও কৃষি অনুষদের ডিন ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে ফলবৃক্ষ উন্নয়নের নিমিত্তে ১০০ বিঘা জমি নিয়ে একটি জার্ম প্লাজম সেন্টার স্থাপন করে ফলের জাত উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি বাউকুল, বাউ আম, বাউ পেয়ারা, বাউ লিচু, বাউ লেবু, বাউ মাল্টা, বাউ ড্রগন ফ্রুট ইত্যাদি উদ্ভাবন করেন।
ড. মির্জা হাসানুজ্জামান তিনি শেষ বাঙলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ অধ্যাপক। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ১৪৮টি আর্টিকেল (জীববিজ্ঞান ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পৃথিবীর মধ্যে একজন অন্যতম তরুণ উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার একজন গবেষণা ফেলো।
এভাবে আমাদের কৃষক এবং কৃষিবিজ্ঞানীরা মেধা, শ্রম ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে নিয়েছেন আমাদের কৃষিব্যবস্থাকে। যথাপথভাবে আমাদের কৃষক এবং কৃষিবিজ্ঞানীদের যদি সাহায্য করা যায়- আমাদের কৃষিব্যবস্থা আরও এগিয়ে যাবে উন্নতির দিকে। কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। তাই কৃষিক্ষেত্রকে আরো আধুনিক করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে আমাদের।
