দেখতে দেখতে বায়ান্ন বছর পূর্ণ করল বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পর আরো দুই বছর এগিয়েছি আমরা। আমাদের স্বাধীনতার বয়স অর্ধশতাব্দীর বেশি। ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয় দিবস। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, সম্ভ্রমহানি আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি এ বিজয়।
আমরা গঞ্জনা নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছি বহুকাল। দুই শ’ বছর ব্রিটিশের অধীনে ছিলাম। পাকিস্তানিদের অধীনে ছিলাম ২৪ বছর। হাজার মাইল দূরে বসে আমাদেরই ওপর তারা ছড়ি ঘুরাতো। এ দেশের কৃষক শ্রমিকের শ্রম ঘামে অর্জিত টাকা পয়সায় তাদের উদর স্ফীত হতো, বিলাসিতা, প্রমোদ সবই চলত। কিন্তু বাঙালি পদানত হয়ে থাকার জন্য জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা। ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছে। দুই লাখ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের মালিক হতে। অপরিসীম নির্যাতন ভোগ করেছি। নিজ দেশে পরাধীন জীবন থেকে মুক্তি চেয়ে নিজেদের মতো করে বাঁচতে চেয়েছি। চেয়েছি রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সুশাসনভিত্তিক সমাজ ও নিজ সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশ।
আমরা স্বাধীন হয়েছি। ঝরেছে অনেক রক্ত। চলে গেছে অনেক মা বোনের সম্ভ্রম। অনেক মুক্তিযোদ্ধা হারিয়েছে অঙ্গ। গুটিকয়েক বেঈমান ছাড়া গোটা দেশের মানুষ মানসিকভাবে যুক্ত ছিল মুক্তিসংগ্রামে। আজ ব্রিটিশরা নেই, পাকিস্তানিরা নেই, জমিদাররা নেই। আমরা পেয়েছি স্বজাতির শাসন। এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে!
বিগত ৫২ বছরে বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক। দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শিক্ষা স্বাস্থ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার মাথাপিছু আয় সব ক্ষেত্রেই সাফল্য এসেছে। দৃশ্যত বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখ মেলে দেখার মতো। বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে সম্পদ উৎপাদন ও আহরণ।
১২৯ ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশটির বর্তমান মাথাপিছু আয় ২০৬৪ ডলার।
একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি বা অগ্রগতি নির্ভর করে কিছু নিয়ামকের ওপর। যার মধ্যে আছে জনগণের জীবনযাত্রার মানের বাস্তব রূপ, নিরাপদ খাদ্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মতপ্রকাশের অধিকার, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ।
বিজয়ের অর্ধশত বছর পার করে দেখি, মানুষের জীবনমান বেড়েছে। মানুষ ভালো খায়, ভালো পরে, হাতে হাতে মোবাইল। তবে গোটা দেশের চিত্র এটা হলে ভালো হতো। দেশের প্রান্তিক কিছু মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পায় না। তাদের অনেকের পোশাক নেই, নেই শীতবস্ত্র । কাজেই গড় হিসাব করলে হবে না। সম্পদের সুষম বণ্টন নেই শ্রেণিবৈষম্য আজো বিদ্যমান। দেশের একাংশের জীবনযাত্রার মান দেখে সারা দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে এ কথাও একবাক্যে বলা যাবে না।
দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ কৃতিত্ব সরকার ও কৃষিবিজ্ঞানীদের। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আজো সম্ভব হয়নি। খাবারদাবার ভেজালে সয়লাব। ভেজাল খাবার খেয়ে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধিতে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, আইন প্রণয়ন করছে বটে; কিন্তু বাস্তবায়ন ও মনিটরিং প্রথা যথাযথ নয় বলে ভেজাল দেয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। মানুষও হতাশ হয়ে পড়ছে। কোন খাবারে ভেজাল আছে আর কোনটাতে নেই বুঝতে না পেরে মানুষ কী খাবে আর কী খাবে না এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে! দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে। এ কথা ঠিক, বিশ্বব্যাপী করোনার মারাত্মক ছোবল ও যুদ্ধবিগ্রহের কারণে সারা পৃথিবীতেই জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে; কিন্তু আমাদের দেশে সিন্ডিকেট এতটাই জোরালো যে, অন্য দেশের তুলনায় এখানে বেড়েছে বেশি।
প্রকৃত উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শিক্ষা। এটি পরিমাপের দু’টি দিক রয়েছে। একটি পরিমাণগত, অন্যটি গুণগত। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শিক্ষার পরিমাণগত দিকটিকেই আমাদের সাফল্যের মানদণ্ড ধরে নিয়ে এগিয়েছি। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতার পাঁচ দশকে সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের দীর্ঘ দিনের চাহিদা জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০। দেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বেড়েছে, নারী শিক্ষার হার বেড়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হয়েছে, ঝরে পড়ার হার কমেছে, সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে প্রকৌশল, কৃষি, মেডিক্যাল, বস্ত্র, চামড়া ইত্যাদি শিক্ষার ক্ষেত্রে। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই সরবরাহসহ করা হচ্ছে বছরের শুরুতে। কিন্তু এত কর্মযজ্ঞ চলমান থাকার পরও মানসম্মত শিক্ষার চাহিদা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারিত আছে ‘জাতীয় জীবনের সর্বত্র নেতৃত্বদানের উপযোগী, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রগতিশীল, মানবমুখী, দূরদর্শী, অসাম্প্রদায়িক ও উদারনৈতিক সুনাগরিক সৃষ্টিই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বমানের শিক্ষার লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবিক তা হচ্ছে না। সম্প্রতি শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে দেশব্যাপী কথা হচ্ছে।
স্বাধীনতার সময় দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬.৮ শতাংশ, যা বর্তমানে ৭৪.৭ শতাংশে পরিণত হয়েছে। সাক্ষরতার হার বাড়লেই আমরা খুশি হই। এখন ঘরে ঘরে এ+। ছেলেমেয়ে এ+ পেলে অভিভাবকরা আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করেন। এটা নেহাত মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। এই এ+এর বন্যা দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফলাফলমুখী এই শিক্ষায় প্রকৃত শিক্ষা মোটেই হয় না। ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ ছেলেমেয়ে উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে মুখ থুবড়ে পড়ে। ভালো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না। চাকরি পায় না। কারণ তারা প্রকৃত শিক্ষিত নয়। বই মুখস্থ করে এ+ পেয়েছে।
দেশ গবেষণা ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল। কালেভদ্রে দু-চারটি গবেষণা হলেও অভিযোগ ওঠে নকলের। আবার চাকরির বাজারের সাথে পঠিত শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিল না থাকায় অধিগত বিদ্যা কাজেও লাগাতে পারে না শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত হানাহানি মারামারি চলে শিক্ষাঙ্গনে। সহপাঠীকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে কোনো দ্বিধা জাগে না শিক্ষার্থীদের মনে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশ করেছে প্রকট রাজনীতি। ছাত্র ও শিক্ষকরা জড়িত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে। ফলে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেশনজট বাড়ছে। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে না। নিজের ঐতিহ্য আভিজাত্যের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হচ্ছে না। দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্দীপ্ত হচ্ছে না ছাত্রসমাজ।
জীবনে শিক্ষার সুফল দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রয়োজন শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন করা, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো। প্রয়োজন দেশপ্রেমমূলক বাঙালি জাতীয়তাবোধসম্পন্ন শিক্ষা। যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ করা দরকার।
কর্মসংস্থান একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম ধারক ও বাহক। সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। এর মধ্যে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ২৩ লাখ ৭৭ হাজার। তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অন্যরকম।
বিজয়ের ৫২ বছরে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি খাতে চাকরি বেড়েছে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় তা নিতান্তই অপ্রতুল। দেশব্যাপী নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। কাজ না পেলে তরুণসমাজ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে, যা স্বাধীন দেশের জন্য খুবই বেদনার।
একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি হলো দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বিদেশী বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশে প্রথম থেকেই চলছে বিভাজনের রাজনীতি। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ঐক্যের সৃষ্টি হয়নি। যখন কোনো দল ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা না করে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির পথ গ্রহণ করে তারা। আবার ক্ষমতায় যখন থাকে তখন যেন বিরোধী দলকে দমন করাই হয় তাদের অন্যতম নীতি।
কিন্তু এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃষ্টি কাড়ে। ১৯৭১ সালে দেশটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, সাহায্যনির্ভর, ঋণনির্ভর। সেই দেশটি আজ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশ। জাতীয় আয়ের প্রধান উৎস কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি দেশটি। উৎপাদনের কৌশল বাড়িয়ে তৈরী পোশাক রফতানিতে সাফল্য দেখিয়েছে। সাফল্য দেখিয়েছে জনশক্তি রফতানিতে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা ও নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। এর বিপরীত দিকও আছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কল্যাণে আমদানিনীতি উদার হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে প্রতিযোগিতা। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বৃহৎ শিল্পও হুমকির মুখে পড়েছে। ঋণখেলাপির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কালো টাকা অর্জনের প্রতিযোগিতায় বাড়ছে। ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধ করছে না। বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকায় অমিততেজে কালো টাকার পাহাড় গড়ছেন একশ্রেণির মানুষ। প্রতি বছর ব্যাংক থেকে লোপাট হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। লুটপাট চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজির ক্যাসিনো জুয়া চলছেই।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে রক্ষা করা দরকার। দরকার নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য নিরসন করা। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এনে রফতানি বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজন দেশজ শিল্পকে সমৃদ্ধ করা। কৃষির আধুনিকায়ন জরুরি। সম্পদের অসম বণ্টন রোধ করা দরকার। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। প্রয়োজন জালিয়াতি বন্ধ করা। বিনিয়োগের প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা, মানবসম্পদ পরিকল্পনা করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, পরিবেশ দূষণ রোধের উদ্যোগ নেয়া।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। শিক্ষানীতি, নারী উন্নয়ন নীতি, তথ্য অধিকার আইন, সড়ক নিরাপত্তা আইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতি, শিল্প নীতি, বাণিজ্য নীতি প্রবর্তিত হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য তেমন পরিবর্তন হয়নি। ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি আর নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিযোগিতার কারণে। সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে এবং গার্মেন্ট শিল্পনির্ভর কর্মসংস্থানের মধ্যেই জীবন সংগ্রাম করছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। সে বলয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কিছু মানুষ। সেখানেও আছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত। স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা যেমন করছে, তেমনি আছে সরকারি দলের কর্মীদের আধিপত্য বিস্তার প্রচেষ্টা, তাদের সীমাহীন দুর্নীতি। এই দলীয় লোকগুলো তাদের আচরণের মাধ্যমে সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। আয়বৈষম্য বেড়ে চলেছে। বেকারত্ব আর দারিদ্র্যে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলছে না। একশ্রেণির মানুষ অন্যায় পথে ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় ছুটে চলেছে। আর একশ্রেণির মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় নগরমুখী হচ্ছে।
আইনের শাসন নেই। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার দলাদলি অব্যাহত রয়েছে। একশ্রেণির জনগণের নিয়ম মানার মানসিকতা নেই। সাধারণ মানুষের অনেকেই এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
সরকারের বিভিন্নমুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই অবস্থার প্রধানতম কারণ সর্বগ্রাসী দুর্নীতি। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি ভাষণে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এত চোরের চোর। চোর কোথা থেকে যে পয়দা হয়েছে আমি জানি না। পাকিস্তানিরা সব নিয়ে গেছে; কিন্তু এ চোরগুলো রেখে গেছে আমার কাছে। এ চোরগুলো নিয়ে গেলে আমি বাঁচতাম।’
সে চিত্র আজো বদলায়নি। অর্থ লুটপাটকারী, বিদেশে অর্থপাচারকারী সিন্ডিকেট যেন বিশাল জাল বিস্তার করেছে। দিন দিন আমরা দুর্নীতির ঘেরাটোপে আটকে যাচ্ছি।
মোটা দাগে বলতে গেলে দেশের উন্নতি হয়েছে। তবে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নে ঝুঁকে পড়ার ফলে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিস্তর ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। সামনে নির্বাচন। রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। দিনের পর দিন অবরোধে জনজীবন অতিষ্ঠ।
ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সরকারের সাফল্য অপরিসীম। ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে দেশ এক নতুন জীবনধারার সাথে পরিচিত হয়েছে।
বৎসরাধিককালীন কঠিন দুর্যোগ সরকার ভালোভাবে মোকাবেলা করেছে। দেশে ভ্যাকসিন এসেছে সময়মতো। জনগণ টিকা গ্রহণ করেছে।
এই মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ধন্যবাদ জানাই বর্তমান সরকারকে। একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতির দেশকে আজ পৃথিবীর মানচিত্রে দাঁড় করাতে পেরেছে দূরদর্র্শী পরিকল্পনায় কারণে। যেটুকু সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা আছে তা থেকে উত্তরণ ঘটবে, ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠে সামনে এগিয়ে যাবে দেশ এই কামনা করি।
