দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা সরকারের পতনে দেশের প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের শিকার জনবলের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। দীর্ঘ ১০ বছরে বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনবলরা বিক্ষোভ ও বিক্ষুব্ধ। তোপের মুখে পড়েছেন পরিসংখ্যান সচিব। সরকার পতনে তারা এখন তাদের দাবির জন্য পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন। বিবিএসে গড়ে ওঠা পাঁচ থেকে সাতজন সুবিধাভোগীর সিন্ডিকেটের অবসান এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অন্যায্য সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের এই দাবি নেমে নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
সচিবকে দেয়া চিঠিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) একটি গতিশীল ও কার্যকর জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিবিএসের বিদ্যমান বৈষম্যগুলো নিরসন করা জরুরি। বিগত কয়েক বছরে বিবিএসের আইনগত মর্যাদা ও অস্তিত্ব বিলোপের যে ধারা চলে আসছে তা অবিলম্বে অবসান ঘটিয়ে বিবিএসের চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
চিঠিতে তারা বলছেন, বিবিএসের নিয়মিত উপমহাপরিচালক ও পরিচালক পদে বিবিএস বহির্ভূত কর্মকর্তা যারা উপসচিব বা যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত তাদেরকে অবিলম্বে অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ওইসব পদে বিবিএসের কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে। উপমহাপরিচালক পদে বিবিএসের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য হতে অবিলম্বে চলতি দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। বিবিএস হতে এসআইডিতে সংযুক্তিতে থাকা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে বিবিএসের উইং এ পদায়ন করতে হবে। দাবিতে তারা বলেন, বিবিএসের উইং বা সেল বা প্রকল্প বা কর্মসূচি কোথাও বিবিএস বহির্ভূত কাউকে দায়িত্ব প্রদান বা পদায়ন করা যাবে না।
এ ব্যাপারে বিবিএসের উপপরিচালক মো: আলমগীর হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে কিছু চেনা মুখ সিন্ডিকেট গড়েছে বিগত ১৫ বছর ধরে। প্রতিষ্ঠানকে লুটেপুটে খাচ্ছে। এদেরকে চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা বলেছি। তিনি বলেন, সচিব আমাদের বলেছেন দেশে এখন সরকার নাই, এসব সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমার উচ্চপর্যায়ে কথা বলার প্রয়োজন। আমরা বলেছি এসবের জন্য তিনিই ক্ষমতাবান। তার পর্যায়ের নিষ্পত্তিযোগ্য।
সচিবকে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছে, এরা সব চিহ্নিত এবং আপনি একাধিক সভায় তাদের কথা বলেছেন। আপনি তাদেরকে চিনেন। তাদেরকে রাখতে এবং প্রশ্রয় হতে আপনি যেকোনো কারণে বাধ্য হয়েছেন। আপনার চাকরির আর দুই সপ্তাহ আছে যাওয়ার আগে আপনি এই কাজটা করে যাবেন।
আলমগীর হোসেন বলেন, বিবিএসের বিভিন্ন প্রকল্প বাইরের জনবল দিয়ে চালানো ও বাস্তবায়ন করা হয়। বিবিএসের যুগ্মসচিব উপসচিব পদে কর্মকর্তা বাইরে থেকে প্রশাসন ক্যাডার থেকে আনা হচ্ছে। আর এখানকার কর্তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। এসবকে নিরসন করতে দাবি তুলেছি। জনশুমারি প্রকল্প, অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে চালানো হচ্ছে। তারা এসব প্রকল্প সঠিকভাবে করতে পারে না। তার উদাহরণ হলো এনএইচডি প্রকল্প। রাজনৈতিক লোকজনদেরকে বসানো হয় সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে।
এ ব্যাপারে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শাহনাজ আরেফিনের সাথে গতকাল রাতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভড করেননি।