আমার দেশ
ফরিদ সাইদ

বাড়ির পাশে সবুজ ঘাসে
পাখপাখালির মেলা
দখিন কোণে বনের মাঠে
খোকা-খুকুর খেলা।

নয়নজোড়া সোনার ফসল
চাষির মুখে হাসি
গাঁয়ের সোঁদা মাটির সুবাস
সবাই ভালোবাসি।

নদীর বুকে জেলের জালে
পাপদা পুঁটি ধরে
সুখের ছোঁয়া লেগে থাকুক
বাংলাদেশী ঘরে।


সৃষ্টি প্রভুর
খালিদ বিন শাহিদ

রাত্রি বলে, চাই হতে চাই ফর্সা দিনের মতো
দেখব ঘুরে এই পৃথিবী নিত্য অবিরত।
দিনও বলে, সাধ জাগে হই রাত্রি নিকশ কালো
ভাল্লাগে না সত্যি আমার সূর্যমামার আলো।

আকাশ বলে, মনের খায়েশ মাটির সাথে মিশি
মাটির মতো ধৈর্য নিয়ে থাকি দিবানিশি।
স্বপ্ন জাগে মাটির বুকেও যাবে আকাশ নীলে
চাঁদ তারাদের সাথে প্রণয় বাড়বে তিলে তিলে!

নদী বলে, বাতাস হবো উড়ব সকাল সাঁঝে
পাখির সাথে তাল মিলিয়ে গাইব মাঝে মাঝে।
সুর ছড়িয়ে বাতাস তখন মুখ বাঁকিয়ে বলে,
চাই আমিও মিশে যেতে নদী সাগর জলে,

পূর্ণিমা চাঁদ এই সমাচার শুনতে পেল যবে
পুষছে আশা মনের গহিন আঁধার নাকি হবে!
সূর্যমামা এসব শুনে রাগে বেগুন তেলে
রাগের স্বরে বলতে থাকে আলোর প্রদীপ জ্বেলে,
‘আমরা সবাই সৃষ্টি প্রভুর চলবো তেমন করে
যেভাবে চান মালিক প্রভু সারা জীবন ধরে।’

 

দুষ্ট এডিস
মো. রতন ইসলাম

এডিস মশা এডিস মশা
পুরুষ নাকি লেডিস মশা?
তেড়ে আসে দস্যি হয়ে
ধরা পড়ি নস্যি হয়ে

দিনদুপুরে হামলা করে
যায় না রোখা মামলা করে
রোগ ছড়ানো সৈন্য ওরা
শরীর করে দৈন্য ওরা

কামড়ে করে রক্ত শোষণ
গায়ে ঢালে বিষের লোশন
মাত্রা ছাড়া জ্বর চাপিয়ে
শরীরটাকে যায় কাঁপিয়ে

পোষা প্রাণীর জলের পাত্র
জন্মে তাতে দিন কী রাত্র?
ভাঙা বোতল টবে বসত
নোঙরাপানি ওদের রসদ

ওদের রোখার বর্ম আছে?
বুদ্ধিদীপ্ত কর্ম আছে
জল জমানো বন্ধ করি
পরিচ্ছন্ন জীবন গড়ি।

 


অনাহারের ভীতি
সুপদ বিশ্বাস

আষাঢ় গেল শ্রাবণ এলো যায় না মেঘের দেখা
কেউ জানে না ধান চাষিদের ভাগ্যে কী যে লেখা
শুকিয়ে গেছে ধানের চাতর
জলের আশায় বড্ড কাতর
বিলজুড়ে ঠিক চেয়ে আছে কষ্টে ফাটল রেখা!

একটু আকাশ আঁধার হলেই আশা জাগে মনে
চাষির মুখের সেই হাসিটাই হারায় কিছুক্ষণে
মেঘকে যেন করছে তাড়া
এক নিমিষেই নাগাল ছাড়া
এবার ফসল হবে কি না? ভাবছে প্রতিজনে!

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে নির্ভরতা ধানে
বর্ষাকালের আমনধানে দারুণ সুফল আনে
কম খরচে আমন ফলে
কারো ডোবে বৃষ্টি জলে
অতিমাত্রায় হলে তবে সব ভেসে যায় বানে!

কত মানুষ করছে মানত হচ্ছে না তাও বৃষ্টি
যাচ্ছে দেখা ফসলবিহীন যায় যতদূর দৃষ্টি
থমকে যাবেই অর্থনীতি
অনাহারের বাড়বে ভীতি
কেমনে হবে আশেপাশেই বন-বনানীর সৃষ্টি?

বৃষ্টি কেনো হচ্ছে না আর চলতি বর্ষাকালে?
মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে দোষ জালে
যায় না দেখা ছয়টি ঋতু
না হয় যদি কর্মে থিতু
ভুগবে মানুষ পদে পদে বেজায় কষ্ট ভালে!