গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিন তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে ঢুকে পড়ছে চীনের বিমানবাহিনী। এই অবস্থায় সমমনা গণতান্ত্রিক দেশের সহায়তা চাইছে তাইওয়ান।
তাইওয়ান সফররত ফ্রান্সের চার সিনেটর ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটকে বৃহস্পতিবার এই কথা জানান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন।
তাইওয়ান উপত্যকায় বিরাজমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় ফ্রান্সের সিনেটরদের ধন্যবাদ জানান ওয়েন। ফ্রান্সের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালা রিশার এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অবশ্য ফরাসি সিনেটের ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার সময় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সরাসরি চীনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করেননি। ফরাসি সিনেটর অ্যালা রিশারও তার বক্তব্যে চীনের সাথে তাইওয়ানের সামরিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করেননি। তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যাবট তাইওয়ানের গণতন্ত্রের প্রশংসা করে বলেন, ‘অবশ্য সবাই তাইওয়ানের উন্নতিতে খুশি নয়, এবং আমি জানি যে বড় প্রতিবেশী দ্বারা প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
তাইওয়ানের সাথে অনেক দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও ফ্রান্স কিংবা অস্ট্রেলিয়ার নেই।
গত মার্চ মাসে ফ্রান্সের কয়েকজন সাংসদের তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করার খবরে প্যারিসে চীনের দূতাবাস সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিল। তবে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়াভাবে জানিয়ে দিয়েছিল, ফরাসি সিনেটররা তাদের ইচ্ছামতো যে কারো সাথে দেখা করতে পারেন।
তাইওয়ানের আকাশে চীনের বিমান ঢুকে পড়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে কথা বলেছেন। এ বছরের মধ্যেই তারা ভার্চুয়ালি একটি শীর্ষ বৈঠক করবেন। তাইওয়ান ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে চীনের সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তাইওয়ানের কাছে চীনের পূর্বাঞ্চলের এক ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক জে-১৬ডি ফাইটার জেট জড়ো করা হয়েছে।
স্বশাসনে থাকা তাইওয়ানকে নিজের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। তারা মনে করে দরকার হলে বল প্রয়োগ করে তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। গতবছর প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স জোনে বিমান পাঠিয়েছিল চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পিএলএ।
সূত্র : ডয়চে ভেলে









