গাছপালায় ঘেরা সুন্দর এক বন। নাম তার মায়াবন। বনের সৌন্দর্যের কারণেই এমন নাম রাখা হয়েছে। সে বনে বাস করত দুটো কাঠবিড়ালি। একটি ছিল ভীষণ কর্মঠ, আরেকটি ছিল ভারী অলস।
তখন হেমন্তকালের মাঝামাঝি সময়। ঋতু পরিবর্তনের কারণে মায়াবনের গাছপালায় বেশ পরিবর্তন শুরু হলো। ছোট-বড় সব গাছের পাতা হলুদ হতে লাগল। এরপর ধীরে ধীরে তা ঝরে যেতে শুরু করল। মৃদু বাতাসে পাতার সাথে গাছের ফলগুলোও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ত চার দিকে। এভাবে মায়াবনে শীত আসার আগেই মায়াবন থেকে গাছের পাতা, ফল সব শেষ হয়ে যেতে লাগল।
কর্মঠ কাঠবিড়ালি জানত, ক’দিন পরই শীত আসবে। তখন ইচ্ছে থাকলেও খাবার খুঁজতে বের হওয়া যাবে না। তাই আগামী কয়েক মাসের খাবার সংগ্রহ করে রাখাই এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। নয়তো তখন না খেয়েই মরে যেতে হবে।
সে কাঠবাদাম খুব পছন্দ করত। তাই গাছ থেকে পড়ে যাওয়া সেই ফলগুলো থেকে বেছে বেছে কাঠবাদাম সংগ্রহ করতে শুরু করল। বাদামগুলোকে তার বাসায় এনে লুকিয়ে রাখত। এভাবে জমা করতে করতে অনেক বাদাম জমা করে ফেলল। টানা কয়েক দিন কাজ করায় কাঠবিড়ালির বেশ কষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু তবুও তার মুখে হাসি ছিল। কারণ সে তার প্রয়োজনমতো খাবার জমা করে ফেলেছে। এখন শীত এলে বা ঝড়বৃষ্টি হলে খাবারের জন্য তার কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
অন্য দিকে অলস কাঠবিড়ালি তখনো সতর্ক হয়নি। সারাদিন বনে বনে ঘুরে বেড়াত। শীত আসার আগে খাবার জমা করার বিষয়টিকে সে মোটেও গুরুত্ব দিলো না। সে ভাবল, যখন শীত আসবে তখন দেখা যাবে। এভাবে দিন যেতে যেতে একপর্যায়ে শীত চলে এলো। যখন দেখল শীত চলে এসেছে তখন অলস কাঠবিড়ালির হুঁশ ফিরে এলো। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেল। শীতে বাইরে বের হওয়া এবং খাবার খুঁজে পাওয়া দুটোই খুব কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়াল। তাই কী করবে কিছু ভেবে পাচ্ছিল না।
অনেক ভাবার পর তার মাথায় এক দুষ্ট বুদ্ধি এলো। সে ঠিক করল, কর্মঠ কাঠবিড়ালির বাসার কাছে লুকিয়ে থাকবে। যখন সে বাসা থেকে বের হবে। তখন চুপটি করে বাসায় ঢুকে তার জমানো বাদামগুলো চুরি করবে। যেই ভাবা সেই কাজ। তার পর থেকে সে তার বাসার কাছে অপেক্ষা করতে লাগল।
একবার কর্মঠ কাঠবিড়ালি কোনো এক কাজে বাসা থেকে বের হলো। অলস কাঠবিড়ালি এ সুযোগটাকে কাজে লাগাল। চুপটি করে তার বাসায় ঢুকে পড়ল।
কর্মঠ কাঠবিড়ালি কাজ শেষ করে যখন বাসায় ফিরে এলো তখন দেখল অলস কাঠবিড়ালি তার বাসায়। তার জমানো বাদামগুলো একটা ঝুলির ভেতর ঢুকাচ্ছে। এটি দেখে সে খুব রেগে গেল এবং তাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলল। কিন্তু অলস কাঠবিড়ালি কোনো কথাই শুনল না। তার কথা একটাই। বাদাম না নিয়ে সে কোথাও যাবে না।
এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ঝগড়া হলো। তখন পাশ দিয়ে একটি কচ্ছপ যাচ্ছিল। সে তাদের উভয়কে ঝগড়া করতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করল। সব ঘটনা শুনে কচ্ছপটি অলস কাঠবিড়ালিকে বলল, সে কষ্ট করে এই বাদামগুলো জমা করেছে। এগুলো তো তারই। তুমি কেন নেবে? এটি তো ভারী অন্যায়।
অলস কাঠবিড়ালি মাথা নিচু করে চুপ করে রইল।
এরপর কচ্ছপটি বলল, তোমার ব্যাগে যে বাদামগুলো রেখেছ তা বের করে তাকে বুঝিয়ে দাও। আর তার সাথে যে অন্যায় আচরণ করেছ সে জন্য ক্ষমা চাও।
অলস কাঠবিড়ালি তখন কর্মঠ কাঠবিড়ালিকে বলল, আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আর কখনোই আমি এমন করব না। এখন থেকে নিজের কাজ যথাসময়ে নিজেই করব। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
কর্মঠ কাঠবিড়ালি বলল, তুমি মন খারাপ করো না। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তুমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছ এটিই অনেক। আর শোনো, আমার কাছে একটি জায়গার খবর আছে। সেখানে এখনো কাঠবাদাম পাওয়া যায়। চলো তোমাকে সেখানে নিয়ে যাই। আমিও তোমাকে সহযোগিতা করব।
তার পর দু’জন মিলে খাবার সংগ্রহ করার কাজে লেগে পড়ল। আর কচ্ছপটিও খুশি মনে তার বাড়ি ফিরে গেল।
গাছপালায় ঘেরা সুন্দর এক বন। নাম তার মায়াবন। বনের সৌন্দর্যের কারণেই এমন নাম রাখা হয়েছে। সে বনে বাস করত দুটো কাঠবিড়ালি। একটি ছিল ভীষণ কর্মঠ,...
