রাত গভীরে যখন সবাই ঘুমিয়ে গেছে তখন একঝাঁক বাদুড় এসে কালু উদ্দিনের লিচুবাগানে পড়ে কেতকেত করে লিচু খেয়ে বিচিগুলো নিচে ফেলছে।
গাছের নিচেই কয়েকটি শেয়াল গল্পগুজব করছিল নিজেদের মধ্যে। তাদের উপরে লিচুর বিচি এসে টুপটুপ করে পড়েছিল। শেয়ালগুলো বুঝতে পারছিল না কী পড়ছে তাদের গায়ের উপর। শেয়ালগুলোর মধ্যে একটি শেয়াল বেদরকারে বেশি কথা বলে। সেই শেয়ালটির নাম টাকুরটুকুর। সে বলে কিরে বাগানে কি যুদ্ধটুদ্ধ লেগে গেল নাকি? এভাবে আমাদের উপর কী এসে পড়ছে? অন্য একটি শেয়াল বলছে, আরে কী বলিস আবোলতাবল! যুদ্ধ লাগলে তো বোমা বা গুলি এসে তোর টকটক করে বেশি কথা বলা ছাড়িয়ে দিত। এসব তো ছোট লিচুর বিচির মতো মনে হচ্ছে। গন্ধও লাগছে পাকা লিচুর মতো। আর এক শেয়াল বলে তাই তো আমি তো একটি লিচু পেয়ে গেলাম, খেয়ে দেখি কেমন লাগে! এই বলে সে লিচুটি খেয়ে বলে বেশ তো ভারি মজা! এরপর অন্য এক শেয়াল একটি লিচুর বিচি তুলে কামড়ানো শুরু করে দিয়ে বলে, কিরে তোরা কী বলিস? আমি তো কোনো স্বাদ-গন্ধ পাচ্ছি না কেবল খটখট করছে শুধু। রসকষ কিছুই পাচ্ছি না মজা তো দূরের কথা! তোরা কি সব মিথ্যা বলছিস আমাকে? শেয়াল টাকুরটুকুর বলে আমি একটি খেয়ে দেখি কেমন লাগে। এই বলে আর একটি তুলে মুখে দিয়ে বলে বেশ তো মজা এটা তো লিচুর ফলই মনে হচ্ছে।
যে শেয়ালটি লিচুর বিচি তুলে মুখে দিয়েছিল তার নাম ছিল হুনশান। সে বলে তুই তো বেশি কথা বলে সবখানের পরিবেশটাই নষ্ট করে দিস। আমি কি তা হলে মিছে বলছি? তখন হুনশান বলে তোর মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। তুই তো বেশি মুরগি ধরে খেয়ে খেয়ে ফলমূল আর মজা লাগে না। তুই এসব খাওয়া বাদ দিয়ে মুরগি ধরে ধরে খা গিয়ে। আর কুকুরের তাড়া খেয়ে বসে বসে হাঁপা। হুনশান এসব কথা শুনে জোর গলায় বলে ওঠে বেশি বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিন্তু! এই বলে জোর গলায় বলে ওঠে হুক্কাহুয়া কা কা কা খা খা! শেয়ালের এমন ডাক শুনে লিচুগাছের সব বাদুড় ভয়ে উড়ে যায়। লিচুর মালিক একটি বড় বাঁশের লাঠি নিয়ে এসে বেশি কথা বলা শেয়াল টাকুরটুকুরের কোমরে কশে এক বাড়ি মেরে ধরাশায়ী করে দেয়! এ অবস্থা দেখে বাকি শেয়াল দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে লিচুবাগানে বাদুড়ও আসে না শেয়ালও আসে না।