আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ত্যাগ করেছে মার্কিন সেনারা। প্রায় দুই দশক পর আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি ত্যাগ করল তারা। মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি অন্য দেশের সেনারাও ঘাঁটিটি থেকে চলে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে বিদেশী বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার আসন্ন উল্লেখ করে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার বলেছেন, মার্কিন ও ন্যাটোর সব সৈন্য বাগরাম বিমান ঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে বাগরাম বিমানঘাঁটি অবস্থিত। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানঘাঁটি ছিল এটি। আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী এত দিন এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে আসছিল। শেষ মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যরা কখন ঘাঁটি ছেড়েছে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জোট বাহিনীর সব সদস্য বাগরাম থেকে দূরে রয়েছে।’ তবে কখন ঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে তা তিনি জানাননি।
১১ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যে অবশিষ্ট সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কথা রয়েছে। তালেবান গত দুই মাসে আফগানিস্তানে অব্যাহত আক্রমণ জোরদার করেছে, ইতোমধ্যে কয়েক ডজন জেলা নিজেদের দখলে নিয়েছে, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির প্রধান শহরগুলোর আশপাশে তাদের ক্ষমতা একত্রিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাগরাম বিমান ঘাঁটির উপর আফগান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতার ওপর নিকটবর্তী রাজধানী কাবুলের নিরাপত্তা এবং তালেবানের ওপর চাপ বজায় রাখা নির্ভর করছে। কয়েক দশক ধরে এই বাগরাম বিমান ঘাঁটিটি দুর্গম আফগানিস্তানে মার্কিন কৌশলগত অভিযানের জন্য অপরিহার্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে, তালেবান এবং তাদের আল-কায়েদা মিত্রদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধে বিমান হামলা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা হতো।
আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংশ্লিষ্টতার সময় এই বিমান ঘাঁটিতে হাজারো সেনার উপস্থিতি ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ পদস্থ কর্মকর্তারা আফগানিস্তান সফরে গেলে এই ঘাঁটিতে অবস্থান করতেন। মূলত বাগরাম বিমান ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই গত দুই দশক আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনীর তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কমান্ড স্থাপিত হয় এই বিমান ঘাঁটিতে। কারাগার হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা আফগান যুদ্ধের ইতি টানছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আগে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব সেনা প্রত্যাহার করবে। এ লক্ষ্যে জোরেশোরে কাজ চলছে। প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গত ১ মের আগেই ছয়টি সামরিক ঘাঁটি আফগান বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। মার্কিন বাহিনী দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে অবস্থান করলেও সেদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এখনও দেশের একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে তালেবান। এ ছাড়া মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিতে মাদক উৎপাদন বেড়েছে বহু গুণ। অর্থনীতিরও তেমন কোনো উন্নতি ঘটেনি।