রয়টার্স
তাইওয়ানের সামরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উ। তিনি উল্লেখ করেন, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলা অক্ষুণœ রাখা ওয়াশিংটনের জাতীয় কৌশলগত স্বার্থের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত শুক্রবার তাইপেতে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার তিন দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুক্রবার সমাপ্ত হয়। ওই বৈঠকে তাইওয়ান সঙ্কটসহ দুই পরাশক্তির দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো ঘোষণা জনসমক্ষে আনা হয়নি। চীন শুরু থেকেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে দাবি করে আসছে, যদিও গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পৃথক সামরিক বাহিনী ও নিজস্ব সরকার দ্বারা পরিচালিত তাইওয়ান বেজিংয়ের এই দাবি সর্বদাই প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন বৈঠকে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তাইওয়ান ইস্যুতে সঠিক নীতি অনুসরণের আশা প্রকাশ করেন এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী অবস্থান প্রতিরোধের আহ্বান জানান। উক্ত বৈঠকের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক কৌশলগত ছাড় তাইওয়ানের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে কিনা- সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উ জানান, তাইওয়ানকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ মার্কিন প্রশাসনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুসংহত করার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে তাইওয়ানের প্রযুক্তিশিল্পের অবদান অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ানের আত্মরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখা-উভয়ই ওয়াশিংটনের দূরদর্শী জাতীয় স্বার্থের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে তাইওয়ানের অবদান শীর্ষে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চিপের বেশির ভাগই সেখানে প্রস্তুত হয়। ফলে দ্বীপটির স্বাভাবিক উৎপাদন অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মে মাসে বেজিং সফরের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে প্রস্তাবিত একটি অস্ত্র প্যাকেজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন বৈঠকের পর ট্রাম্প এ সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন কোনো ঘোষণা দেননি এবং স্থগিত চুক্তির ভবিষ্যৎও স্পষ্ট করেননি।





