ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের প্রায় ১১ জেলায় হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যা। এমন বন্যা জীবনে আর কখনোই দেখা যায়নি। ক’টি জেলা পানির নিচে পড়ে গিয়েছিল । মারা গেছে মানুষ। অতিবৃষ্টি ও ভারতীয় ডম্বুর বাঁধ ছেড়ে দেয়ার কারণে এই বন্যা। কেউ কেউ তো একে জলসন্ত্রাসও বলেছেন। ভয়াবহ এই বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করেছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। এত ক্ষয়-ক্ষতি ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মধ্যে কিছু ঘটনা আশা জাগিয়ে তুলেছে। তা হলো- দেশের মানুষ পঙ্গপালের মতো বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য যার যা কিছু আছে তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। অভিভাবকদের অনুপ্রেরণায় যে দৃশ্যগুলো আশার, উৎসাহমূলক ও প্রেরণামূলক, মুগ্ধকর তা হলো- শিশুরাও এই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পরম যতেœ মাটির ব্যাংকে, প্লাস্টিকের ব্যাংকে, ডিপোজিটে, দীর্ঘ দিনের জমানো টাকা হাসিমুখে খুশির সঙ্গে বানভাসিদের জন্য দিয়ে দিয়েছে। আবার কী চমৎকার করে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিয়েছে এই ফুলকলিগুলো। যা দেখে হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে গেছে।
একটি অবাক ঘটনা ঘটেছে, একটি শিশু ওমরাহ করার জন্য ৯ হাজার টাকা জমিয়েছিল। অভিভাবকের সাথে গিয়ে বন্যায় দুর্গতদের জন্য ওই জমানো টাকা পুরোটাই দিয়ে দিয়েছে। মানবসেবায় দান করা মানে আল্লাহকে ঋণ দেয়া। আর আল্লাহ তায়ালা তার বিনিময় অনেক বড় করে দিয়ে থাকেন।
মজার বিষয় হলো- ওই শিশুটি তার টাকা দান করার ২৪ ঘণ্টা আগেই পাকিস্তানি একজন মানুষ শিশুটিকে ওমরাহর দাওয়াত দেয়। অর্থাৎ শিশুটির ওমরাহ করার যাবতীয় খরচ তিনি বহন করবেন।
এদিকে ভোলার এক এজেন্সিও তাকে খুঁজছে, ওই এজেন্সি শিশুটিকে আল্লাহর ঘর মক্কায় নিয়ে যেতে চায় ওমরাহ করার জন্য। কী সৌভাগ্যবান এই শিশুটি। ঘরে ঘরে তৈরি হোক এমন হাজারো শিশু।
আরেকটি ঘটনা হলো- ছোট্ট ভাই, আবু হুরাইরা ও আবু হুজাইফা। দুই ভাইয়ের জমানো ২৯ হাজার টাকা বন্যায় ডুবে যাওয়া মানুষের সেবায় বিলিয়ে দেয়। বাবা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে টাকা ও তাদের ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়। এটি দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়। পরে দেখা যায়, অনেক শিশুই নিজের জমানো ঈদ সালামি, টিফিনের টাকা, আরো নানা খাতের জমানো টাকা, ব্যবহৃত-অব্যবহৃত নতুন-পুরাতন কাপড়, দোকানের নানা সামগ্রী অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে বন্যায় বিপদগ্রস্ত মানুষের সেবায়। এই ফুলকলিদের জন্য এক আকাশ ভালোবাসা। কোনো প্রাপ্তির আশায় নয়, সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষের বিপদে দেশের জন্য, দশের জন্য, উজাড় করে দিয়ে সবার ঝাঁপিয়ে পড়া, প্রতিযোগিতামূলক ত্রাণসহায়তা, এই যে আন্তরিকতাপূর্ণ ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর তৃপ্তিদায়ক দৃশ্য দেখে মনে হয় এদেশ আসলে হারার নয়। দরকার শুধু সৎকর্ম ও ঐক্যবদ্ধ আলোকিত অভিযান।
ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের প্রায় ১১ জেলায় হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যা। এমন বন্যা জীবনে আর কখনোই দেখা যায়নি। ক’টি জেলা পানির নিচে পড়ে...
