স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যে বিজয় অর্জন তা মাত্র ৯ মাসের মরণজয়ী মুক্তি সংগ্রামের ভিত্তিতে হয়নি- ৯ মাসের আগের অনেক অনেক বছরের ছোট-বড় বহু ক্ষোভ, বেদনা ও বঞ্চনা একত্র হয়েই তা বিস্ফোরিত হয়েছিল। কী ছিল বিজয়ের আকিঞ্চন আকাক্সক্ষা? প্রথম ও প্রধান ছিল ঔপনিবেশিক শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি, সর্বত্র গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, ন্যায়বিচার, ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি ও প্রাপ্তি, সমতার ভিত্তিতে দেশ ও বিদেশের সম্মান, সমীহ ও মর্যাদা লাভ
কার্যকারণ ছাড়া কোনো কিছু যেমন ঘটে না, ঘটানো যায় না। প্রেরণা-প্রণোদনা-প্রত্যয় ছাড়া সুশাসিত-সৃজনশীল গঠনমূলক কিছু করা যায় না, তেমনি তার ভিত্তিতে অর্জিত বিজয় বা সাফল্য ধরে রাখতে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকতেও নেই। প্রবহমান সময়ের সাথে বোঝাপড়া করে এগিয়ে যেতেই হয় সেই বিজয়কে, সেই সাফল্যকে, সেই অর্জনকে অর্থবহ করতে, নতুবা বিজয় বাহ্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সে কারণে যেকোনো বিজয়ে বিজয় অর্জনকারীর ওপর নানাবিধ দায়িত্ব অর্পিত হয়, অনেক কর্তব্য কাঁধে চাপে- যা যথাযথ সম্পাদনের দ্বারা বিজয় বা সাফল্য অর্জনের সার্থকতা স্বব্যাখ্যাত হয়।
যেকোনো বিজয়, কেন ও কিসের ভিত্তিতে অর্জিত হয়েছে সেটি পর্যালোচনার প্রসঙ্গ এসেই যায়। সেই প্রেক্ষাপটে যে ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এই বিজয় তার বিচার-বিবেচনার বিশ্লেষণের বিষয়ও এসে যায়, কেননা, বিজয় পরবর্তী পরিবেশে বিজয়ের অর্জনকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো না হলে তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যে বিজয় অর্জন তা মাত্র ৯ মাসের মরণজয়ী মুক্তি সংগ্রামের ভিত্তিতে হয়নি- ৯ মাসের আগের অনেক অনেক বছরের ছোট-বড় বহু ক্ষোভ, বেদনা ও বঞ্চনা একত্র হয়েই তা বিস্ফোরিত হয়েছিল। কী ছিল বিজয়ের আকিঞ্চন আকাক্সক্ষা? প্রথম ও প্রধান ছিল ঔপনিবেশিক শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি, সর্বত্র গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, ন্যায়বিচার, ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি ও প্রাপ্তি, সমতার ভিত্তিতে দেশ ও বিদেশের সম্মান, সমীহ ও মর্যাদা লাভ।
পর্যালোচনায় প্রথমেই উঠে আসে এই বিজয় বিজয়ী জাতির জন্য কতটা নিরঙ্কুশ। এই বিজয় যদি বাইরের কারো বদান্যতা, সহায়তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহলে সে সহায়তার প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনিবার্য অবকাশ থাকবে। তাদের মহান আত্মত্যাগের যথা মর্যাদা যেমন দিতেই হবে, তেমনি এটিও দেখার বিষয় হবে- সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নের মাত্রায় কোনো হেরফের ঘটবে কি না, সেই কৃতজ্ঞতাবোধের কতখানি প্রভাব পড়বে নিজের মান-মর্যাদায়। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দ্বারা মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের অবদান আত্মস্থ করতে, সেই সাফল্য ধরে রাখতে দ্বিধান্বিত হওয়ার কোনো অবকাশ থাকবে না। একই যাত্রায় বিজয় অর্জনের জন্য রক্তদান অন্যের ঋণ পরিশোধের সাথে সমন্বয় হয়ে যায় কি না সেটিও উদ্বেগের বিষয়।
বাঙালির ঐতিহাসিক ‘মুক্তির সংগ্রাম’-এর প্রকৃত অর্জন বা বিজয় বিবেচনার জন্য বিগত ৫২ বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের প্রত্যয় ও প্রতীতির স্বরূপ পর্যালোচনার প্রসঙ্গটি স্বাধীনতা দিবসের ভাবনায় এসেই যায়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে গোটা দেশবাসীকে ভাববন্ধনে আবদ্ধকরণে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে কিংবা সংসারে এমনকি যেকোনো কায়কারবারে সবার সুচিন্তিত মতামত প্রকাশের সুযোগ, কর্তব্য পালনে দৃঢ়চিত্ত মনোভাব পোষণ, উদ্দেশ্য অর্জন তথা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোয় ঐকান্তিক প্রয়াসে সমর্পিত চিত্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস যেমন জরুরি মনে করা হয়, তেমনি জাতীয় উন্নয়ন প্রয়াস-প্রচেষ্টাতেও সমন্বিত উদ্যোগের আবশ্যকতাও একইভাবে অনস্বীকার্য। জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগে থাকা চাই প্রতিটি নাগরিকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবদান। অপচয় অপব্যয় রোধ, লাগসই প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থা অবলম্বনের দ্বারা সীমিত সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সবার মধ্যে অভ্যাস, আগ্রহ ও একাগ্রতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠা দরকার। নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ও উপলব্ধির জাগৃতিতে অনিবার্য হয়ে উঠে যে নিষ্ঠা ও আকাক্সক্ষা, তা অর্জনের জন্য সাধনার প্রয়োজন, প্রয়োজন ত্যাগ স্বীকারের। দায়-দায়িত্ব পালন ছাড়া স্বাধীনতার সুফল ভোগের দাবিদার হওয়া বাতুলতা মাত্র। ‘ফেল কড়ি মাখ তেল’ কথাটি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য এ জন্য যে, উৎপাদনে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করেই ফসলের ন্যায্য অধিকার প্রত্যাশী হওয়া স্বাভাবিক এবং সঙ্গত কর্ম ও ধর্ম নয়। কোনো কিছু অর্জনে বর্জন বা ত্যাগ স্বীকার যেমন জরুরি তেমনি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বাস্তবতা এ জানান দেয় যে ‘বিনা দুঃখে সুখ লাভ হয় কি মহিতে?’
যেকোনো অজুহাতে অপচয়-অপব্যয় তহবিল তছরূপ আত্মসাৎ যেকোনো সবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারাকেও করে দ্বিধান্বিত। বাধাগ্রস্ত। এসব রোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতিকে স্বয়ম্ভব করার মন্ত্র মানতে বিয়ের উৎসবে সামাজিকতার দোহাই দিয়ে নানান অনুষ্ঠানের নামে অর্থ অপচয়ে সংযমী হওয়ার যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। দিনের বেলায়ও রাস্তার বাতি জ্বালানো, ট্যাপের মুখ খোলা রেখে পানি অপচয়ের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ক্ষতির দিকটি বিদ্যুৎ আর পানি উৎপাদনে ব্যয়ের পরিমাণ বিবেচনায় এনে বুঝতে হবে। উপযুক্ত রূপে সন্তানকে সমাজে সুশীল ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে প্রেরণের নৈতিক দায়িত্বের কথা কোনো অভিভাবক উপেক্ষা করতে পারেন না। অফিসে, ব্যবসায়, সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যতটা সময় দেয়ার দরকার তা দিয়ে নিজের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার তদারকিসহ তাদের মানসিক বিকাশবান্ধব কর্মকাণ্ড দেখভাল করা বিশেষ বিবেচনায় আনা জরুরি। প্রত্যেক নাগরিকেরই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য স¤পর্কে সজাগ হওয়ার মধ্যেই সুখী এবং সমৃদ্ধশালী সমাজ ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের সুযোগ নিহিত। আগেই বলা হয়েছে, মানুষই তার পরিবেশের নিয়ন্তা। তাকে সজ্ঞান সচেতনতায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাধ্যমতো দায়িত্ব পালনের। সংসার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে তার নিজের অংশগ্রহণকে অর্থবহ করতে ঐকান্তিক নিষ্ঠা দরকার। সংসারে নানান বাদ-প্রতিবাদে মানুষ বেড়ে ওঠে, তার দায়-দায়িত্ব তদানুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং তা যথাযথভাবে পালনে সংসারের গতির চাকা সচল থাকে নির্র্দিষ্ট নিয়মে।
বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও কিংবা উন্নয়নকামী যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবায়নযোগ্যতার এবং বাস্তবায়নের দৃঢ়চিত্ততার বিষয় বিবেচনা অগ্রগণ্য না হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রয়াস নিশ্চিত হয় না। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য দূরদৃষ্টি রূপকল্প প্রণয়নকারীর, প্রগাঢ় প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ়প্রত্যয় প্রয়োজন হয়। সমস্যা গোচরে এলে ব্যবস্থা নিতে নিতে সব সামর্থ্য ও সীমিত সম্পদ নিঃশেষ হতে দিলে প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পুঁজি ও প্রত্যয়ে ঘাটতি তো হবেই। তেল আনতে নুন ফুরায় যে সংসারে সেখানে সমৃদ্ধির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। সমস্যারা পরস্পরের মিত্র একটির সাথে একটির যেন নাড়ির যোগাযোগ। আইনশৃঙ্খলার সাথে ব্যক্তি নিরাপত্তার, ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে সামাজিক নিরাপত্তার, সামাজিক নিরাপত্তার সাথে আয়-উপার্জনের সব কার্যক্রমের কার্যকরণ গত স¤পর্ক রয়েছে। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে চাই আয়-উপার্জনের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ। শিক্ষা, কর্মদক্ষতাকে, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মক্ষমতাকে, কর্মদক্ষতা ও কর্মক্ষমতা উৎপাদন এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে- এটিই প্রত্যাশা। সর্বত্র সেই পরিবেশের সহায়তা একান্ত অপরিহার্য যেখানে সীমিত সম্পদের ও সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব। একটিকে উপেক্ষা মানে যুগপৎভাবে অন্যান্য অনেক সমস্যাকে ছাড় দেয়া। সমস্যার উৎসে গিয়ে সমস্যার সমাধানে ব্রতী হতে হবে। এ কাজ কারো একার নয়, এ কাজ সবার। সমস্যার মোকাবেলায় প্রয়োজন সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা পরিপোষণের জন্য নয়। যেকোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য জনমত সৃষ্টিতে, আস্থা আনয়নে ও একাগ্রতা পোষণে গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। সংস্কার বাস্তবায়ন কোনো মতেই সহজসাধ্য নয় বলেই সর্বত্র দৃঢ়চিত্ততা আবশ্যক। এখানে দ্বিধান্বিত হওয়া দ্বিমত পোষণ কিংবা প্রথাসিদ্ধবাদী বশংবদ বেনিয়া মুৎসুদ্ধি মানসিকতার সাথে আপস করার সুযোগ থাকতে নেই।
বাংলাদেশের অর্থনীতি রাজনৈতিক-ভৌগোলিক অবস্থানের দ্বারাও বিশেষভাবে প্রভাবিত। বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ সীমান্ত ভারতীয় উন্মুক্ত ভূমি, নদী ও পাহাড়ে পরিবেষ্টিত, ৫ শতাংশ সীমান্ত মিয়ানমারের সাথে পাহাড়ি পথ এবং বাকি ২০ শতাংশ সীমান্ত বিশ্বের সেরা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনসহ সমুদ্র উপকূল-বঙ্গোপসাগর বিধৌত। বৃহতের পাশে ক্ষুদ্র একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পক্ষে স্বাধীন স্বয়ম্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা কিংবা মুক্তবাজার অর্থনীতির নির্দেশনা ও প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণে যে সমস্ত প্রতিকূলতা সচরাচর ঘটে থাকে, বাংলাদেশ তার থেকে ব্যতিক্রম নয় কোনো দিক দিয়েই।
প্রত্যাশা এই, দেশীয় শিল্প সম্ভাবনাকে উপযুক্ত প্রযত্নে প্রদানের মাধ্যমে স্বয়ম্ভর শিল্প ভিত্তি গড়ে তোলা যা দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ফিনিশড প্রডাক্ট তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং এর ফলে বিদেশী পণ্যের ওপর আমদানি-নির্ভরতা তথা মহার্ঘ্য বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে। দেখা গেছে, রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণ, কৃষিজাত পণ্যের উন্নয়ন ফান্ড জাতীয় মাল্টি সেক্টরাল প্রকল্পগুলোর টাকা অব্যয়িত রয়ে গেছে কিংবা কোথাও কোথাও অপব্যয়িত হয়েছে অপ্রয়োজনীয় খাতে ও ক্ষেত্রে। দেশীয় লাগসই প্রযুক্তি অনুসন্ধান ও গবেষণায় বিদেশী কনসালট্যান্টের পেছনে বিশেষজ্ঞ ব্যয়ে টাকা খরচ হয়েছে অথচ সমন্বয়ের অভাবে কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ সেক্টরের বেশির ভাগ প্রকল্পে বিনিয়োগে অর্জিত অগ্রগতি বা প্রভাব (রসঢ়ধপঃ) অনেক সময় দৃশ্যগোচর হয় না।
নিকট পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সাধারণ অর্থনীতির নিয়ম-কানুন ও স্বীকৃত প্রবণতা বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ঘাত-প্রতিঘাত ও ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তা সামাল দিতে গিয়ে বাজার অর্থনীতির নানামুখী পদ্ধতি প্রয়োগ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সময় দিতে হয়েছে। দেখা যায়, আমদানি ও রফতানির পরিমাণ জিডিপির অংশ হিসেবে ক্রমেই বৃদ্ধি পেলেও রফতানির মিশ্র প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। অস্থিতিশীল ও ভিন্নমাত্রিক ট্যারিফ স্ট্রাকচারের প্রভাব পড়েছে বহির্বাণিজ্যে ভিন্ন অনুপাতে। এতে বোঝা যায়, বিশ্ববাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্য সাধারণ সূত্র অনুসরণ করতে দ্বিধান্বিত হয়েছে। উৎপাদন না বাড়লেও সরবরাহ বাড়ার প্রবণতায় মূল্যস্থিতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে। আবার ইনফরমাল বর্ডার ট্রেডের ফলে দেশজ উৎপাদনের বিপত্তি ঘটেছে। ইনফরমাল ট্রেড বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্যের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অদৃশ্য এক ব্ল্যাক হোল হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশের আমদানিকৃত সামগ্রী অন্য দেশে পাচার হয়েছে আবার কোনো কোনো বিদেশী পণ্যের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে আরোপিত ট্যারিফে দেশী সামগ্রী উৎপাদন ব্যবস্থার স্বার্থের সাথে সঙ্ঘাত হয়েছে।
