ইউক্রেনের বাহিনীর সাথে লড়াই করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনাদের প্রথমবারের মতো যুদ্ধের ময়দানে নামিয়েছে রাশিয়া। উত্তর কোরিয়ার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনাকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব দাবি করেছেন। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) জেলেনস্কি বলেছেন, আমাদের কাছে ইতোমধ্যে প্রাথমিক তথ্য আছে যে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সেনাদের যুদ্ধের ময়দানে মোতায়েন করেছে।
তিনি আরো বলেছেন, উত্তর কোরীয় সেনারা রুশ বাহিনীর সম্মিলিত ইউনিটের সাথে কাজ করছেন এবং এ মুহূর্তে শুধু কুরস্কের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিচ্ছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেছেন, উত্তর কোরীয় সেনাদের অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সেনারা ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি বলে জানান তিনি। এদিকে রোববার রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা রাতভর রাশিয়ার ১৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল কুরস্ক এবং বেলগোরদে ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রশংসায় ক্রেমলিন
রয়টার্স জানায়, রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ইউক্রেনের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছে ক্রেমলিন। গত বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে ট্রাম্প বর্ষসেরা ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পর তার একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। তাতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ইউক্রেনের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যা ঘটছে তা পাগলামি। কারণ এতে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে। ওয়াশিংটনের উচিত না এ অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়া।’ ট্রাম্পের এই সমালোচনারই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য রাশিয়ার অবস্থানের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার কারণ সম্পর্কে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ট্রাম্পও একমত। এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন, ঠিক কোন বিষয়টি উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।’ রাশিয়া আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। তবে কিছু পশ্চিমা নেতা মনে করেন ইউক্রেনের বাইরেও রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন চালানোর উচ্চাকাক্সক্ষা আছে। ইউক্রেন বলছে, শত্রুর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের থাকা উচিত। যদিও ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধের গতিপথ আদৌ বদলাতে পারবে কি না, সে বিষয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই কিছু কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন।