ইস্তাম্বুল শস্য রফতানি চুক্তির অধীনে কৃষ্ণসাগর হয়ে এ পর্যন্ত দেড় কোটি টনের বেশি খাদ্যশস্য রফতানি করা হয়েছে। তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী এ তথ্য জানান। গত জুলাই মাসে তুরস্ক ও জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যে খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল।
পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আদিল কারাইসমাইলোগ্লুর এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়, এ পর্যন্ত ৫৮৫টি শস্য বোঝাই জাহাজ ইউক্রেনের ওডেসা, চোরনোমর্স্ক ও ইউঝনে শহরের বন্দর ছেড়েছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে রোববার পর্যন্ত এক কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি হয়েছে।
আদিল কারাইসমাইলোগ্লুর বিবৃতিতে জানা গেছে, এসব খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে যব, গম, সয়াবিন, মটর, সূর্যমুখী বীজ, প্রক্রিয়াজাত মিশ্র খাদ্য, চিনির বিট, ক্যানোলা বীজ, ভুট্টাসহ ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শস্য।
তিনি আরো জানান, ৫৮৫টির মধ্যে ২০০টি তুর্কিয়ে-পতাকাযুক্ত, মালিকানাধীন বা চালিত জাহাজ। আর মোট জাহাজের মধ্যে ১৭১টি তাদের পণ্যসম্ভার তুরস্কের বন্দরে নিয়ে আসে। বিস্তারিত বর্ণনায় জানা গেছে, মোট কার্গোর ১৫ শতাংশ তুরস্কে, ১২ শতাংশ আফ্রিকায়, ২৯ শতাংশ এশিয়ায় এবং ৪৪ শতাংশ ইউরোপে সরবরাহ করা হয়েছে। কারাইসমাইলোগ্লু বলেন, সবচেয়ে বেশি পণ্য গেছে স্পেনে। এর পরিমাণ ২৯ লাখ টন। এর পরের স্থানে রয়েছে তুরস্ক ও চীন। সেখানে যথাক্রমে ২২ লাখ ও ২১ লাখ টন পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইউক্রেন থেকে সবধরনের খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় গত জুলাইয়ে তুরস্ক ও জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন ইস্তাম্বুলে শস্য রফতানি পুনরায় শুরু করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। বিষয়টি তত্ত্বাবধানের জন্য ইস্তাম্বুলে তিন দেশ এবং জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে শস্য বহনকারী প্রথম জাহাজটি ১ আগস্ট ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা হয়।





