বর্ষাকালে আকাশে কখনো সূর্যের হাসি আবার কখনো ঘন কালো মেঘ। যখন তখন বৃষ্টি আসে। রাতুলের মনটা খুব খারাপ এবারো বুঝি ওর ছাতা কেনা হলো না। রাতুলের খুব ইচ্ছে বর্ষাকালের ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যাবে। বন্ধুরা সবাই ছাতা নিয়ে আসে দেখতে কত সুন্দর লাগে। লাল নীল কালো বাহারি রঙের ছাতা রাতুল অপলক দৃষ্টিতে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে থাকে আর কল্পনায় নিজেকে বৃষ্টিতে ছাতা নিয়ে খেলতে দেখে।
রাতুলের মনটা খুবই খারাপ কি করবে তিন বেলা পেট ভরে ভাতই জোটে না কপালে। বাবা সারা দিন রিকশা চালিয়ে বাসায় ফেরে তখন ছাতার কথা বলতেও রাতুলের খুব খারাপ লাগে। নিজের ইচ্ছেগুলোকে গোপন করে রাখে আর ভাবে আল্লাহ তুমি আমাদের কেন এমন করে রাখলে? ভাবতে ভাবতে রাতুল ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতুল স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। রাতুল পলিথিন মাথায় দিয়ে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
বাবা পেছন থেকে ডাক দিল রাতুল এদিকে আয়তো বাবা, ধর এই ছাতাটা নিয়ে স্কুলে যা। অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম তোকে একটা ছাতা কিনে দিবো। কালকে আমার রিকশায় এক ম্যাডাম উঠেছিল সে আমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে এই ছাতা দিয়েছিল।
আনন্দে রাতুলের চোখে জল এসে গেল ছাতাটা দেখে, রাতুল খুশি হয়ে এক দৌড়ে ছাতা নিয়ে স্কুলে চলে গেল।
জীবনে কিছু কিছু প্রাপ্তি এমন করে আসে যা হাজার টাকা দিয়েও কেনা যায় না। শুধু সুখ স্মৃতি হয়ে মস্তিষ্কের গভীরে আজীবন থেকে যায়। রাতুলের বেলায়ও তাই হলো। ছাতা পেয়ে ঘন বর্ষায় রাতুলের মনে নামলো আনন্দের একপশলা বৃষ্টি। উঠল সাতরঙা রংধনু।