ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোয় যোগদানের খবরে আপত্তি জানিয়েছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নর্ডিক দেশ দু’টিকে পশ্চিমা সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করায় তাদের ‘ইতিবাচক মতামত’ নেই। এর ফলে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোয় যোগদান অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ জোটে ঢুকতে হলে এর ৩০ সদস্যেরই সম্মতি প্রয়োজন তাদের।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান অভিযোগ করেছেন, ফিনল্যান্ড-সুইডেন উভয়ই ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর’ পৃষ্ঠপোষকতা করছে। দেশ দু’টিকে ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ইতিবাচক মতামত নেই। কারণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনের গেস্টহাউজের মতো।
তুরস্ক দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে সুইডেন কুর্দি সংগঠন এবং ২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত অভিযুক্ত ফেতুল্লাহ গুলেনকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এ দিন ১৯৫২ সালে গ্রিসের ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্তিতে তুরস্কের সাবেক শাসকদের সম্মতি দেয়া ‘ভুল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি বলেন, আমরা এই ইস্যুতে দ্বিতীয়বার ভুল করব না।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোয় যোগ দেয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। উভয় দেশই যত দ্রুত সম্ভব পশ্চিমা এ সামরিক জোটের সদস্য হতে চায়। ন্যাটো প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গও জানিয়েছেন, তারা দুই হাত খুলে নর্ডিক দেশ দু’টিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কই প্রথম এ বিষয়ে আপত্তি জানাল। শুক্রবার এরদোগানের এমন মন্তব্যের পর সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানিয়েছেন, শনিবার ন্যটোর অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বার্লিনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তাদের কথা হবে বলে আশা করছেন।
সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লিন্ডে বলেছেন, তুর্কি সরকার আমাদের কাছে সরাসরি এ ধরনের কোনো বার্তা দেয়নি। ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেক্কা হাভিস্তোও বলেছেন, তিনি আলোচনা এগিয়ে নিতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলুর সাথে সাক্ষাতের আশা করছেন। নিয়ম অনুসারে, কোনো দেশ ন্যাটো সদস্য হতে আবেদনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ৩০ সদস্যের এ জোট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে তার জন্য প্রত্যেক সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়। এরপর শুরু হয় সদস্যপদের জন্য সমঝোতা। তুরস্ক বা অন্য কোনো সদস্য আপত্তি না জানালে ফিনল্যান্ড-সুইডেনের ন্যাটোয় যোগদানের চূড়ান্ত অনুমোদন হতে পারে আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য মাদ্রিদ সম্মেলনে। তবে কোনো সদস্য আপত্তি করলে বা সমঝোতা না হলে নর্ডিকদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেতে পারে।
এরদোগানের এ অবস্থান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। ম্যাক্রোঁ এর আগে দাবি করেছিলেন, তুরস্কের আচরণের কারণে ন্যাটো এখন ‘ব্রেইন ডেথ’ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে প্রবেশে সব দিক থেকেই সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। যদিও এর আগে তুরস্কের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর। গত এপ্রিলে তিনি এরদোগানের সাথে আলোচনার পর এক টুইটে লিখেছিলেন, ইউক্রেন নিয়ে তুরস্ক যা করছে তার জন্য তুর্কি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি আমাদের ন্যাটোতে যোগদানকে সমর্থন করছেন।
ইউক্রেনে সহায়তা বৃদ্ধি করেছে ইইউ
ন্যাটোতে যোগদানে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের পদক্ষেপ একাধিক বাধার সম্মুখীন হওয়ায় ইউরোপ শুক্রবার কিয়েভের জন্য আরো অর্ধ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মস্কো বলেছে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য পদের জন্য আবেদন করলে রাশিয়া হেলসিংকির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে এবং এ দেশ দু’টির ন্যাটোতে সদস্যপদ পেতে ন্যাটো সদস্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগবে। তুরস্ক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর ন্যাটোর সদস্য হওয়ার বিরোধিতা করছে।