ইরান থেকে লেবাননের উদ্দেশ্যে যে তেল ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন লেবাননের প্রখ্যাত সুন্নি আলেম শেখ আহমাদ আল-কাতান।

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ জানিয়েছিলেন, ইরান থেকে তেলভর্তি ট্যাংকার লেবাননের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তিনি ট্যাংকারকে ‘লেবাননের ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এ সম্পর্কে শেখ আহমাদ আল-কাতান বলেন, ‘আমরা সবাই শুনেছি ইরান থেকে লেবাননের দিকে তেলভর্তি জাহাজ আসছে। আমরা বলছি সমুদ্রে এই জাহাজ লেবাননের ভূখণ্ড। ফলে এই জাহাজে হামলার আগে শত্রুদেরকে লাখো বার চিন্তা করতে হবে।’

লেবাননের আন-নাসরা অনলাইন পত্রিকা এ খবর দিয়েছে।

লেবাননের এই সুন্নি আলেম আরো বলেন, ‘যেকোনো দেশ আমাদের সহযোগিতা পাঠাবে তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ জানাবো। এখন আমরা ইরানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

ইরান থেকে তেলভর্তি ট্যাংকার যাওয়ার ব্যাপারে লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা ঘোষণা দেয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘ইরান থেকে তেল আনার ফলে লেবাননকে ভেনিজুয়েলার ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।’

সাদ হারিরির এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন লেবাননের সুন্নি আলেম আহমদ কাতান।

তিনি বলেন, কেউ কেউ ইরান থেকে তেলের চালান আনার সমালোচনা করেছেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছেন। এগুলো মূলত আমেরিকা এবং লেবাননের শত্রুদের সন্তুষ্ট করতে বলা হচ্ছে। কেউ কেউ লেবাননের জনগণ চান অপমানিত হোক এবং আমেরিকা ও শত্রুদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ুক। কিন্তু আমেরিকাকে আফগানিস্তান এবং আরো কিছু দেশ থেকে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।’

হিজবুল্লাহকে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন মনে করে এবং সে কারণে তারা সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এর ধারাবাহিকতায় লেবাননের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যার কারণে মারাত্মক সঙ্কটে পড়েছে লেবানন। প্রকৃতপক্ষে আমেরিকা এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা লেবানন সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে চায় যাতে লেবানন পশ্চিমা-বান্ধব একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে বাধ্য হয়।

সূত্র : পার্সটুডে