আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা মার্কিন সৈন্যদেরকে ইয়েমেনে মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেন প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক খবরে এই দাবি করা হয়।

প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা এক দল সৈন্যকে প্রথমে মানসুর হাদি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজধানী এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে তাদের প্রতিবেশী লাহিজ প্রদেশের আল-আনাদ বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পেন্টাগনের ঘোষণা অনুসারে আফগানিস্তান থেকে ৯৫ ভাগ সৈন্য প্রত্যাহারের পরই এমন খবর জানা গেলো।

২০১১ সালে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের বিক্ষোভের জেরে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের পতন ঘটে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি দায়িত্ব নেন। নতুন সরকার গঠন হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে।

বিবাদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৪ সালের শেষে ইরান সমর্থিত উত্তর ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বের জোট হাউছিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে আগ্রাসন করলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে আরব উপদ্বীপের দরিদ্রতম দেশটি।

ছয় বছরের বেশি সময় চলমান এই গৃহযুদ্ধে হাউছি নিয়ন্ত্রিত সানাকেন্দ্রীক উত্তর ইয়েমেন ও বন্দর নগরী এডেনকেন্দ্রীক দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের অধীন দক্ষিণ ইয়েমেনে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই বেসামরিক লোকজন। এছাড়া যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ।

ছয় বছরের টানা যুদ্ধ ও অবরোধে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেন। ইতোমধ্যে ক্ষুধায় ৫০ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতিকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট হিসেবে হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসঙ্ঘ।

সূত্র : পার্স টুডে ও প্রেস টিভি