বুড়িমার শরীরটা ভাটির টানে বড্ড বেসামাল
বটগাছের ঝুলন্ত শেকড়ের মতো নুইয়ে পড়েছে দেহ
কপালের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকা
বাংলার মানচিত্র হাসে
আনন্দ আর কান্নার তফাত বোঝা বড়ই কঠিন
তাকে শান্ত রাখে এমন সাধ্য কার
প্রকৃতির বৈরাগ্যে টালমাটাল শরীরের পরতে পরতে
বাসা বেঁধেছে ঝরা পাতার কান্না
বয়সের ভারিক্কি লুকিয়ে রাখতে রাগত কণ্ঠে বললেন
বুঝেছি বাপু ওসব ভেল্কিবাজির খেল
তার চেয়ে বরং কাটাকান ঢেকে রাখো পরচুলা দিয়ে
লজ্জায় অবনত হয়ে আর কতো কাঁদবে শুনি
মুখ আর মুখোশের তফাত না বুঝেই
পাশাতে চাও পাশার ঘুঁটি
হবে না ওসব
মোহের গড়াগড়িতে ভাসিয়েছ জীবন
এবার বুঝবে ঠেলা
মাথার ওপর ঝুলে থাকা
সূর্যটা প্রতিদিন গোল্লাছুট খেলে
হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলে
আবার কাঁদতে কাঁদতে হেসে কুটপাট প্রলয়ঙ্করী ঝড়
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে পালিয়ে যায় সময়ের ব্যবধান
এসব নিয়ে বুড়িমা ভাবে
ধেয়ে আসা বয়স্ক বাতাসই সব নষ্টের মূল
পাশে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকায় সুজন
কী হবে এখন তামাশার নৈকট্যে
প্রাপ্তির খাতায় আর কী-ই-বা
যোগ হবে জীবনের হিসাব-নিকাশ
রাত্রী ঘনিয়ে এলে মিটে যায় লেনাদেনা সব।
