বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা
ড. আবদুর রহিম
প্রচ্ছদ : প্রতীক ডট ডিজাইন
প্রকাশক : অবসর, সূত্রাপুর, ঢাকা
মূল্য : ৪০০ টাকা
ড. আবদুর রহিম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশিষ্ট গবেষক। তাঁর গবেষণার স্বাক্ষর পরিস্ফুটিত হয়েছে বাংলা বানানের কথা (১৯৯৮), বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস : রোমান্স প্রসঙ্গ (২০০৭) ও রবীন্দ্র-উপন্যাস যোগাযোগ প্রসঙ্গে (২০১২) গ্রন্থে। তাঁর সৃজনশীল মেধা বিকশিত হয়েছে কবিতা, উপন্যাস ও নাটক রচনায়। বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা (১৯৭১-২০১৬) তাঁর অন্যতম গবেষণাগ্রন্থ। এ গ্রন্থটি লেখকের পিএইচডি অভিসন্দর্ভ। গবেষক আবদুর রহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালের মার্চ মাসে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তক্রমে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পিএইচডি অভিসন্দর্ভের পরিমার্জিত রূপ আলোচ্য গ্রন্থটি।
আলোচ্য গ্রন্থটি ভূমিকা ও উপসংহারের পাশাপাশি আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম ‘ভাষা পরিকল্পনা : স্বরূপ ও পরিধি’। এ অধ্যায়ে ভাষা-পরিকল্পনার বিভিন্ন তথ্য ও তাত্ত্বিক রূপরেখা উপস্থাপিত হয়েছে।
ভাষা-পরিকল্পনার বিভিন্ন সংজ্ঞা, ভাষাবিজ্ঞানীগণের মতামত ও ভাষা-পরিকল্পনার সূত্রসমূহ এখানে বর্ণিত হয়েছে। ভাষা-পরিকল্পনার সাথে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-প্রশাসনিক সম্পর্কের বিশ্লেষণও অবশ্যম্ভাবী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম ‘বাংলাদেশের ভাষা-পরিস্থিতি : একটি সমাজ-ভাষাবৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা’। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের ভাষা-সমস্যা এবং ভাষা-পরিস্থিতি বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয়েছে। এখানে প্রমিত বাংলা ভাষা, উপভাষা, আদিবাসীদের ভাষা, সমাজভাষা, বিহারিদের ভাষা, সংস্কৃত ভাষা, পালি-প্রাকৃত ভাষা, আরবি ভাষা ও অন্যান্য বিদেশী ভাষার অবস্থান ও সমস্যা প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম ‘বাংলাদেশের ভাষাসমূহের মর্যাদা-পরিকল্পনা : স্বরূপ ও পরিধি’। এ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভাষাসমূহের ভূমিকাগত সমস্যা এবং রূপ-রেখা।
চতুর্র্থ অধ্যায়ের শিরোনাম ‘বাংলাদেশের ভাষাসমূহের অবয়ব পরিকল্পনা’। এ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় হলো-
বাংলা ভাষার বানান, উচ্চারণ, প্রতিবর্ণীকরণ, পরিভাষা, ব্যাকরণ ও অভিধান। এখানে লেখক বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বানানের নিয়মসহ অন্যান্য নিয়ম তুলে ধরেছেন। বাংলা বানানের প্রধান দুই নিয়মের পার্থক্য এবং উচ্চারণ অভিধানের ভূমিকাও এখানে আলোচিত হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়ের শিরোনাম ‘বাংলাদেশে ভাষাসমূহের ভাষা-আয়ত্তীকরণ পরিকল্পনা’। বাংলাদেশে প্রচলিত ভাষাসমূহের শিক্ষাদান পদ্ধতির স্বরূপ, পদ্ধতির যথার্থতা, পুরাতন ধাঁচের পদ্ধতির পরিবর্তন এবং নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচ্য অধ্যায়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বাংলাদেশে ভাষা-আয়ত্তীকরণে মিডিয়া, মিডিয়ার পরিচালক, শিক্ষক ও ভাষাবিদগণের ভূমিকাও এখানে বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অধ্যায়ের শিরোনাম ‘বাংলাদেশের আদিবাসীদের ভাষা-পরিস্থিতি ও ভাষা-পরিকল্পনা’। এ অধ্যায়ে ছয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (চাকমা, মারমা, রাখাইন, ত্রিপুরা, মণিপুরী, গারো ও সাঁওতাল)-এর ভাষা পরিস্থিতি নিয়ে বাস্তবমুখী আলোচনা সন্নিবিষ্ট হয়েছে।
সপ্তম অধ্যায়ের শিরোনাম ‘বাংলাদেশে ভাষা-পরিকল্পনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা’। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশে ভাষা-পরিকল্পনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচিতি ও কার্যক্রম বর্ণিত হয়েছে। বিশেষত বাংলা একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ ভাষা সমিতি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর ভাষা-পরিকল্পনা বিষয়ক কার্যকলাপ বিশ্লেষণই এ অধ্যায়ের মূল উপজীব্য। ভাষা-পরিকল্পনার উন্নয়নে গবেষক বাস্তবমুখী প্রস্তাবনাও এখানে উল্লেখ করেছেন।
অষ্টম অধ্যায়ের শিরোনাম ‘ডায়গ্লসিয়া ও বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা’। সাধারণত একটি ভাষাগোষ্ঠীর একই ভাষার দু’টি ভাষারীতি যদি একই সময়ে প্রচলিত থাকে এবং দু’টি ভাষারীতিই সুনির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে, তবে তাকে ডায়গ্লসিয়া বা দ্বিবাচন বলে। বাংলাদেশে সাধু ও চলিত অথবা চলিত ও উপভাষা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডায়গ্লসিক পরিস্থিতি বিদ্যমান। ডায়গ্লসিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনার স্বরূপ এ অধ্যায়ে উন্মোচিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা গ্রন্থে ভাষা-পরিকল্পনার তাত্ত্বিক দিকসহ প্রয়োজনীয় সব প্রাসঙ্গিক দিকই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পাঠক ও গবেষকের পক্ষে একসঙ্গে সার্বিক দিক জানার সুযোগ হবে।’ গ্রন্থটির বহুল প্রচার, বিপণন ও পাঠ একান্ত কাম্য।
বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা ড. আবদুর রহিম প্রচ্ছদ : প্রতীক ডট ডিজাইন প্রকাশক : অবসর, সূত্রাপুর, ঢাকা মূল্য : ৪০০ টাকা ড. আবদুর রহিম শাহজালাল বিজ্ঞান ও...
