আনাদোলু
দক্ষিণ লেবাননের একাধিক সীমান্তবর্তী জনপদে কামানের গোলাবর্ষণকালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত সাদা ফসফরাসযুক্ত গোলাবারুদ প্রয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)। এনএনএ-র প্রকাশিত বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার নাবাতিয়েহ জেলার জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন এবং নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার সীমান্তবর্তী এলাকায় একের পর এক কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা অঞ্চলে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষিত ফসফরাস শেল ছোঁড়ার তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে জাওতার আল-শারকিয়াহর উপকণ্ঠে আবার একই ধরনের বিষাক্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে হামলা চালানো হয় বলে সংস্থাটি জানায়।
একই দিনে সীমান্তসংলগ্ন টায়ার (সুর) জেলার ওয়াদি জিবকিন, হারিস এবং হাদ্দাতা এলাকার জনবসতিহীন প্রান্তরেও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ পরিচালনা করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। অন্য এক ঘটনায় লেবানন সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিবিদ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দল মারজায়ুন ও বিনত জবেল জেলার অন্তর্গত মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকায় ইসরাইলি বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত দু’টি অবিস্ফোরিত বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ দূরত্বের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, চলতি বছরের মার্চ মাসের সূচনা থেকে দেশটিতে অব্যাহত ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত কমপক্ষে চার হাজার ৩৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৪০৭ জন নাগরিক। একই সাথে সামরিক অভিযানের মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে সামরিক সঙ্ঘাত নিরসনে একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আক্রমণ থামেনি। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল বিতর্কিত এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনাপ্রত্যাহার, বিনিময়ে দক্ষিণ সীমান্তে লেবানিজ সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি নিষ্ক্রিয় করা।





