গত দুই সপ্তাহ ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের চলছে। অনেক অভিযোগের মধ্যে খুনও রয়েছে। মামলা অনেক।
কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হাইকোর্টের একজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং সাংবাদিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন যারা বিভিন্ন পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় প্রথমে আটক হয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার যখন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন কোনো কোনো সাংবাদিক আওয়ামী লীগ ও তার জোটের নেতাদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়েরের ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন মতের মানুষের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও বলছেন। ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন স্থানে ও স্তরে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করা রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।
এরকম বলা মনে হয় দোষের কিছু নয়। তবে প্রশ্ন উঠছে- এই প্রচারণার সময় এবং যাদের পক্ষে তারা কথা বলছেন তা নিয়ে। সাথে সাথে তারা কিছু গোষ্ঠীর কাজে অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করছেন যারা ৫ আগস্টের ছাত্র-গণবিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে লাভবান হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর সবেমাত্র তিন সপ্তাহ পার হয়েছে। কেউ অবশ্যই অতিরিক্ত বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দিতে পারেন না। তবে সবাইর মনে রাখা উচিত, এটি স্বাভাবিক পরিবেশের মতো অবস্থা নয়। সংবাদ মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণ-আন্দোলনের সময় গণহত্যয় কমপক্ষে ৬৫০ জন নিহত ছাত্র-জনতার চরম মূল্যে এই পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, ১৭ বছরের পদ্ধতিগত রাজনৈতিক নিপীড়ন যার জন্য হাজার হাজার গোপন, প্রকাশ্য এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং কমপক্ষে ৬০০ জন বলপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণের বিশ্বাস এই তালিকা অনেক বেশি লম্বা হবে।
ক্ষমতাচ্যুত আ’লীগ সরকারের লোকদের বিরুদ্ধে ৬৫০ জনেরও কম গণহত্যার শিকার পরিবার যদি মামলা করে তাহলে সংখ্যাটি দাঁড়াবে কয়েক শ’। আর এই পরিবারগুলোকে নিরস্ত্র ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের হত্যার বিচার চাওয়া থেকে কে আটকে রাখতে পারে? নিহতদের বেশির ভাগই ছাত্র, যারা বৈষম্যহীন সমাজের জন্য আত্মত্যাগ করেছে। অনেক আহত ছাত্র-জনতা এখনো হাস্পাতালে মৃত্যুর দিন গুনছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলার সম্ভাব্য উত্তর হলো- তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো অনেক সংক্ষুব্ধ পক্ষ রয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থার কিছু সমালোচক অবশ্য স্বীকার করেছেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের করা অন্যায় এতটাই নির্মম এবং ছকে বাঁধা ছিল যে, মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল- তাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিছু লোক খোলাখুলিভাবে বলেছে, তারা তাদের জীবনে উন্নতির জন্য একটি পরিবর্তন দেখে যাওয়ার আশা ত্যাগ করেছেন।
কেউ কেউ বিগত শাসনকে গণতন্ত্রের মুখোশে একটি স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী একদলীয় শাসন বলে অভিহিত করেন, যার সাথে কিছু বাধ্য ছোট দল নিজেদের অংশীদার হিসেবে এবং অন্য একটি দল নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে উপস্থাপন করে। সেই সরকারের সমালোচকরা শেষোক্ত দলটিকে গৃহপালিত বলে আখ্যায়িত করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা সবাই আত্মগোপনে চলে যায়। সমাজের গণতান্ত্রিক বাঁধনগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সময় তারা সবাই সরকারকে সহযোগিতা করে হালুয়া রুটি ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার এই ধ্বংসপ্রাপ্ত সমাজকে পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলন উসকে দিয়েছিল তা ছিল বিরোধীদের ভূমিকা অস্বীকার করার একটি সর্বব্যাপী রাজনৈতিক মতবাদ যা বিরোধী দলগুলোকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি বলে অভিহিত করত। শাসকরা যেভাবে চেয়েছে সেভাবে তাদের সাথে আচরণ করেছে। ক্ষমতাসীন দল নিজেদের এবং তার সহযোগীদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে আখ্যায়িত করে, যারা প্রশাসনের সব স্তরে শুধু ক্ষমতাই নয়, সরকারি চাকরি, ব্যবসায়-বাণিজ্যেরও একচেটিয়া অধিকারী ছিল। তারা নতুন ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির মালিক হয়েছে এবং সেখানে জমাকৃত জনগণের অর্থ তছরুপ করেছে এবং শেয়ারবাজার লুট করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালত নিম্ন থেকে উচ্চ স্তর পর্যন্ত, বিরোধী ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকদের তাদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস এবং সুপরিচিত কলেজগুলো শাসক দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের কব্জায় রেখে সাধারণ ছাত্রদের যেকোনো অসন্তোষ প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখা হতো। রাম দা, অন্যান্য ধারাল অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে, ছাত্র-জন আন্দোলনের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত।
তারা বিরোধী সংবাদপত্র ও টেলিভিশন স্টেশন বন্ধ করে দেয় এবং ক্ষমতায় থাকা দলের প্রতি অনুগত নতুন পত্রিকা, রেডিও ও টিভি স্টেশন খুলে দেয়। অনুগত সংবাদ মাধ্যমগুলোকে সরকারি প্রচারণা এবং বিরোধীদের কুৎসা ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করে। এমনকি বিভ্রান্তি ছাড়ানোর বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করা হয়েছিল। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ৭০০টি ভুয়া খবর শনাক্ত করেছে যা শুধু ২০২৩ সালে বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত কয়েকটি মুষ্টিমেয় সংবাদপত্রেও এমন কিছু বার্তা প্রকাশিত হয়েছিল। বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যমগুলো বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতায় পরিপূর্ণ ছিল। এমনকি হাইকোর্টের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকেও টেলিভিশনের আলোচনায় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিতে শোনা গেছে। প্রেস কনফারেন্সের মতো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ব্যবহৃত রাজনৈতিক শব্দভাণ্ডার ছিল ঘৃণার কথায় পরিপূর্ণ।
ভিন্ন মত পোষণকারী জনগণের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য যারা দাবি করেন, তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যে কেউ উল্লেøখ করতে পারেন, ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নিয়ে ১৬ বছরের একটি উঠতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে স্বৈরাচারী শাসনের উদ্ভব হয়েছিল। মইন ইউ আহমেদ-ফখরুদ্দীন আহমেদ জরুরি অবস্থা জারি করে সেই দুই বছর শাসন করেছিলেন। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সৃষ্ট একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিগত ১৫ বছর ছিল দীর্ঘতম পর্যায়। একজন অনুসন্ধিৎসু পর্যবেক্ষক সেই ১৭ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দুর্দশা কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। জনগণকে সঙ্গঠিত করার ক্ষমতাসম্পন্ন রাজনৈতিক কর্মীরা প্রত্যেকে শতশত মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। যারা জামিন পেতে সফল হয়েছেন তারা তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল বা পুলিশের পদক্ষেপের কারণে ঘর থেকে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী গোপনে বিভিন্ন শহরে, বেশির ভাগই ঢাকায়, চলে যান এবং এমনকি রিকশা চালিয়ে, রাস্তায় ডাব বিক্রি করেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করেন।
বিগত সরকারের পতনের পর প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনাকে এই প্রেক্ষাপট থেকে দেখা উচিত। একজন সচেতন সাংবাদিকেরও প্রায় এক পক্ষকালীন সময় ধরে পুলিশ প্রশাসনের অনুপস্থিতির বিষয়টি খেয়াল করা উচিত। কারণ ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত পুলিশ সদস্যরা ছাত্র-জনতার সাহসী আন্দোলনের মুখে হতাশ হয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য ডিউটি-স্টেশনে ফিরে আসতে সময় নিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো প্রতিহিংসার প্রবণতার বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজ তুলেছে। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে বিএনপি ঢাকা থেকে তাদের প্রত্যন্ত নিজ নিজ এলাকায় কর্মীদের পাঠিয়েছে। সৌভাগ্যবশত, প্রতিশোধমূলক আক্রমণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।
উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে আমাদের দেশে যে একদলীয় স্বৈরাচারের আবির্ভাব ঘটে, তার পুনরাবৃত্তি কিভাবে বন্ধ করা যায় তা হলো এখনকার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নাৎসি ধারণা এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচারের বিরুদ্ধে জার্মানির দণ্ডবিধিতে বিধান রয়েছে। সেখানে পুলিশ এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। আমাদের দেশের নেতৃস্থানীয় সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদদের চিন্তাভাবনা করে পরামর্শ দিতে হবে কীভাবে আমাদের রাজনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত সমাজে সময়ে সময়ে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় এবং সামাজিক ব্যবস্থাকে সবার জন্য শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হয়।
সাংবাদিকদের সচেতনভাবে বা অবচেতনভাবে রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা থাকতেই পারে। কিন্তু তাদের মধ্যে বাস্তববাদীরা লেখা বা বক্তব্যে তার প্রতিফলন রোধ করতে সফল হন। যদিও আমাদের দেশে কিছু সফল সাংবাদিকও দুর্ভাগ্যবশত ২০০৭ সালে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করার সাথে যুক্ত ছিলেন যা দেশকে ১৭ বছরের দুঃশাসনে পাঠিয়েছিল। কিছু রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাদের ব্যাপারে তাদের অপছন্দ ছিল বলে তারা এটি করেছে। কিন্তু এই অপছন্দ এতটা প্রবল হওয়া উচিত ছিল না যে সেসব দলের জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
বিগত ১৫ বছরে কেবল রাজনৈতিক একনায়কত্বই চালানো হয়নি, একনায়কত্বকে দুনিয়ার অপেক্ষাকৃত ভালো শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রচারণার ব্যবস্থাও বিদ্যমান ছিল। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকে জনগণ ও রাষ্ট্রের শত্রু এবং তাদের ধ্যান-ধারণাকে বাজে জিনিস হিসেবে চিত্রিত করার একটি প্রচার ব্যবস্থাও ছিল। যদিও সরকারের নিজস্ব প্রোপাগান্ডা মেশিন ছিল সোস্যাল মিডিয়ায়, সংবাদ মাধ্যমের কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মী প্রকাশ্যে, প্রেস কনফারেন্সে বা টকশোতে এবং ক্ষমতার করিডরে চাটুকার মানুষ একই সাথে সমস্ত খারাপ জিনিসের জন্য বিরোধী দলগুলো এবং তার নেতাদের ওপর দোষ চাপাত। প্রচারণা এতটাই তীব্র ছিল যে, সরকারি অফিস বা পাবলিক প্লেসে মানুষের সাথে তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আচরণ করা হতো।
৫ আগস্টের বিপ্লবকে একটি সরকার ক্ষমতাচ্যুত করার সাধারণ ঘটনা নয়, এটিকে একটি অসাধারণ পরিণতি হিসেবে দেখা উচিত। এই সফল জনপ্রিয় ছাত্র-জন-আন্দোলন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে যাতে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি এবং একটি উদারনৈতিক ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা থাকে। গত ১৫ বছরের নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি করে যার ব্যাপ্তি ছিল অনেক বড়। এমন লাখ লাখ পরিবার আছে যাদের সদস্যদের শুধু সরকারি চাকরিই নয়, ব্যবসায় করার সুযোগ, বার্ধক্য ও অক্ষমতা ভাতা এমনকি রাজনৈতিক কারণে ত্রাণসামগ্রী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুল সংশোধনের জন্য কালোকে ‘কালো’ আর সাদাকে ‘সাদা’ বলা উচিত। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ছিন্নভিন্ন সমাজ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা এবং সমস্ত ভুলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দোষ চাপানো ঠিক নয়। এটি জেনে খুশি হওয়া উচিত যে, যখন সারা দেশে পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন করছিল না তখন সমাজ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে তার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।
জনগণ ভাগ্যবান যে ৫ আগস্টের বিপ্লব সশস্ত্র ছিল না, বিজয়ীরাও চরম চিন্তাধারার অনুসারী নন। আসুন আমরা স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই, সমাজ একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই কথা বলার সাথে সাথে অতীতের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠতে সবার আন্তরিক হওয়ার আশা করা খুব বেশি চাওয়া হবে না। আমাদের তৈরি করতে হবে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ যেখানে কেউ অবহেলিত হবেন না বা পিছিয়ে পড়বেন না। জনগণ এমন একটি সমাজ চায় যেখানে আইনের সামনে সবাই সমান হবে, আইনের সমান সুরক্ষা পাবে এবং বৈষম্য ছাড়া কেবল আইন অনুযায়ী শাসিত হবে। পাশাপাশি সম্পদের সুষম বণ্টন হবে যা ধনীকে আরো ধনী এবং দরিদ্রকে আরো দরিদ্র করে তুলবে না।
