শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসির অন্যতম প্রতিষ্ঠান চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী পেপার মিলসে (কেপিএমে) ৯ দিন ধরে কাগজ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কেপিএম কারখানার অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে পানি ঢুকে শর্ট সার্কিট হয়ে তিন আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কারখানার নিজস্ব প্ল্যান্টের বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ হওয়ায় পুরো এলাকাটি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে বলে মিল ব্যবস্থপনা সূত্র জানিয়েছে।
কেপিএমের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, কারখানায় বিভিন্ন পয়েন্টে পানি ঢুকার কারণে কাগজ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কেপিএমের সিবিএ সভাপতি মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, টানা বর্ষণে কর্ণফুলী পেপার মিলের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউজ, পাম্প হাউজ, সুইস বোর্ড, গ্রিন সাবস্টেশন লাইনের জয়েনিংসহ বিভিন্ন স্পটে পানি ঢুকে যায়। অতিরিক্ত পানির কারণে শর্ট সার্কিট হলে বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ৯ দিন ধরে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে মিলের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মিলের শ্রমিক কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের এশিয়ার বিখ্যাত কর্ণফুলী পেপার মিলে ১০০ টন কাগজ উৎপাদনের সমতা নিয়ে কারখানাটি চালু হয়। মিলে কাঁচামাল বাঁশ ও নরম কাঠ (পাল্পউড) সরবরাহ ও বিভিন্ন খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও গাফিলতির কারণে কাগজ উৎপাদন হ্রাস পায় এবং বছরে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়। পরে লোকসান কমাতে মিল কর্তৃপক্ষ কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ ও লোকবল কমিয়ে বিদেশী পাল্প এবং ছেঁড়া কাগজ দিয়ে মিলের উৎপাদন কোনোমতে টিকিয়ে রাখে। পর্যাপ্ত কাঁচামাল ও শ্রমিকের অভাবে কারখানার এক নম্বর ও দুই নম্বর মেশিন দিয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে দৈনিক ১০-৩০ টন কাগজ উৎপাদন চলছে। তিন নম্বর মেশিনের মোটর অকেজো হয়ে পড়ায় কাগজ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা সূত্র জানায়, কারখানাটি সচল করতে মিল কর্তৃপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল করা গেলে আগামী সপ্তাহে এক ও দুই নম্বর মেশিন চালু করে উৎপাদনে যাবে মিলটি।