মাদারীপুরের শিবচরে পৌর চকবাজার জামে মসজিদের ছানী ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম ড্রাগন ফলের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কথায় আছে-‘মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত’। কিন্তু এখন সময় পালটে গেছে। মোল্লার দৌড় এখন আর মসজিদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির কল্যাণে অনেককিছু এখন সহজে করা যায়।

রফিকুল ইসলাম মসজিদে খেদমতের পাশাপাশি মনোযোগ দিয়েছেন ফল গাছের পরিচর্যায়। এরই ধারাবাহিকতায় মসজিদের ছাদে গড়ে তুলেছেন একটি দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন ফলের বাগান।

প্রায় তিন বছর আগে রফিকুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা থেকে মাত্র চারটি ড্রাগন ফলের চারা দিয়ে ছাদবাগান শুরু করেন। এক একটি চারার দাম ধরা হয়েছিল ৫০ টাকা করে। ২০০ টাকার চারা দিয়ে ছাদ বাগানটি শুরু করেছিলেন তিনি। সেই চারটি গাছই পরিণত হয়েছে একটি ছোটখাটো ড্রাগন ফলের বাগান। ছাদের চারপাশে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে এই গাছগুলোকে। সুন্দর সবুজ-মনোরম পরিবেশ সবার নজর কাড়ছে।

শুধু ড্রাগন ফলের চাষই নয়, ছাদের এক পাশে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পালন করছেন। কবুতরের খাবার দেয়া-সবকিছু করছেন নিজেই। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হতে চান মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদে ইমামতি করাটা আমার দায়িত্ব ও সওয়াবের কাজ। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে যদি কিছু আর্থিক ও সামাজিক কাজ করি তাহলে সমাজ উপকৃত হবে, আমিও উপকৃত হব।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিবচরের অনেক মসজিদের ছাদ অথবা আশপাশের খালি জমি পড়ে আছে। ইমামদের প্রচেষ্টায় এসব জায়গাগুলোতে সামান্য শ্রম দিয়ে এমন ফল বা সবজির বাগান গড়ে তুলতে পারেন। এতে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়, তেমনি ইমামদের কিছু বাড়তি আয়ও আসে। পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

এই ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানই নয় বরং বর্তমান সমাজকে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যবর্ধন ও ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ড্রাগন ফল চাষ ও ছাদ কৃষির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ছানি ইমাম রফিকুল ইসলামের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। যদি দেশের প্রতিটি মসজিদের ছাদে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়, তাহলে এটি পরিবেশের ভারসাম্য, পুষ্টির চাহিদা ও আত্মনির্ভরশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাওলানা রফিকুল ইসলামের এধরনের ব্যতিক্রম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তিনি একজন ইমাম হয়েও দেখিয়েছেন কীভাবে কাজ করে স্বাবলম্বী হতে হয়। আমি তার জন্য উন্নত জাতের ফলের চারা সরবরাহ করব।’