দুঃখে পরাণ ফাটে
মুস্তাফা ইসলাহী

একটি শিশু রাতে
নখগুলো সব কাটতো শুধু দাঁতে
শিশুর পেটে ঢুকলো অসুখ, কষ্ট ভীষণ তাতে।
একটি কিশোর খেতো
নোংরা বাসী খাবার যেটাই পেতো
শক্ত রোগে ধরল তারে, কাঁদে এখন সে তো।
একটি ছেলে দিনে
শুধুই বকে কোনো কারণ বিনে
বাঁচাল মদন বললে এখন সবাই তারে চিনে।
একটি খোকা হাঁটে
ঊর্ধ্বে চেয়ে রাস্তা বাজার ঘাটে
ট্রাকের গুতোয় ভাঙে কোমর দুঃখে পরান ফাটে।

 


প্রভুর সৃষ্টি
খালিদ বিন শাহিদ

রাত্রি বলে, চাই হতে চাই ফর্সা দিনের মতো
দেখব ঘুরে এই পৃথিবী নিত্য অবিরত।
দিনও বলে, সাধ জাগে হই রাত্রি নিকষ কালো
ভাল্লাগে না সত্যি আমার সূর্যমামার আলো।

আকাশ বলে, মনের খায়েশ মাটির সাথে মিশি
মাটির মতো ধৈর্য নিয়ে থাকি দিবানিশি।
স্বপ্ন জাগে মাটির বুকেও যাবে আকাশ নীলে
চাঁদ তারাদের সাথে প্রণয় বাড়বে তিলে তিলে!

নদী বলে, বাতাস হবো উড়ব সকাল সাঁঝে
পাখির সাথে তাল মিলিয়ে গাইব মাঝে মাঝে।
সুর ছড়িয়ে বাতাস তখন মুখ বাঁকিয়ে বলে,
চাই আমিও মিশে যেতে নদী সাগর জলে,

পূর্ণিমা চাঁদ এই সমাচার শুনতে পেল যবে
পুষছে আশা মনের গহীন আঁধার নাকি হবে!
সূর্যমামা এসব শুনে রাগে বেগুন তেলে
রাগের স্বরে বলতে থাকে আলোর প্রদীপ জ্বেলে,
‘আমরা সবাই সৃষ্টি প্রভুর চলবো তেমন করে
যেভাবে চান মালিক প্রভু সারা জীবন ধরে।’

 


বইমেলা
জাকির শায়েরী

রহিম, করিম-খোকা চলো বইমেলা
খেলবে না যে ধুলোবালির সই খেলা।

নতুন করে খুঁজে যারা সুখ ছড়া
তাদের বেশি ভালো লাগে বই পড়া।

মেলার ওপর কিছু বেলুন দেয় নাড়া
বইয়ের ভাঁজে কত কিছু মন কাড়া।

 


ফাল্গুনে শীত
মুহাম্মদ নূর ইসলাম

সূর্য মামা রাগ করেছে, কে দিয়েছে ঝাড়ি?
কদিন ধরে হিম কুয়াশার ভীষণ বাড়াবাড়ি
রোদ করেছে আড়ি!
তাই তো সে মুখ লুকিয়ে ঘুমিয়ে আছে বাড়ি
মাঘের মেয়ের হিম কন্যা করছে নজরদারি।
রোদের সাথে রোজ সকালে করত মারামারি!
ছিল খুবই বদমেজাজি তাই সে গেছে ছাড়ি।
ঢেলে দিলো উপুড় করে তার রাগের হাড়ি
বলছি যেতে, যাবে না সে এত তাড়াতাড়ি।
যখন হবে বিদায় নেয়ার হুকুমখানি জারি
মাঘ গেলেই ফাল্গুনে শীত জমাবে দূর পাড়ি।

 


ফুলের সাথে কথা
শাহজালাল সুজন

রাতের গগন তারায় ভরা
জ্যোৎস্না মাখা চাঁদ,
চাঁদের আলোয় এই ধরাতে
পাতছে যেন ফাঁদ।

হাঁটছি আমি পথের বাঁকে
পাশে সবুজ বন,
মৃদু আলোর পরশ পেয়ে
নেচে ওঠে মন।

ছাতা মাথায় তালগাছ টাতে
ডাকে যেন কেউ,
আলো আঁধার সন্ধিক্ষণে
হঠাৎ দেখি ফেউ।

দীঘির জলে শালুক ভাসে
সাথে ঢেউয়ের ভাঁজ,
রক্তজবা পাশের ঝোঁপে
ধরছে বধূর সাজ।

রূপের নেশায় মত্ত হয়ে
পড়ি ছড়ার বই,
দীঘির জলে ফুলের কাছে
মনের কথা কই।