আটকের ২৭ দিন পর গতকাল সকালে কারামুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী পরীমণি। তার আইনজীবী নীলঞ্জনা রিফাত সুরভী জানিয়েছেন, আইনি প্রয়োজন না হলে আগামী কয়েক দিন বাসা থেকে বের হবেন না পরী। এই সময়টায় তিনি থাকবেন বিশ্রামে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পন্ন সুস্থ হলে কথা বলবেন গণমাধ্যমের সাথে। তবে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে পরীমণিকে বেশ প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। সাদা টি-শার্ট ও ওড়নার সাথে কালো রঙের সানগ্লাসে তার মুখে ছিল রাজ্য জয়ের হাসি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এই হাসি ধরে রেখে ইমেজ পুনরুদ্ধার করাটাই এখন পরীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কঠিন হবে।
পরীর ক্যারিয়ারের বাঁক বদলে দেয়া নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাস্তবতাকে নির্মমভাবে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছেন পরীমণির। এটা আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশের সময় নয়। ও যে ট্রমার মধ্য দিয়ে নিজেকে টেনে নিয়েছে এতগুলো দিন, সেখান থেকে বের হওয়া জরুরি।’
তিনি বলেন, জেল থেকে মুক্ত হেয়েছে। এখন পরীকে আরো সচেতন হতে হবে। নতুন করে জীবনটাকে গোছাতে হবে। মানসিক শক্তিটা রিকভার করা জরুরি। তা না হলে, ঘুরে দাঁড়ানো কষ্ট হয়ে যাবে পরীমণির জন্য।’
এই নির্মাতা দ্রুত তার সিনেমায় পরীমণিক চুক্তিবদ্ধ করতে চান উল্লেখ করে বলেন, ‘পরীমণি জামিনে মুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সমায়িকভাবে মুক্তি পেয়েছে। এতে আমি যতটা খুশি, ততোধিক খুশি হতাম দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি ওকে আমার সিনেমার জন্য কাস্ট (চুক্তিবদ্ধ) করতে পারতাম। আমি বরং সেই সুসময়ের অপেক্ষায় আছি। ওকে নিয়ে আবার সিনেমা নির্মাণের। সে জন্যই প্রার্থনা করছি, ফেরার পর ও যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। ফের কাজে মন বসাতে পারে।’
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সাথে পরীমণির একটিই ছবি। নাম ‘স্বপ্নজাল’। সমালোচকরা বলছেন, শিল্পমানের বিচারে ‘স্বপ্নজাল’ টিকে থাকবে বহুকাল, সাথে পরীমণিও। তাই তো ছবিটিকে পরী মনে করেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম ও প্রধান বাঁক বদলের উপাদান হিসেবে। সেই সূত্রে, নির্মাতা সেলিমের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অগাধ।
বয়োজ্যেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ মনে করেন, আগের চেয়ে এখন আরো অনেক বেশি সাবধানে পথ এগোতে হবে পরীমণিকে। এটা পরীর ক্যারিয়ার এবং দেশের চলচ্চিত্রের জন্য অনেক মঙ্গলজনক হবে। কাজী হায়াৎ বলেন, পরীমণির প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে দেখেশুনে যেন চলাফের করে। আমাদের দেশ পুরুষশাসিত এটা তার মনে রাখতে হবে। ওর বয়স কম জীবনের অনেক সময় বাকী। সতর্কতার সাথে পথ চলতে পারলে ভবিষ্যতে ও অনেক দূর এগোবে।’
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাজী হায়াৎ বলেন, ‘পরিচালক-প্রযোজক সবারই উচিত, পরীমণির জন্য সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। সবার প্রতি আমার অনুরোধ, যারা তাকে নিয়ে কাজ করবে, তারা যেন ওকে সঠিকভাবে গাইডও করে।’
গ্রেফতারের আগে পরীমণি নামের সাথে সেভাবে পরিচিত ছিলেন না উল্লেখ করে কাজী হায়াত বলেন, আমি ওকে চিনতাম না, গ্রেফতারের পর চার দিক থেকে যতটা শুনেছি, মেয়েটি এমনিতে ভালো, শিল্পমনা। আমি এমনও শুনেছি, মেয়েটি প্রচণ্ড হৃদয়বান। আমাদের দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এমন হৃদয়বান মেয়ে আগে আসেনি। মেয়েটি খুব দানশীল। আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় শুধু বলতে চাই, পরীমণিকে সঠিক গাইডেন্স দিয়ে ধরে রাখতে পারলে চলচ্চিত্রও উপকৃত হবে, পরীমণির জীবনও ভালো হবে।’
গুণী এই পরিচালক বলেন, ‘পরীমণির সৌন্দর্যই পরীমণির শত্রু। এ কারণেই বেশির ভাগ মানুষ তার সান্নিধ্যে গেছেন, যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই পরীর প্রতি আমার পরামর্শ হলো, আশপাশের মানুষকে চিনতে হবে। কারা তার প্রিয়জন, আর কারা শুধুই প্রয়োজন। ওর মধ্যে শিল্পীসত্তা আছে। শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রেখে গাইড করলে পরীমণিও ভালো করবে।’ পরীর সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্য করে এই চিত্রনির্মাতা বলেন, জোর গলায় বলব, যে বয়সে পরীমণি চলচ্চিত্রে এসেছেন, সে বয়সে বিচার-বিবেচনা সবার থাকে না। বয়সটাই আসলে এমন। যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের দায়িত্ব ছিল সঠিকভাবে তাকে পরামর্শ দেয়া।
এ দিকে গত ৪ আগস্ট বাসায় র্যাব অভিযানের পর পরীমণিকে আটকের পরদিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তার সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতের ঘোষাণা দেয়। বিএফডিসি প্রাঙ্গণে ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা। পরীর জামিনের খবর শুনে তিনিও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে পরীর সাথে একটি ছবিসহ স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই নায়িকা। সেখানে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ পরীমণির জামিন মঞ্জুর। সঠিক পথে এগিয়ে চলে নিজের জীবনকে আরো সুন্দর করবে। আমাদের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধময় করবে তোমার প্রতিভাময় সু-অভিনয় দিয়ে আমি এই আশীর্বাদ করি। পরীমণির পাশে আমি সবসময় ছিলাম ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে থাকব।’
অঞ্জনা আরো লিখেছেন, ‘পরীকে নিয়ে আমার দেয়া স্ট্যাটাসগুলো এখনো আমার প্রোফাইলে আছে। সব পজিটিভ আমি ওর পক্ষেই লিখেছি। কেউ বিভ্রান্তমূলক কমেন্ট করার আগে স্ট্যাটাসগুলো দেখে আসবেন আশা করি।’








