দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষে ইন্দোনেশিয়ায় সফরে গিয়েছেন মালয়েশিয়ার পিকেআর নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। সফরে তাকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী ও তার মেয়ে মাহারাণী। সুকর্ণো ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং মেঘবতীর বাবা।
আনোয়ার তার ইন্টাগ্রামে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার পুনর্নির্মাণের চেতনা নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনসহ অনেক বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সুকর্ণো ও জাতীয় পরিচয় সম্পর্কে তার প্রতিশ্রুতির বিষয়েও মত বিনিময় করেছি।’
আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়ের প্রথম মহিলা উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের নিয়োগকে মেগবতী স্বাগত জানান। ওয়ান আজিজার নিয়োগকে নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতির জন্য ইন্দোনেশিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ বলে মন্তব্য করেন মেঘবতী।
আনোয়ার বলেন, ‘সফরে আমি কয়েকজন পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করারও সুযোগ পেয়েছি, যারা আমাকে বিভিন্নভাবে সমর্থন করেছিল।’
দীর্ঘস্থায়ী কাঁধের ব্যথার কারণে আনোয়ার ইব্রাহিমকে গত ২৩ জুন থেকে ১০ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে কুয়ালালামপুরের হাসপাতালে আনোয়ার তার ডান কাঁধে অস্ত্রোপচার করেছিলেন। ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি তার ডান কাঁধে ক্রমাগত ব্যথায় ভুগতেছেন।
সাগরে সমন্বিত টহলে সম্মত ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন মালয়েশিয়া
রয়টার্স
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রসীমায় সমন্বিতভাবে টহল দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন। ওই অঞ্চলে জলদস্যুদের দ্বারা জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দেশ এ চুক্তি করে।
ফিলিপাইনের একটি দ্বীপ থেকে আবু সায়্যাফ গোষ্ঠী ওই এলাকায় জলদস্যুতা চালিয়ে আসছে। সোমালিয়ার মতো অবস্থা হওয়ার আগেই এই সমস্যা বন্ধ করতে সতর্ক করেছে ইন্দোনেশিয়া। এসব হামলার পর ফিলিপাইনগামী কয়লাবহনকারী জাহাজ চলাচলের অনুমতি বন্ধ রেখেছে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যকর্তা শহরে তিনি দেশের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মারসুদি বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিন্ন স্বার্থের সমুদ্রসীমায় সমন্বিত টহলের পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
৭ হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দেবে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া
পাচারকারীদের কবলে পড়ে সমুদ্রে ভাসমান প্রায় সাত হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে সাময়িক আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। ত্রিদেশীয় বৈঠকের পর আজ বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে থাইল্যান্ডও অংশ নিয়েছে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি মিয়ানমার।
বৈঠকে অংশ নেয়া তিনটি দেশই অভিবাসীদের সব রকম সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যাতে, আন্তর্জাতিক সহায়তায় আগামী একবছরের মধ্যে তারা অন্য কোন দেশে তাদের আবাস খুঁজে নিতে পারে।
নৌকায় ভাসতে থাকা মানুষদের অবস্থা নিয়েও দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে এই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে নৌকায় ভাসমান অভিবাসীদের মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। আজ এক বিবৃতিতে দেশটি এ কথা জানায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতোই ‘উদ্বিগ্ন’ এবং ‘সমুদ্রে ভাসমান মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা দানে প্রস্তুত।’
রোহিঙ্গাসহ কয়েক হাজার অভিবাসী মিয়ানমারের উপকূলে আটকে আছে বলে জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করে দেয়ার পর মিয়ানমারের এমন মন্তব্য পাওয়া গেল।
প্রধানত মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে এসব দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের সাথে অনেক বাংলাদেশীও মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন।





