ইউক্রেনে হামলার অভিযোগে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মস্কোর সাথে ইউরোপীয় দেশগুলোর বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে ওয়াশিংটন। অথচ নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ঠিকই রাশিয়া থেকে কিনে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো। গত ৮ নভেম্বর মস্কোতে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠক চলাকালে এসব কথা বলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দেড় বছরের বেশি সময় পরও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে ইউরেনিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তবে একই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে রাশিয়ান সব কিছু পরিত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলোকে দরিদ্র করে দিচ্ছে। তারা নিজেদের সামরিক শিল্পের উন্নয়নের জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের ধ্বংস করছে। তারা ইইউর দেশগুলোকে ব্যয়বহুল মার্কিন এলএনজি কিনতে বাধ্য করছে। রাশিয়া থেকে কোম্পানিগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তরে চাপ দিচ্ছে। তাদের এসব পদক্ষেপে বিশ্ব অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি ও খাদ্যের বাজারে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় দেশগুলো গত দেড় বছরে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
রাষ্ট্রদূতদের ল্যাভরভ বলেন, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অন্য রূপও এখন সামনে আসতে শুরু করেছে। অনেকগুলো দেশ এখন মার্কিন ডলার ও ইউরোকে পাশ কাটিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করছে। এসব দেশের তালিকায় আর্জেন্টিনা, মিশর, চীন, ভারত, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির অনেক দেশ রয়েছে। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল একটি মুদ্রা ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে যুক্ত হতে পারে ল্যাটিন আমেরিকার বেশির ভাগ দেশ। ফলে মুদ্রাটি সেখানকার স্থানীয় মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ব্রিকস ব্লকের দেশগুলোও এ ধরনের আলোচনা করছে। আবার গত মে মাসে, এপেকের সদস্য দেশগুলোর সরকার প্রধানরা স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ল্যাভরভ বলেন, উল্লিখিত দেশ ও সংস্থা ছাড়াও আরও অনেকে এখন ডি-ডলারাইজেশনের পথে হাঁটছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তারা ডলারকে পরিত্যাগ করার চিন্তাভাবনা করছে।





