কোনো একসময় গণমাধ্যম বলতে শুধু খবরের কাগজকে বুঝাতো। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এসে গণমাধ্যম হিসেবে খবরের কাগজের একচেটিয়া প্রভাব ক্ষুণœ হতে থাকে। খবরের কাগজের পাশাপাশি বর্তমানে অন্যান্য গণমাধ্যমের আবির্ভাব ঘটলেও কিন্তু এখনো খবরের কাগজই হলো অন্যতম একটি গণমাধ্যম।
বর্তমানে গণমাধ্যম দুই ভাগে বিভক্ত। এর একটি হলো কাগুজে গণমাধ্যম আর অপরটি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম। দৈনিক খবরের কাগজ ছাড়াও সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ¥াসিক ও বার্ষিক খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, সাময়িকী, পুস্তিকা প্রভৃতি কাগুজে গণমাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম হিসেবে আমাদের কাছে রেডিও ও টেলিভিশন সুপরিচিত। এ দু’টি গণমাধ্যম আমাদের দেশে অতীতে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো। বর্তমানে আমাদের দেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে বেসরকারি মালিকানাধীন অসংখ্য রেডিও স্টেশন ও টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তির বদৌলতে এখন অনলাইন গণমাধ্যমও একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। তা ছাড়া অনেক সংবাদকর্মী বর্তমানে ইউটিউবের সাহায্যে টেলিভিশনের মতো অনুষ্ঠান প্রচার করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন। অধুনা সামাজিক গণমাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ও টুইটার খুবই জনপ্রিয়।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখন খবরের কাগজ একমাত্র গণমাধ্যম ছিল তখন খবরের কাগজের পক্ষে বিশ্বের কোথায় কখন কি ঘটছে এসব তুলে ধরে তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রকাশ সম্ভব হতো না। গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও ও টেলিভিশনের আবির্ভাবের পর হতে বিশ্বের যেকোনো স্থানে সংবাদ হওয়ার মতো যা কিছুই ঘটুক না কেন তা তাৎক্ষণিক প্রচারের মাধ্যমে শ্রোতা ও দর্শকদের জানানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে বেশির ভাগ খবরের কাগজ কাগুজে সংস্করণ ছাড়াও ইলেকট্রনিক সংস্করণ বের করে থাকে। ইলেকট্রনিক সংস্করণে সদ্য সংবাদ তাৎক্ষণিক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়।
খবরের কাগজ প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অনুরূপ প্রয়োজন ম্যাগাজিন বা সাময়িকী প্রচারের ক্ষেত্রেও রয়েছে। বেসরকারি রেডিও ও টিভি চ্যানেলে প্রচারণার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় হতে অনুমোদন নিতে হয়। আমাদের দেশে বর্তমানে রাজধানী শহর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহর থেকে শতাধিক দৈনিক খবরের কাগজ প্রকাশিত হয়। তবে ঢাকা থেকে দৈনিক যেসব খবরের কাগজ প্রকাশিত হয়, সেগুলোর পাঠক দেশব্যাপী বিস্তৃত। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক খবরের কাগজের সংখ্যা এক শ’র কাছাকাছি হলেও ১০-১২টি দৈনিক খবরের কাগজ রয়েছে যেগুলোর পাঠক সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ৪ লাখ অবধি। অবশিষ্ট খবরের কাগজের মধ্যে এমন অনেক খবরের কাগজ রয়েছে যেগুলো নামে দৈনিক হলেও প্রতিদিন প্রকাশিত হয় না। আবার প্রচার সংখ্যাও কয়েক শ’ অথবা ঊর্ধ্বে হাজারের বেশি নয়।
অনলাইন গণমাধ্যম হিসেবে যেসব পত্রিকা বের হয় এগুলো প্রকাশের জন্য এখন পর্যন্ত সরকারের অনুমোদন গ্রহণের বিধান প্রবর্তিত হয়নি। অনলাইন নিউজ পোর্টাল নামে প্রচারিত পত্রিকার সংখ্যা দৈনিক খবরের কাগজের চেয়ে অনেক বেশি এবং অনেক অনলাইন পত্রিকায় সদ্য সংবাদ তাৎক্ষণিক প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে।
আমাদের এ উপমহাদেশে এবং আমাদের দেশে দৈনিক খবরের কাগজের যখন যাত্রা শুরু হয়, তখন এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনা উভয় দায়িত্ব সাংবাদিকরা পালন করতেন। তখন খবরের কাগজের মালিকানা সম্পূর্ণরূপে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এসব খবরের কাগজ মালিকরা খবরের কাগজের প্রকাশনাকে কখনো লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করেননি। তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জন এবং সত্য ও ন্যায়ের সপক্ষে জনমত গঠন। ভারতবর্ষ বিভাজনের সময় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এসব খবরের কাগজ অনন্য অবদান রেখেছিল। খবরের কাগজে সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশ বৃদ্ধি পেতে থাকলে খবরের কাগজ লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয় এবং তা অনেক ব্যবসায়ীকে আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়। বর্তমানে আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা থেকে প্রকাশিত শীর্ষস্থানীয় যেসব খবরের কাগজ রয়েছে এগুলোর মালিকানায় রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। এরা সবসময় তাদের মালিকানাধীন খবরের কাগজকে লাভজনক হিসেবে দেখতে আগ্রহী। আর এ কারণে সরকার অসন্তুষ্ট হলে সরকারি বিজ্ঞাপন হাতছাড়া হয়ে যাবে এমন আশঙ্কায় তারা সরকার ও সরকারি দল বিষয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ প্রকাশের ক্ষেত্রে খুবই সজাগ। এমন অনেক সংবাদ ও প্রবন্ধ বস্তুনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও শুধু সরকার বিরাগভাজন হবে এ কারণে ছাপা না হওয়ার অসংখ্য উদাহরণ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বর্তমানে বেসরকারি বিজ্ঞাপনের প্রসার ঘটায় পত্রিকার বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে লাভজনকভাবে খবরের কাগজ প্রকাশের সুযোগ থাকলেও অধিক লাভের বিষয়টি অনেক সংবাদপত্র মালিককে এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে তারা কিছুতেই চান না সরকারি বিজ্ঞাপন তাদের হাতছাড়া হোক।
বেসরকারিভাবে পরিচালিত রেডিও স্টেশন ও টিভি চ্যানেলগুলো সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। এগুলোর বেশির ভাগই যাত্রা শুরুর কিছুকাল পর থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় দেশের বড় শিল্পোদ্যোক্তাদের অনেকেই এখন পত্রিকার মালিক এবং রেডিও স্টেশন ও টিভি চ্যানেলের মালিক হওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। এ ধরনের মালিকানা তাদের জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
আমাদের দেশে দৈনিক খবরের কাগজ ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল সরকারের জন্য বিব্রতকর এমন সব সংবাদ প্রকাশের কারণে সরকারের রোষানলে পড়ে বন্ধ হওয়ার বহু উদাহরণ রয়েছে। অতীতে দেখা যেত বন্ধ করার ক্ষেত্রে অনুমোদন বাতিল করে দেয়া হতো। কিন্তু অধুনা অনুমোদন বাতিল না করে ছাপাখানার ওপর প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে অথবা ক্যাবল অপারেটরদের মাধ্যমে প্রচারণা নিষিদ্ধ করে দৈনিক খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানেলের প্রচার ও সম্প্রচার অভিনবভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। খবরের কাগজ ও বেসরকারি টিভিতে প্রচারিত সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সরকারের বিবেচনায় তার জন্য বিব্রতকর এ কারণে পত্রিকার সম্পাদক এবং টিভি চ্যানেলের মালিককে আটকের ঘটনা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে অতীতে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বিরল হলেও সম্প্রতি উভয় চ্যানেলের ক্ষেত্রে আটকের ঘটনা ঘটায় সংবাদ পেশা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ দেশের সচেতন জনমানুষ উৎকণ্ঠিত।
প্রতিটি গণমাধ্যম তা কাগুজে বা ইলেকট্রনিক যা-ই হোক না কেন তার নিজস্ব নীতিমালা থাকে এবং এ নীতিমালা অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য এবং এর পাশাপাশি সত্য, গণমুখী ও ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশে সহায়ক হওয়া উচিত। সম্প্রতি দেখা গেছে, সরকারের একান্ত অনুগত দু-একটি কাগুজে, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম আমাদের দেশের একটি প্রধান দলের নেতার সাথে পার্শ্ববর্তী একটি বৃহৎ দেশের প্রধান দলের সভাপতির টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছে কি হয়নি এ নিয়ে স্বাভাবিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতাকে পাশ কাটিয়ে একপেশে ও পক্ষপাতিত্বমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এ বিষয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সচেষ্ট থেকেছে। এ বিষয়ে মালিকানার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে সংবাদকর্মীদের ইচ্ছা পরাভূত বিধায় বাস্তব জানা থাকা সত্ত্বেও তারা মালিকের ইচ্ছার বাইরে যেতে পারেন না। আর এ কারণেই দেখা গেছে, আমাদের দেশের প্রখ্যাত এক প্রাবন্ধিক যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী তিনি ঢাকায় অবস্থানকালীন কোনো এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালীন বলেন যে, ‘আমাদের দেশে বর্তমানে সম্পাদক নেই। আর সম্পাদক হিসেবে যারা আছেন তারা হলেন করপোরেটদের ম্যানেজার।’ সে দিন সভাস্থলে উপস্থিত তাৎক্ষণিক কেউ তার বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেননি এবং অদ্যাবধিও কেউ তার বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে কোনো সংবাদ বা নিবন্ধ প্রকাশ করেননি। সে নিরিখে তার বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠ নয় বা বাস্তবতাবিবর্জিত এমন ধারণা পোষণের অবকাশ নেই।
আমাদের এ দেশে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনাধীন থাকাবস্থায় সাংবাদিকদের মালিকানাধীন খবরের কাগজের ওপর সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বারবার প্রয়াস নেয়া সত্ত্বেও খবরের কাগজের মালিকরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন হতে পিছপা হননি। সে দিনও তাদের সামনে জেলজুলুমের ভয় ছিল। কিন্তু আত্মমর্যাদায় বলীয়ান সেসব অকুতোভয় সম্পাদক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের প্রতি অবিচল থেকে নিজস্ব আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। এ কথাটি সত্য নানাবিধ স্বার্থের দ্বন্দ্বে সম্পাদক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিকদের অনেকের মধ্যে অতীতের সেই আত্মত্যাগ, সততা, ন্যায়পরতা ও আদর্শ অনুপস্থিত।
অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রকাশনার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের বালাই না থাকায় এসব নিউজ পোর্টালের কয়েকটি বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা দেখিয়ে আসছে। এমন কয়েকটি নিউজ পোর্টাল রয়েছে যেগুলো বিদেশ থেকে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছে। বিটিআরসি বিদেশ থেকে পরিচালিত এরূপ কয়েকটি নিউজ পোর্টালের প্রচারণা বন্ধ করে দিলেও এর পরক্ষণেই দেখা যায়, এগুলো ভিন্ন নামে প্রকাশিত হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। সত্য শাশ্বত। শত চেষ্টা করেও সত্যকে চাপিয়ে রাখা যায় না। সত্য তার স্বমহিমায় ও আপনশক্তিতে প্রকাশিত হবে। আর বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যেখানে মোবাইল ফোনের সুবাদে সারা বিশ্ব একজন মানুষের হাতের মুঠোয় সেখানে মানুষকে সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বাতুলতা বৈ আর কিছু নয়।
গণমাধ্যম যেকোনো প্রকারেই হোক না কেন এর মূল শক্তি হলো সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকরা বর্তমানে দু’টি প্রধান দলের প্রতি অনুগত হয়ে এখন দ্বিধাবিভক্ত; অতীতে তাদের মধ্যে এ দ্বিধাবিভক্ত ছিল না। এ দ্বিধাবিভক্তি যে পেশাগত দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায়, সে প্রশ্নে কোনো বিতর্ক নেই। আর যেকোনো ধরনের অন্তরায় সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
সাংবাদিকরা সমাজের সবচেয়ে সচেতন অংশ। সাংবাদিকরা তাদের কলম, যাকে তরবারির চেয়ে অধিক শক্তিশালী ভাবা হয়, এর মাধ্যমে সমাজের অনিয়ম, অব্যবস্থা ও দুর্নীতি খবরের কাগজের পাতায় তুলে ধরে। সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রকাশনায় পাঠকের ওপর নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক প্রভাবই বেশি। খবরের কাগজের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনা এবং সংবাদ পরিবেশনা সাংবাদিক পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের ওপর থাকলে দেশের জনমানুষ যেভাবে বস্তুনিষ্ঠ, গণমুখী ও ইতিবাচক সংবাদ ও প্রবন্ধ পড়ার সুযোগ পাবে এর অন্যথা হলে তা থেকে বঞ্চিত হবে। আর এ বঞ্চনার কারণেই আজ নানা প্রশ্ন। আমাদের প্রত্যাশা নতুন বছরের অভ্যুদ্বয়ে প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করে আমরা গণমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার পথপানে এগিয়ে যাবো।
