বিড়ালটি ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিল। দুপুর হয়ে গেল, তার পেটে কোনো খানা পড়েনি। সকাল থেকে হন্যে হয়ে খাবার খুঁজল, খাবারের ঘ্রাণটুকুও পেল না। পেটটা চোঁ চোঁ করছিল। ক্লান্ত হয়ে একটি গাছের গোড়ায় বসল। বিড়ালটি ভাবছিল যদি একটি ইঁদুরও ধরতে পারতাম, তাহলে মজা করে খাওয়া যেত। আজকের দিনটাই খারাপ যাবে না কি? এই বনে কত ইঁদুর ছিল, সারা দিন ছোটাছুটি করত, আজ যেন কোনো ইঁদুরই নেই।
ঝোপের কাছে এক চিলতে রোদ লুটোপুটি খাচ্ছিল। বিড়ালটির চোখ সেখানে পড়ল। লেজের মতো কিছু একটা দেখতে পেল। তার চোখ দুটি জ্বলজ্বল করে উঠল। এই বুঝি খাবারের সন্ধান পেয়ে গেল! মনে মনে খুশি হয়ে লেজের দিকে তাকিয়ে রইল। যদি সত্যিই লেজ হয় তাহলে নড়াচড়া করবে। খিদায় দেরি সহ্য হচ্ছিল না, তবুও কষ্ট করে অপেক্ষা করল। হঠাৎ লেজটি নড়ল, আর সে সন্তর্পণে গিয়ে লেজে কামড় বসাল। এমন কামড়ে লেজটি যেন প্রায় ছিঁড়ে গেল।
সেখানে ছিল একটি গর্ত। লেজটি ছিল গর্তের বাইরে। বিড়ালটি যতই টানে, লেজ ততই গর্তের ভেতরে ঢুকে। হাল ছাড়ল না, টানাটানি চলল অনেকক্ষণ। অবশেষে লেজটি বাইরে আসতে শুরু করল। এবার যতই টানছে, লেজ ততই বের হচ্ছে। এত বড় লেজ, ইঁদুরটি না জানি কত বড় হবে? পেট ভরে তৃপ্তি করে খাওয়া যাবে। বিড়ালটি শুধু খাওয়ার কথা চিন্তা করল, লেজের কথা চিন্তা করল না। ইঁদুরের লেজ এত বড় হয় না, খিদার তাড়নায় এটা তার মাথায় এলো না। বিড়ালটি গর্ত থেকে অনেকটা দূরে সরে গেল, আর তখনই গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো একটি মাথা, সাপের মাথা। সাপটি ফণা তুলল, ছোবল মারার আগেই বিড়ালের হুঁশ ফিরল। লেজ ছেড়ে দিয়ে পালানোর জন্য ছুট দিলো। অনেক দূরে গিয়ে পিছনে ফিরে তাকাল। ততক্ষণ সাপটি ঝোপের ভেতরে ঢুকে গেল। বিড়ালটি ভয়ে কাঁপতেছিল। সে কত বড় বোকামি না করল। শিকার করতে এসে একটু ভুলের জন্য নিজেই শিকার হচ্ছিল।