ফজরের আজানের পূর্বে প্রতিদিন ঘুম ভাঙে। ঘর থেকে বেরিয়ে মসজিদের পথে রওয়ানা হই। মসজিদ থেকে একটু আগে রাস্তায় শিউলি ফুল পড়ে থাকতে দেখি। শিশিরভেজা ফুলগুলো দেখতে অপূর্ব সুন্দর। সকালে শিশিরমাখা ফুল দেখলেই মুগ্ধতায় ভরে ওঠে মন। ফুলের সৌন্দর্যে, ফুলের সুবাসে স্রষ্টার সৌন্দর্য খুব সহজে অনুভব করা যায়। যিনি ফুলের স্রষ্টা তিনি বিশ^জগতের সবকিছুর স্রষ্টা। তিনি নিজেকে দেখা দেন না। তবুও শিউলিসহ চোখ জুড়ানো সব ফুলের পাপড়িতে, সুবাসে সৌরভে তাকে চেনা যায়।
কাজী নজরুল লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ, এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই।’ শিউলি শরতের হলেও হেমন্তের শুরুর দিকে তার শোভা ও সৌরভ কিছুটা থেকে যায়। সকালের হালকা শীতে এই ফুলের সৌন্দর্য আর মিষ্টি ঘ্রাণে বসতবাড়ির আঙিনা মেতে ওঠে। গ্রামের ছোট ছোট মেয়েরা খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে দলবেঁধে শিউলি কুড়াতে যায়। দু’হাত ভরে ফুল নিয়ে আসে। তারপর একটি একটি করে ফুল নিয়ে মালা গাঁথে। ¯িœগ্ধতায় ভরে ওঠে পুরো সকাল।
শিউলি ফুল সন্ধ্যার পরপরই প্রস্ফুটিত হয়ে সারারাত সুবাসিত করে ভোরেই ঝরে যায়। এত সুন্দর, এত ঘ্রাণ, তার কি না এত ছোট জীবন! কোমল এ ফুলে ছয়টি পাপড়ি থাকে, পাপড়ির রঙ সাদা হলেও বোঁটার অংশ কমলা রঙের এবং পাপড়ির সংযোগ স্থল বৃত্তাকার কমলা রঙে বিস্তৃত। দিনের আলোতে ফুলগুলো তাদের উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। রোদের হালকা তাপেই একেবারে নেতিয়ে পড়ে পাপড়িগুলো। অনেকে শিউলি ফুলকে শেফালি নামে ডাকে। এখন অবশ্য আগের মতো যত্রতত্র শিউলি গাছ গ্রামেও চোখে পড়ে না। নগরসভ্যতায় আরো আগেই হারিয়ে গেছে প্রকৃতির অনেক কিছু। তবুও অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠা শিউলি ফুলের গাছ চোখে পড়ে মাঝেমধ্যে। অল্প সময়ে ঝরে যাওয়া শিউলি ফুল, মানুষের জন্য কিছুনা কিছু শিক্ষা বহন করে। পৃথিবীতে মানুষের গৌরব চিরকাল স্থায়ী থাকবে না। প্রকৃতি আমাদের সব সময় শেখায়। কিন্তু ফুলের থেকে শিক্ষা আমরা ক’জন নিতে পারি?