আমার শীত-গ্রীষ্ম
আতিক হেলাল

দুই মাসে এক ঋতু
বারো মাসে বর্ষ
ঋতু আমি বুঝি না তো
বিষাদ কি হর্ষ।

গরমটা শেষ হয়ে
আসে দেখি ঠাণ্ডা
আমার তো কোনো মতে
বেঁচে থাকে জানডা।

ঋতুভেদে যা-ই হোক
রোদ কি-বা বৃষ্টি
আমি থাকি বাইরেই
নাই কারো দৃষ্টি।

সে কারণে আমার তো
নাই শীত-গ্রীষ্ম
দুই চোখে বারো মাস
দেখি একই দৃশ্য।

 


বই পড়ি
লাবনী খানম

বই আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু
চলার পথের জ্ঞানের দ্বার,
বইকে আমরা সঙ্গী করে
হাজার বাধা হবো পার।

বইকে সবাই ভালোবেসে
দিবা-নিশি পড়ে যাই,
বিশ্বমাঝে খ্যাতির শীর্ষে
পরিচিত হতে চাই।

অত্যাচার আর রাহাজানির
মানুষগুলো শিকার আজ,
নীতিকথা শিষ্টাচারে
আছে বইয়ের প্রতি ভাঁজ।

বই আমাদের সুখের বাতি
পরায় দারুণ জ্ঞানের তাজ,
যতই পড়ি ততই শিখি
জগৎ মাঝে করে রাজ।

জীবনটাকে গড়তে হলে
জ্ঞানী-গুণীর বই পড়ি,
মনের-কালি দূর হবে গো
জ্ঞানের আলোয় দেশ গড়ি।

 

এই সেই স্বপ্নকুঁড়ি
গোলাম আযম খান

খুব আদুরের স্বপ্নকুঁড়ি
গাছের শাখায় ফোটে,
সুবহে সাদিক হওয়ার আগে
শয্যা ছেড়ে ওঠে।

কলমিলতা ঝিলের ধারে
পুবাল হাওয়ায় দোলে,
আধো আধো বোলে কুঁড়ি
হাসে মায়ের কোলে।

নরম দেহে মৃগনাভির
গন্ধ শরীর জুড়ে,
মন উচাটন হয় যে আমার
থাকে যখন দূরে!

রংধনুর সাত রঙে
সাজাই মনের দেয়াল,
আদর্শবান মানুষ সে হয়
রাখি সেদিক খেয়াল।


নতুন বছরের পণ
মোখতারুল ইসলাম মিলন

নতুন বছর ফিরে এলো
নতুন রূপে সেজে,
সবার মনে খুশির বাজনা
উঠল যে তাই বেজে।

নতুন দিনের মিললো দেখা
নতুন ফোটা ফুলে,
আকাশ জুড়ে মেঘের ভেলা
খুশির বেশে দুলে।

নতুন দিনে পণ করি তাই
নতুন কিছু করি,
অতীত ভুলে ভবিষ্যতের
জন্য বাজি ধরি।

 


আমাদের গ্রাম
শাহীন খান

সবুজে শ্যামল ঘেরা আমাদের গ্রাম
অনাবিল সুখভরা আসে নীল খাম
পাই টেলিগ্রাম!

দীঘি ও খালের জল করে টলমল
গাছে গাছে ফুল ধরে ধরে কতো ফল
ঝরে জিভে জল!

পাখিদের গান শুনে ক্ষণ কেটে যায়
দখিনা বাতাস মনে মাদল বাজায়
কি যেন কি গায়!

মাঠে মাঠে চড়ে গরু ঘাস খায় রোজ
আলপথ ধরে ধরে হাঁস করি খোঁজ
হই যে নিখোঁজ!

রাখাল বাঁশির সুরে প্রাণ মাতোয়ারা
মাঝি মুখে ভাটিয়ালি খুব মনকাড়া
হৃদ দিশেহারা!

চাষি ভাই খেতে যান তড়িঘড়ি করে
ফসলের শোভা দেখে বুক যায় ভরে
খুশি অন্তরে!

রাতে জাগে চাঁদ তারা জোছনাটা ঢালে
ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলোবাতি জ্বালে
নাচে তালে তালে!

এ নিবিড় বন্ধনে খুশি সব লোক
সাতরঙ স্বপ্নটা দেখে যায় চোখ
শুভ কিছু হোক!