জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইউনেস্কোর ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের’ তালিকায় আরবি ক্যালিওগ্রাফি ও তুর্কি ক্যালিওগ্রাফি চর্চা ‘হুসনি হাতকে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে পৃথক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৬ আরব দেশ এর আগে ইউনেস্কোর কাছে আরবি ক্যালিওগ্রাফিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করে। আরব দেশগুলোর সহযোগিতা সংস্থা আরব লিগের শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে এই সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
সৌদি আরব ছাড়াও সুপারিশকারী দলের মধ্যে ইয়েমেন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, জর্দান, ফিলিস্তিন, লেবানন, মিসর, সুদান, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো ও মৌরিতানিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
ইউনেস্কোর বার্তায় বলা হয়, ‘আরবি ক্যালিওগ্রাফি আরবি হস্তলিপির এক শৈল্পিক অনুশীলন যা সামঞ্জস্য, মাধুর্য ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়ার প্রবাহমান পদ্ধতি।’
ইউনেস্কোর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সংস্কৃতিমন্ত্রী বদর বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহান আল-সউদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি নিউজ এজেন্সিতে এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘২০২০ ও ২০২১ সালজুড়ে আলবি ক্যালিগ্রাফি বর্ষ আয়োজনের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই শিল্পকলার গুরুত্ব উপস্থাপন করেছে যা আরবি ক্যালিওগ্রাফি ও শিল্পকলার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের স্থানকে ভিত্তি দান করেছে।’
অপরদিকে ‘হুসনি হাত’ নামে পরিচিত তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ক্যালিওগ্রাফি চর্চাকেও পৃথকভাবে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে।
ইউনেস্কোর বার্তায় বলা হয়, ‘হুসনি হাত আরবি অক্ষর থেকে উদ্ভুত নির্দিষ্ট সৌন্দর্যবোধের বিবেচনায় পরিমিত ও আনুপাতিক ধারার শতাব্দী প্রাচীন অনুশীলন।’
ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বুধবার এক বিবৃতিতে জানায় তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩-১৮ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর চলমান ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ সংশ্লিষ্ট কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা অব্যাহতভাবে আমাদের ইতিহাসের গভীর থেকে উৎসারিত আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলো সংরক্ষণ, প্রতিপালন ও বিস্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি ও ডেইলি সাবাহ









