ইউরোপের একটি ছবির মতো সুন্দর দেশ নরওয়ে। মানুষগুলো ছিমছাম, নির্ভেজাল ও হাসিখুশি। নরওয়ের রয়েছে বিশাল সমুদ্র উপকূল। এ দেশের অনেক মানুষ তাই মাছ ধরে। এ জন্য নরওয়েকে জেলেদের দেশ বলা হয়। নরওয়ের খোলা সাগরে ভেসে বেড়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে তিমির দল। তারা খেলা করে। অবাক করার মতো হলেও এটি সত্যি যে, তারা গানও গায়। সে গান অন্য তিমিরাও শুনতে পায় বহু দূর থেকে। বিজ্ঞানীরা তো এ কথাও বলেন যে, তিমিদের নিজস্ব ভাষাও আছে। তারা সে ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথাও বলে। আর যখন তখন সমুদ্রের বুকে ডিগবাজি খায়। তিমিরা দল বেঁধে চলে। আবার তাদের পরিবারও আছে। মা তিমি তার সন্তানকে ১৫ বছর পর্যন্ত নিজের কাছে রাখে। তারপর ছেড়ে দেয় স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার জন্য। তো আমাদের এ গল্পের তিমি শিশুটির নাম এ্যাবে। তার মা সিলোনি তাকে খুব আদর করত। খুব ভালোবাসত। কিন্তু যখন এ্যাবের বয়স ১৫ হয়ে গেল তখন তার মা সিলোনি তাকে স্বাধীন করে দিলো। সত্যি সত্যিই সিলোনি এটি চায়নি। কিন্তু সমাজের নিয়ম বলে কথা! তাই ছেলেকে না ছেড়ে তার উপায় ছিল না। এ্যাবে কয়েক দিন কান্না করতে করতে সমুদ্রে ভেসে বেড়াল। ধীরে ধীরে সমুদ্রের নানারকম মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর সাথে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়ে গেল। তাদের সাথে ভেসে বেড়িয়ে গল্প করে তার সময় ভালোই কাটতে লাগল। একদিন একটি রে-ফিসের সাথে সাঁতরাতে সাঁতরাতে সে চলে এলো নরওয়ের সমুদ্র উপকূলের খুব কাছে। সেখানে নরওয়ের রাজা হ্যানসনের রাজকীয় জাহাজ এমভি মার্টিনা নোঙর করা ছিল। রাজা এই জাহাজে চড়ে তার ভীষণ অসুস্থ ছেলে হ্যানসনকে নিয়ে ইংল্যান্ডে যাবেন উন্নত চিকিৎসা করাতে।
জাহাজটি এক সপ্তাহের মধ্যেই রওনা হবে। ছোট্ট তিমি এ্যাবে আগে কখনো জাহাজ দেখেনি। সে বিস্মিত হলো। আনন্দে সে বড় করে দম নিয়ে সমুদ্রে ডুব দিলো, একটু পরেই ভুস করে ভেসে উঠে আকাশের দিকে লাফ দিলো পানি ছিটাতে ছিটাতে। তখন এ্যাবেকে মনে হচ্ছিল একটি উড়ন্ত পানির ফোয়ারা। রাজপুত্র হ্যানসন তখন জাহাজের খোলা ডেকে দাঁড়িয়েছিল। খালাসিরা ছুটোছুটি করে জাহাজে প্রয়োজনীয় মালপত্র উঠাচ্ছিল। হ্যানসন তিমিটিকে দেখে ফেলল আর ওকে খুব ভালোবেসে ফেলল। সে তিমিটার উদ্দেশ্যে গান গেয়ে উঠল। গানটা কিন্তু ছোট্ট তিমি এ্যাবের খুব ভালো লাগল। সে প্রতিদিন রাজপুত্র হ্যানসনের সাথে দেখা করতে আসতে লাগল। একদিন রাজার সেনাপতি রবরয় তিমিটিকে দেখে ফেলল। সে হারপুন গান দিয়ে তিমিটির দিকে গুলি ছুড়ল। ছোট্ট তিমির চারপাশে রক্তে লাল হয়ে গেল পানি। ধীরে ধীরে সে সমুদ্রে তলিয়ে গেল। রাজপুত্র হ্যানসন ডেক থেকে সব কিছু দেখে চিৎকার করে সমুদ্রে দিলো ঝাঁপ । সে সাঁতার জানত না, তাই সেও সমুদ্রে তলিয়ে গেল। সমুদ্রে স্কুবা ডাইভার পাঠিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রাজপুত্রকে আর পাওয়া গেল না। শোনা যায়, আজো নরওয়ের জেলেরা যখন সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়, তখন তারা কখনো কখনো রাজপুত্রের করুণ কণ্ঠের গান শোনে। জেলেদের মন তখন রাজপুত্রের কথা ভেবে বিষণ হয়ে ওঠে।
ইউরোপের একটি ছবির মতো সুন্দর দেশ নরওয়ে। মানুষগুলো ছিমছাম, নির্ভেজাল ও হাসিখুশি। নরওয়ের রয়েছে বিশাল সমুদ্র উপকূল। এ দেশের অনেক মানুষ তাই মাছ ধরে। এ...
