ভারতশাসিত কাশ্মিরে দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সাথে কাশ্মিরিদের প্রতি পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। শাহবাজ বলেছেন, কাশ্মিরি জনগণের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না এবং শেষ পর্যন্ত অধিকৃত এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ভোর আসবে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্রমাগত নিষ্ঠুরতা ও নিপীড়নের কঠোর নিন্দা করেছেন এবং জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলেশন অনুযায়ী আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত কাশ্মিরিদের প্রতি পাকিস্তানের অটল রাজনৈতিক, নৈতিক এবং কূটনৈতিক সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজাদ জম্মু ও কাশ্মিরের (এজেকে) ভিম্বারে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী কাশ্মির ইস্যুতে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের অতুলনীয় অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাশ্মিরি জনগণের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না এবং শেষ পর্যন্ত অধিকৃত এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ভোর আসবে। ভারতশাসিত কাশ্মিরের জনগণ যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন সেগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অধিকৃত কাশ্মিরের জনগণ তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে এবং তাদের কাশ্মিরি ভাইয়েরা এখানে (আজাদ কাশ্মিরে) উচ্চ মানের শিক্ষা পাচ্ছে জেনে তারাও আনন্দও অনুভব করবে।’
অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেউলিয়া হওয়ার হুমকি এড়াতে সম্মিলিতভাবে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো এক দিকে যেমন মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার হ্রাস করেছে, অন্য দিকে রফতানি এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে।
বিশ্বব্যাংক পাকিস্তানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি। শাহবাজ বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করার ওপরই পাকিস্তানের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নির্ভর করছে।