কেমন আছ মা
রফিকুল নাজিম
মাগো আমি অনেক দূরের দেশে
একলা হাঁটি বড় হওয়ার বেশে
তোমার ঘরটি এখন কেমন একা
উঠোন কোণে পাও কি আমার দেখা?
না পেলে ঠিক তোমার কেমন লাগে
জুঁই চামেলি ঝরলে ফুলের বাগে
আমি তো মা তোমার ঘরের জ্বালা
সেই ঘরে কি মারো এখন তালা?
পাখির ছানা বেশ হয়েছে বড়
এখনো কি ভোরে কুরআন পড়ো
মাগো, তোমার সেলাই করা কাঁথায়
রঙপেন্সিলে এখন কি কেউ আঁকায়?
আমি যদি আড়াল হলেই ভালো
তবে কেন তোমার মুখটি কালো?
তোমার বুকে ঘুণপোকারা কাটে
শূন্য কলস থাকে পুকুর ঘাটে!
সময় পেলে লিখব তোমায় চিঠি
আলগা হলাম বড় হওয়ার রীতি!
ইচ্ছে বিসর্জন
গিয়াস হায়দার
নিজের ইচ্ছে বিসর্জনে
ঝরান গায়ের ঘাম
হাজার কষ্ট বুকে চাপায়
চায় না নিজের দাম।
সন্তানেরা মানুষ হবে
এটাই মনের আশা
হৃদয় মাঝে রক্ত জমাট
তবু বাঁধে বাসা।
সন্তানেরা সুখে থাকুক
সব চাওয়ার সেরা
দুঃখ-ব্যথা ঝড় তুফানে
মায়ার জালে ঘেরা।
যায় না ছেড়ে কঠিন রোদে
শীতের জ্বালায় কাঁপে
সব কষ্ট মাথায় নিয়ে
চলছে হেঁটে বাপে।
হেমন্তের ছোঁয়া
জয়নব জোনাকি
হেমন্ত আজ এলো নেমে
পাকা সোনা ধানে,
কৃষক মনে জোয়ার এলো
জারিসারি গানে।
ফড়িংরাজের ওড়াওড়ি
সবুজ কচি ঘাসে,
ডালে ডালে গন্ধরাজ আর
শিউলি বকুল হাসে।
শিশির কণা পা ধুয়ে দেয়
প্রভাত নামা ক্ষণে,
পাখির ডাকে স্বপ্ন ভাঙে
হারাই আনমনে।
শীতের বুড়ি নেয় ছিনিয়ে
হেমন্ত সুখ ছোঁয়া,
তার দাপটে হেমন্তরূপ
যাচ্ছে ত্বরিত খোয়া।
হেমন্ত
রোকসানা বেগম
হেমন্ত আজ গ্রামের মাঠে
ধানের ক্ষেতে আছে
দেখতে পাবে গেলে তুমি
ধানের ছড়ার কাছে।
গান গেয়ে আজ ধান কাটে সব
কী যে মজা লাগে
ধানের ছড়া মাথায় গুঁজি
ইচ্ছে মনে জাগে।
নতুন ধানের চাল দিয়ে আজ
খাবো নানান পিঠা
মনে যে হয় হেমন্তটা
আসলেই খুব মিঠা
চাষা
তৃষ্ণা বনিক
আমার এ দেশ কৃষিপ্রধান
বহু মানুষ চাষা,
গ্রামাঞ্চলে বাস করে আর
বাংলা হলো ভাষা।
ওরা কৃষক ওরা চাষা
ফসল ফলায় মাঠে
বারোটি মাস কষ্ট করে
সময় তাদের কাটে।
ক্ষেতের পাকা ফসলটাতে
সোনালি ঢেউ ওঠে
তাই না দেখে কৃষক ভাইরা
কাঁচি হাতে ছোটে।
ধান কেটে সব নিয়ে আসে
মিষ্টি গানের সুরে
নবান্ন তাই যায় যে দেখা
কৃষক পাড়া জুড়ে।
