স্মৃতি
গিয়াস হায়দার
অতীত স্মৃতি কাঁদায় ভীষণ
ইচ্ছে ফিরে যেতে
আর হবে না ছুটে চলায়
ছোট্টবেলা পেতে।
মেঘে মেঘে অনেক বেলা
বয়স হলো শেষ
খুঁজে চলি চিরবসত
কবর আমার দেশ।
স্মৃতির পাতায় ছোট্টবেলা
মধুর চেয়ে দামী
খেলা শেষে মায়ের কোলে
ছিলাম দিবসযামী।
মা যে ছিলেন ছোট্টবেলার
পুতুল খেলার সাথী
হাসি সুখে হাজার দুখে
রাখেন বুকে গাঁথি।
স্মৃতির পাতায় ছোট্টবেলা
হৃদয়জুড়ে বাজে
ইচ্ছে করে ফিরে যেতে
ছোট্টবেলার সাজে।
আমি হবো
সাকী মাহবুব
চাঁদ হবো চাঁদ হবো
ছড়াব আলো
দেশ থেকে চিরতরে
তাড়াব কালো।
ফুল হবো ফুল হবো
ছড়িয়ে সে ঘ্রাণ
সৌরভে ভরে দেব
সকলের প্রাণ।
পাখি হবো পাখি হবো
গাব ভালো গান
চারিদিকে ভরে দেব
সুখ অফুরান।
খুকু ও বিড়াল
আল আমিন মুহাম্মাদ
খুকুমণি বিড়ালকে খুব ভালোবাসে
খেতে দেয় দুধভাত শুতে নেয় পাশে।
গায়ে হাত বুলে দেয় তুলে দেয় মাছ
খেয়েদেয়ে বিড়ালের আহা রে কি নাচ!
মোবাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট
মাঝেমাঝে খেতে দেয় মুরগির রোস্ট।
ডাক দিলে ছুটে আসে নাম তার মিনি,
খুকু বলে, আমি তাকে খুব চেনা চিনি।
এক সাথে খেলি রোজ কি যে মজা পাই!
ইঁদুরের সাথে তার দোস্তি পাতাই।
পুতুলের ঘোমটাটা টেনে দিয়ে নিচে
বিড়ালের সাথে করি বিয়ে মিছে মিছে-
ধূলিভাত, কাদাপিটে, পানিডাল রাঁধি
বর যায় বউ যায় হেসে হেসে কাঁদি।
ভোরের পাখি হবো
হানিফ রাজা
সবার আগে ভোরের বেলা
জেগে উঠে আমি,
বলব সবে উঠো এখন
মেলে অন্তর্যামী।
সবার নিদ্রা ভাঙতে আমি
ভোরের পাখি হবো,
কিচিরমিচির মিষ্টি ডাকে
সবার হৃদে রবো।
সালাত শেষে নাস্তা সেরে
মক্তবেতে যাবো,
অধ্যবসায় করেই আমি
সফলতা পাবো।
ভোরের বাতাস গায়ে মাখলে
দেহ থাকে ভালো,
নিয়মিত শরীরচর্চা
আনে কাজের আলো।
ফেব্রুয়ারি ওদের
মেহেরুন ইসলাম
ফেব্রুয়ারি, ফেব্রুয়ারি
সবাই শুধু কয়,
বলো না মা এই মাসেতে
কীবা এমন হয়?
সবাই কেন ফুলের মালা
হাতে নিয়ে যায়?
মিষ্টি করে মিহিসুরে
গানও আবার গায়।
খোকন তুমি ছোট্ট বলে
জানো নাতো সব,
জানতে পারবে দিনে দিনে
বাড়বে অনুভব।
ফেব্রুয়ারির একুশে হয়
ভাষা আন্দোলন,
তোমার ভাইরা হাসিমুখে
দিয়েছে জীবন।
ওদের জন্য ফিরে ফিরে
ফেব্রুয়ারি আসে,
শ্রদ্ধা ও ফুল দিয়ে সবাই
ওদের ভালোবাসে।
দাদু ও দাদি
শেখ শান্ত বিন আব্দুর রাজ্জাক
আণ্ডা খেয়ে ঠাণ্ডা মাথা
গায়ে দিয়ে লেপ কাঁথা
কাঁপছে দাদু ভাই!
দাদি, লাল মরিচের ভর্তা খেয়ে
সাগর বইছে দু’চোখ বেয়ে
দেখার কেহ নাই!
আমি হলাম ছোট্ট খোকা
ভাইয়া হলো বোকাসোকা
মা বাবা নেই ঘরে!
দাদুর গায়ে ভীষণ জ্বর
কাঁপছে কেমন থত্থর
মরছি আমি ডরে!
ভালোবাসার চাদর
শাহজাহান মোহাম্মদ
খেজুরের গাছে গাছে ঝুলে রসে হাঁড়ি
প্রিয়জন শহর থেকে ফিরে গ্রামের বাড়ি।
পিঠা পুলি ক্ষীর পায়েস খেজুরের গুড়ে
পৌষের মেলা যে আর নয় বহুদূরে।
ফুটপাথে কত শিশু কাঁপে থরথর
বস্ত্রবিহীন থাকে তারা রাত দিনভর।
এসো মোরা মিলেমিশে করি তাদের আদর
মুক্ত হস্তে দিই বিলিয়ে ভালোবাসার চাদর।
