হৃদয়ে ফাগুন
আর কে শাব্বীর আহমদ
ফাগুন মানে শিমুল পলাশ রঙ মাখানো দিন
কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে মধুর কেকার বীণ।
চোখ জুড়ানো মন মাতানো আমের মুকুল ঘ্রাণে
বসন্তেরই উদাম হাওয়ায় নতুন জীবন আনে।
ফুল কলিরা উঁকি মারে হৃদয় কাননজুড়ে
সুখহারা ওই সুখপাখিরা নীল গগনে ওড়ে।
ফাগুন দিনের দখিন হাওয়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যায়
নিরন্ন আর দীন দুখিরা খোদার রহম পায়।
ফাগুন আসুক ঘরে ঘরে দ্রোহের আগুন নিয়ে
মিথ্যার আগল খাক হয়ে যাক সত্য থাকুক জিয়ে।
ঘর পেরুলেই মায়াবন
রফিকুল নাজিম
মায়ার গাঙে পাল তুলেছি ঢেউ করেছে তাড়া,
তুমি নামের তসবিহ জপে আমি দু’কুল হারা।
অতল জলে ঘূর্ণি হাওয়া উঠলো ফুঁঁসে পানি,
অবাক চোখে পাড়ার লোকে করছে কানাকানি।
মায়ার সায়র দীর্ঘ ভীষণ কেমনে দেবো পাড়ি
ঢেউয়ের পাহাড় পাড়ি দিয়ে ফিরবো কবে বাড়ি?
প্রেমে পড়লে-যমুনার জল ঘোলা হলেও ভালো
রাতের আকাশ জোসনা বিলাস মুছে দিয়ে কালো,
তোমার ঘাটে নাও ভিড়িয়ে যদি তোমায় পাই গো
উজান গাঙের ঢেউ মাড়িয়ে শুধু তোমায় চাই গো।
মাহে রমজান
আসাদুজ্জামান আসাদ
কোমল হাওয়া বইছে পানে
আসছে খুশির দিন,
বিবাদ-ঘৃণা দাও নিভিয়ে
মেটাও প্রীতির ঋণ।
রোজার দিনে সবাই মিলে
চাও দোয়াতে সব,
আপদ-বিপদ নেবেন কেড়ে
তিনিই আমার রব।
প্রিয় মাতৃভূমি
শাহজালাল সুজন
এই দেশেতে জন্ম আমার
ধন্য মায়ের কোল,
আদর করে শেখায় মায়ে
মাতৃভাষার বোল।
মা মাটি দেশ নিখাদ খাঁটি
কাঁচা মাটির ঘর,
সবুজ ঘেরা বনবাদাড়ে
শুনি পাখির স্বর।
মাঠে ভরা সোনালি ধান
দেখতে লাগে বেশ,
রাখাল ছেলে মাঠের ধারে
চরায় গরু মেষ।
পাকা ধানের গন্ধ ভাসে
জুড়ায় কৃষক মন,
গানের সুরে নদীর স্রোতে
মাঝির কাটে ক্ষণ।
কলসি কাঁখে গাঁয়ের বধূ
ভরে নদীর জল,
ল্যাংটি এঁটে গোসল করে
গ্রামের কিশোর দল।
