ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস কঠোরভাবে গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অভ্যন্তরে চালানো তাদের ‘আল আকসা ফ্লাড’ অভিযান সমর্থন করে একটি বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে। ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রকাশিত এই বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইসরাইলের চরম অত্যাচার ও অপরাধের মোকাবেলায় আল আকসা ফ্লাড অভিযানকে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৬ পাতার এ বিবৃতির শিরোনাম ‘আওয়ার ন্যারেটিভ’ বা ‘আমাদের বয়ান’। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে চালানো ওই হামলার ব্যাপারে এই প্রথম লিখিত আকারে কিছু প্রকাশ করল হামাস। এতে আল-আকসা ফ্লাড নামে আকস্মিক ওই হামলার প্রেক্ষাপট ও গতি-প্রকৃতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে হামাস নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। হামাস বলেছে, এটি (হামলা) ছিল প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় স্বাভাবিক এক প্রতিক্রিয়া।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইসরাইলের সব ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় আল-আকসা তুফান অভিযান ছিল একটি জরুরি পদক্ষেপ ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ইসরাইলি দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি ছিল একটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
হামাস আরো বলেছে, ইসরাইল জর্দান নদীর পশ্চিমতীর ও জেরুসালেম শহরকে ইহুদীকরণ করে এবং সেখানে ব্যাপকভাবে ইহুদি বসতির বিস্তার ঘটিয়ে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিটি সম্ভাবনাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে আসছিল। এ অবস্থায় ওই অভিযানের কোনো বিকল্প ছিল না।
ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি পাশ্চাত্যের অকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতি ইঙ্গিত করে হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দখলদারিত্ব ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের যুদ্ধ ৭ অক্টোবর শুরু হয়নি বরং শুরু হয়েছে ১০৫ বছর আগে। ফিলিস্তিনিরা প্রথম ৩০ বছর যুদ্ধ করেছে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে এবং বাকি ৭৫ বছর জিহাদ করেছে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, হামাসের কাসসাম বিগ্রেডের সদস্যরা হামলার সময় বেসামরিক মানুষজনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চেয়েছিলেন। মূলত ধর্মীয় ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। হামাস আরো বলেছে, আল-আকসা ফ্লাড অভিযান চালানো হয়েছিল শুধু ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে; উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলি সেনাদের বন্দী করে ইসরাইলি কারাগারগুলোতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্ত করার ব্যবস্থা করা। তারপরও যেসব বেসামরিক নাগরিক ওই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন সেটি দুর্ঘটনাক্রমে হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানের দিন ইসরাইলের গোটা সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ইসরাইলি সেনারাই ফিলিস্তিনিদের অভিযান প্রতিহত করতে গিয়ে বহু ইসরাইলি নাগরিককে হত্যা করেছে। হামাসের হামলার সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই তাদের গুলিতে সেখানকার অনেকের মৃত্যু হয়েছে। হামাসের বিবৃতিতে তাদের হাতে আটক ইসরাইলি বন্দীদের মুক্ত করার একমাত্র উপায় হিসেবে অবিলম্বে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিহত আরো ১৭৮ ফিলিস্তিনি
এ দিকে গাজায় নির্বিচারে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। গত ৭ অক্টোবর থেকে চালানো বিরামহীন হামলায় এই পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নতুন করে আরো ১৭৮ জন নিহত ও ৩০০-এর কাছাকাছি আহত হয়েছে।
ইসরাইলি অপরাধের বিপরীতে আল আকসা ফ্লাড ছিল স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া : হামাস
৭ অক্টোবরের অভিযানের পক্ষে বিবৃতি
ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস কঠোরভাবে গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অভ্যন্তরে চালানো তাদের ‘আল আকসা ফ্লাড’ অভিযান সমর্থন করে একটি বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে। ইংরেজি ও...





