কৃষিজাত পণ্য রফতানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা বিদেশে মাল পাঠাবেন, মান-সম্মানের প্রশ্ন আছে। হাইজিনের প্রশ্ন আছে। বাজার ধরে রাখতে হবে। তাই সেসব মাল যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেদিকটা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বন্যাপ্রবণ এলাকায় বেশি বেশি কালভার্ট নির্মাণেরও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা এই নির্দেশনা দেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো সাংবাদিকদের জানান। এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জয়নুল বারীসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সভায় ৫ হাজার ৪৪১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্প সংশোধন ও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ৩ হাজার ৩৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে। বাকি ২ হাজার ৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিদেশী ঋণ এবং ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সংস্থার অর্থায়ন থেকে আসবে। একনেক সভায় কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রফতানির ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক মান রয়েছে। তার প্রত্যেকটি মেনে চলতে হবে। তা নাহলে আমাদের মাল অন্যরা নেবে না। তাই তাই যত্ন করে মাল পাঠাবেন। প্রপার আইন-কানুন মেনে পাঠান, হাইজিন মেনে পাঠান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, বর্তমানে কৃষি থেকে ১ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়। সঠিকভাবে মান যাচাই করে কৃষিপণ্য রফতানি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষি রফতানি বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি, যাতে করে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরো বৃদ্ধি পায়। কৃষিপণ্য রফতানিতে আরো সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।
এম এ মান্নান বলেন, ময়মনসিংহ আমার স্মৃতিময় জায়গা। সেখানে আমি সাত বছর চাকরি করেছি। সেখানে কেওয়াটখালিতে একটা সেতু আছে। এখন নতুন করে আরেকটি করা হবে। এজন্য এআইআইবি থেকে ঋণ পাওয়া যাবে। এ প্রকল্পে শুধু সেতু নয়, ওভারপাস, আন্ডারপাস ও রাস্তা হবে চার লেনের।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো, ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা বর্ধিত ব্যয়ে আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্ট ঢাকা নর্থ সিটি করপোরেশন পার্ট প্রকল্প, ৬৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদারগঞ্জ-কয়রা-মনসুরনগর (কাজীপুর)-আব্দুল্লাহ মোড় (সরিষাবাড়ী)-ধনবাড়ী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহে কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ, ২০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প, ১০৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট, ১৮০ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর জেলার ঢেপা, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ৭৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন প্রকল্প।









